ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে লাঠিয়ালবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

অক্টোবর ১৬, ২০২২, ০১:২৯ এএম

লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে লাঠিয়ালবাহিনী

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে আমি যখন ময়মনসিংহে রওনা দিলাম, গাজীপুর পার হওয়ার পর মনে হলো হরতাল চলছে নাকি কারফিউ চলছে। রাস্তায় কোনো গাড়ি নেই, ট্রাক নেই। কিছু ছোট ছোট ট্রাকে আমাদের কিছু নেতাকর্মী আসছে। এরপর শুনলাম মাঝখানে লাঠিসোটা নিয়ে নাকি ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা দাঁড়িয়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘তারপর যখন কাছে পৌঁছলাম দেখলাম সোনার ছেলেরা লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেছে। আমাদের ছেলেরা তাদের তাড়িয়ে দিয়েছে। শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আজকের সভা প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের মানুষ তারা কোনো বাধা মানবে না। তারা অবশ্যই এই দেশকে মুক্ত করে ছাড়বে।

গতকাল শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠে বিএনপির সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই এই সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে। একটি বিষয়ে আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, দলীয় সরকার থাকলে কোনো নির্বাচন কোনোদিন সুষ্ঠু হবে না। সেটা প্রমাণ হয়েছে।

গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ১৩৮০টি সিসি ক্যামেরা ছিল, পর্যাপ্ত নাকি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, পুলিশ-র্যাব পাহারায় ছিল, তারপর ওই নির্বাচন দুপুরের মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করতে হয়েছে। এ থেকেই প্রমাণ হয়, দলীয় সরকারের অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। সারা দেশে বিভাগীয় সমাবেশের ধারাবাহিকতায় গতকাল ময়মনসিংহ বিভাগে সমাবেশ করছে বিএনপি।

বেলা ২টার দিকে শুরু হওয়া সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম। সমাবেশে ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গত বুধবার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিভাগীয় সমেবশ শুরু করে বিএনপি। জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, দলীয় কর্মসূচিতে গুলি করে নেতাকর্মীদের হত্যার প্রতিবাদ, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিভাগীয় (দলের সাংগঠনিক বিভাগ) পর্যায়ে সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।

ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ চোরের দল, আমার কথা না। কথাটা আমার না। কথাটা ওদের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের। ১৯৭৪ সালে যখন আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের কারণে দুর্ভিক্ষ হলো, সেই দুর্ভিক্ষের সময় তিনি বললেন, আমার তো সব চোরের দল। কম্বলগুলো যে এলো বিদেশ থেকে, আমার কম্বল কোথায় গেল।

এই হচ্ছে আওয়ামী লীগ— তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। একটি তলাবিহীন ঝুড়িকে তিনি সম্ভাবনাময় রূপ দিয়েছিলেন। তিনি বিদেশে লোক পাঠিয়েছিলেন। তাদের রেমিট্যান্সের টাকাতেই দেশ চলে।

সমাবেশে ফখরুল বলেন, আজকে আমরা এখানে এসেছি আমাদের দেশকে আবার আমাদের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে। আমরা এসেছি এই যে চেয়ারটা খালি আছে। কার জন্য? দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য। তিনি আমাদের মধ্যে নেই। তিনি আমাদের দলের প্রধান। তিনি গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তাকে এখন মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে অন্ত্যরীণ করে রাখা হয়েছে। সে জন্য আমরা এই চেয়ারটা খালি রেখেছি আমাদের ময়মনসিংহ বিভাগীয় সম্মেলনে।

আপনাদের অনুরোধ জানাতে চাই, এই তরুণদের, আমাদের দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ, যাকে নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখি যে, তিনি আমাদের মুক্তির পথ দেখাচ্ছেন ও দেখাবেন, সেই আমাদের তরুণ নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে যদি ফিরিয়ে আনতে চাই, দেশনেত্রীর যদি মুক্তি চাই, আমাদের লাখ লাখ মানুষের মিথ্যা মামলা যদি প্রত্যাহার করতে চাই— তাহলে আপনাদের আমি অনুরোধ করব দয়া করে একটু বসেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পাঁচজন বীর সেনা ছাত্রদলের নূরে আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের আব্দুর রহিম, যুবদলের নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের শাওন, যশোরের আব্দুল আলিম তারা প্রাণ দিয়েছেন। রক্ত ঢেলে দিয়েছেন, পুলিশের গুলির সামনে বুকে পেতে দিয়ে আওয়াজ তুলেছে যে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হবে। আপনারা তাদের সম্মান দেখাতে চান, তাদের শ্রদ্ধা করতে চান, তাদের রক্তদানকে বৃথা যেতে দেবেন না বলে শপথ নিয়েছেন। ওই শপথে আজকে আমাদের অটুট থাকতে হবে। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপি চেয়ারপারসনে উপদেষ্টা মশিউর রহমান।

সমাবেশ ঠেকাতে লাঠি নিয়ে আ.লীগের মহড়া, অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট : ময়মনসিংহে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে শুক্রবার থেকে বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। কার্যত অচল হয়ে পড়ে ময়মনসিংহ নগরী। নগরী থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। তবে সিএনজিচালিত অটোরিশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরকিশা স্বল্প পরিসরে চলাচল করছে। সড়কে বাস চলাচল না করায় দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে মানুষজনকে। নগরীর শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ মোড় বাস টার্মিনাল, মাসকান্দা বাস টার্মিনাল, ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে। অনেকে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। আবার সড়কে লাঠি হাতে সরব ছিল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের লোকজন।

কোথাও লাঠি হাতে, কোথাও মিছিল নিয়ে সড়কে অবস্থান করেছেন তারা। এসময় গাড়ি তল্লাশি, গাড়ির চালককে মারধরসহ যাত্রীদের সাথে খারাপ আচরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএনপির সমাবেশে যাচ্ছে সন্দেহে গফরগাঁওয়ে শ্রমিককে কুপিয়ে জখমও করা হয়েছে। বিএনপির বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, বিএনপির ময়মনসিংহের সমাবেশে যাতে দলীয় নেতাকর্মীরা না আসতে পারে, সেজন্য অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট চলছে । সমাবেশ শুরুর আগে পথে পথে বাধা পেয়ে বিএনপি এ অভিযোগ তুলেন।

সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ময়মনসিংহের এ সমাবেশে জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ— এ চার জেলা থেকেও নেতাকর্মীরা আসার কথা। কিন্তু, সেসব জেলা থেকে ময়মনসিংহে আসার যে রুট, এসব রুটে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট চলছে। যাতে করে নেতাকর্মীরা সমাবেশে আসতে না পারেন। যেসব নেতাকর্মী ভোরে ময়মনসিংহ চলে এসেছেন, তারা কিছু পরিবহন পেয়েছেন। কিন্তু এখন আর কোনো যানবাহনই পাওয়া যাচ্ছে না। নেতাকর্মীরা কিছু পথ হেঁটে, আবার মোটরসাইকেল বা প্রাইভেটকারে করে ভেঙে ভেঙে সমাবেশে আসার চেষ্টা করেছেন। আবার আমাদের নেতাকর্মীরা ময়মনসিংহে আসার জন্য যেসব গাড়ি ভাড়া করেছেন, গতকাল হঠাৎ করেই সেসব গাড়িও আসবে না বলে জানিয়েছে।‍‍`

তিনি আরও বলেন, আমাদের যেসব নেতাকর্মী ময়মনসিংহে হোটেলে অবস্থান করছেন, গতকাল রাতেও সেসব হোটেলের সামনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মহড়া দিয়েছেন ভয়-ভীতি সৃষ্টির জন্য। প্রত্যন্ত গ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা টহল দিয়েছে। মূলত তারা ভয়-ভীতি সৃষ্টি করতেই এসব কাজ করেছে। ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক

মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা কোনো ধরনের ধর্মঘট করিনি। মালিক ও শ্রমিকরা মিলে এটি করছে।  আপনি নিজেও একজন পরিবহন মালিক, আপনি কেন বন্ধ করেছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি তো এক বা দুজন মালিক করেননি। সবাই মিলেই করেছে। আসলে চট্টগ্রামে যানবাহন ভাঙচুর হওয়ায় আতঙ্কিত হয়েই পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। এখানে আসলে আমাদের কারো কিছু করার নেই।

Link copied!