ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

নভেম্বর ১১, ২০২২, ০১:১৮ এএম

বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াচ্ছে সরকার

সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। আরও পাঁচটি প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে। সমুদ্রে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমীক্ষা শুরু করেছে।  বর্তমানে দেশে বায়ু থেকে মাত্র তিন (২.৯) মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্র বাংলাদেশের মোট ৭২৪ কি.মি দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চল। সেখানে দূষণমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বিগত ২০০৫ সালে ফেনীর সোনাগাজীতে মুহুরী নদীর বাঁধ এলাকায় বায়ুভিত্তিক দশমিক ৯ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করে। তার তিন বছর পর কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় এক মেগাওয়াট সক্ষমতার আরেকটি বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়।

তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তদারকি ও আগ্রহের অভাবে বর্তমানে দুটি কেন্দ্রেরই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস থেকে দেশের মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের ১০ শতাংশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। লক্ষ্যপূরণে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বর্তমানে নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোর মধ্যে কক্সবাজারের খুরুশকূলে নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের বৃহত্তম (৬০ মেগাওয়াট) বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প।

২০২৩ সালের মে থেকে জুন মাসের মধ্যে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। চলতি বছরের মার্চে ১১৬ দশমিক ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের এই বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হয়। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ১৮ বছর মেয়াদি পরিচালনা চুক্তির আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিক্রি করবে নির্মাণকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

সূত্র জানায়, বিপিডিবি সিরাজগঞ্জে দুই মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। ডিসেম্বরে সেটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের আরও  বেশ কয়েকটি বড় বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ ধারাবাহিকভাবে শুরু হচ্ছে। তার মধ্যে বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। চাঁদপুর সদরে ৫০ মেগাওয়াট ও ফেনীর সোনাগাজীতে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ঠিকাদার নির্বাচন পাইপলাইনে রয়েছে।

বাগেরহাটের মোংলায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মোংলা গ্রিন পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। চুক্তি স্বাক্ষরের দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন শুরুর কথা রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে ২০ বছর বিদ্যুৎ কিনবে পিডিবি। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যৌথভাবে নির্মাণ করবে চীনের ইনভিশন এনার্জি কোম্পানি লি., বাংলাদেশের এসকিউ ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লি. ও হংকংয়ের নিবন্ধিত কোম্পানি ইনভিশন রিনিউয়েবল এনার্জি বাংলাদেশ লি.। ওই তিন প্রতিষ্ঠান মিলে মোংলা গ্রিন পাওয়ার লিমিটেড গঠন করেছে। ওই কেন্দ্রে আড়াই মেগাওয়াট ক্ষমতার মোট ২২টি টারবাইন থাকবে।

সূত্র আরও জানায়, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প এলাকাতে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে টাওয়ার বসিয়ে ওই এলাকার বাতাসের গতিবিধি পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেছে। চীনে ওই ডাটা পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই শুরু করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ ওই ফিজিবিলিটি রিপোর্টের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকায় ৫০ মেগাওয়াটের বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য টারবাইন বসানোরও উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে বায়ুবিদ্যুৎ প্রসঙ্গে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেইন জানান, বর্তমানে দেশে বায়ুবিদ্যুতে ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিভিন্ন প্রকল্প নির্মাণাধীন ও পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। তার মধ্যে কক্সবাজারে দুটি ও মোংলায় একটি রয়েছে। তাছাড়া পরিকল্পনাধীন অবস্থায় পটুয়াখালী, চাঁদপুরের কচুয়াসহ বিভিন্ন এলাকা মিলিয়ে বায়ুবিদ্যুতের আরও পাঁচটি প্রকল্প পর্যায়ক্রমে নির্মাণ পরিকল্পনার মধ্যে আছে। সমুদ্রেও বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন করার জন্য ইতোমধ্যে বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে সম্ভাবনা যাচাই করতে জরিপ কাজ শুরু করা হয়েছে।

অন্যদিকে একই প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ চলমান আছে। তাছাড়া আরও পাঁচটি প্রকল্পের অধীনে ২৩০ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Link copied!