ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

রপ্তানিপণ্য চুরির হোতাসহ আটক ৪

মো. মাসুম বিল্লাহ

ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৩, ০২:৫৪ এএম

রপ্তানিপণ্য চুরির হোতাসহ আটক ৪

রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা উন্নতমানের গার্মেন্টস পণ্য চুরি চক্রের মূলহোতাসহ চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। রপ্তানি চালান হিসেবে গার্মেন্ট থেকে যখন পণ্যগুলো বের করা হয়, মাঝপথে কৌশলে চুরি করা হয় সেখান থেকে। প্রায় দেড় যুগ ধরে এভাবে শত কোটি টাকার পণ্য চুরি করেছে চক্রটি। ওই চক্রের মূলহোতা শাহেদ ওরফে সাঈদ ওরফে বদ্দা। চুরির টাকায় ২০ কোটি টাকা খরচ করে তিনি নির্মাণ করেছেন বাড়ি ও মাছের খামার। 

শাহেদকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‍্যাব। র‍্যাব জানায়, গাজীপুরের কারখানা থেকে কাভার্ড ভ্যানে পোশাকের একটি চালান ব্রাজিলে রপ্তানির উদ্দেশে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়। পরের দিন ৮৯৮ কার্টন ভর্তি সোয়েটার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। ক্রেতা-মনোনীত শিপিং প্রতিষ্ঠান এক লাখ ২৫ হাজার ডলারেরও বেশি মূল্যের চালানটি গ্রহণ করে ব্রাজিলে পাঠায়। সেই মোতাবেক বন্দর থেকে চালানবহনকারী জাহাজটি রওনা দেয়ার পরপরই ক্রেতা পুরো অর্থ পরিশোধ করেন। 

তবে গত ৬ জানুয়ারি ব্রাজিলের ক্রেতার কাছ থেকে পাওয়া একটি ভিডিও দেখে হতবাক হয়ে যায় গার্মেন্টস মালিকপক্ষ। সেখানে দেখা যায়। যে, কিছু কার্টুন সম্পূর্ণ খালি। অনেকগুলো কার্টন থেকে প্রচুর পরিমাণ পণ্য খোয়া গেছে। পরবর্তীতে চুরি হওয়া গার্মেন্টস পণ্যের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা হিসেবে পরিশোধ করতে হয়েছে মালিকপক্ষকে। এই ঘটনার পর গার্মেন্টের মালিকপক্ষ গত ২ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের গাছা থানায় চুরির ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এই অভিযোগের পর রহস্য উদ্ঘাটনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‍্যাব। চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারও করা হয়। 

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে র‍্যাব-৪ এর পৃথক পৃথক অভিযানে মৌলভীবাজার, গোপালগঞ্জ ও ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্রাজিলে রপ্তানিকৃত গার্মেন্ট পণ্য চুরিসহ দেশের অন্যান্য গার্মেন্টে পণ্য চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রের মূলহোতাও গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে বলে র‍্যাব দাবি করে। 

গ্রেপ্তাররা হলেন- মূলহোতা শাহেদ ওরফে সাঈদ ওরফে বদ্দা (৫২), মো. ইমারত হোসেন সজল (৩৭), শাহজাহান ওরফে রাসেল ওরফে আরিফ (৩০) ও মো. হৃদয় (২৮)। এ সময় উদ্ধার করা হয় ব্রাজিলে রপ্তানিকৃত চুরি যাওয়া পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান। 

গতকাল শনিবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। 

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার শাহেদ গার্মেন্টস পণ্য চুরির জগতের মাস্টারমাইন্ড, এই চক্রের মূলহোতা ও নির্দেশদাতা। মূলত তার ছত্রছায়ায় ও সম্মতিতে বাংলাদেশের প্রায় অধিকাংশ গার্মেন্টস পণ্য চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়ে থাকে। 

তিনি জানান, ৪০-৫০ জনের এই চক্রে রয়েছে অসাধু ড্রাইভার, হেলপার, গোডাউন মালিক, গোডাউন এলাকার আশ্রয়দাতা, অত্যন্ত দক্ষ কুলি সর্দারসহ একদল লেবার। প্রাথমিক পর্যায়ে তারা ট্রান্সপোর্টে গার্মেন্টের মালামাল বহন শুরু করে। একপর্যায়ে তারা গার্মেন্ট পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাভার্ড ভ্যানের ড্রাইভার ও হেলপারদের সাথে সখ্য গড়ে তোলে এবং অল্প সময়ে বেশি অর্থ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে গার্মেন্ট পণ্য চুরির কাজে উৎসাহিত করে। 

খন্দদার আল মঈন বলেন, প্রত্যেকটি চুরির আগে ড্রাইভারদের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানিকৃত গার্মেন্টস পণ্যের স্যাম্পল নিয়ে চোরাইকৃত পণ্যের সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করত চোরেরা। ব্রাজিলে রপ্তানিকৃত পণ্য চুরির ঘটনাও শাহেদের নির্দেশে সংঘটিত হয়। গত বছরের ২৯ অক্টোবর গাজীপুর থেকে গার্মেন্ট পণ্য কাভার্ড ভ্যানে লোড করে সন্ধ্যার সময় চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে। কাভার্ড ভ্যানে পণ্য লোডের পর গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ ড্রাইভার শাহজাহানের কাছে স্যাম্পল হিসেবে কিছু সোয়েটার দেয়। শাহজাহান স্যাম্পল পাওয়ার পরপরই ছবি তুলে মোবাইলের মাধ্যমে মূলহোতা শাহেদের কাছে পাঠায়। শাহেদ স্যাম্পল পেয়ে এই চুরির ঘটনা বাস্তবায়নকারী আসামি তাওহিদুল ওরফে কাওছার ওরফে বড় কাওছারের কাছে পাঠায়। পণ্যের গুণগত মান ও বাজারমূল্য বিবেচনা করে এই চালানটিতে চুরির নির্দেশ দেয়। 

৩০-৩৫ শতাংশ পণ্য সরানো হয়: 
গার্মেন্ট থেকে রপ্তানির জন্য পণ্য রওনা হওয়ার পর চক্রটি চুরির কাজ শুরু করে। যানবাহন থেকে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পণ্য সরিয়ে আবার প্যাকেজিংয়ের পর বন্দরের পাঠিয়ে দেয় তারা। ব্রাজিলের চালানটি চুরির সময় 'মাস্টারমাইন্ড' শাহেদের নির্দেশে ড্রাইভারের সঙ্গে যোগাযোগ করে চুরির মূল প্লট বাস্তবায়ন করে কাওছার। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাওছারের নির্দেশে ড্রাইভার ও হেলপার ২৯ অক্টোবর মধ্যরাতে ডেমরা থানাধীন মিরপাড়ায় আয়েশা প্যাকেজিং ভবনের গোডাউনে কাভার্ড ভ্যানটি পার্ক করে। সেখানে পণ্য চুরির ঘটনাটি ঘটায়। আগে থেকে আয়েশা প্যাকেজিং ভবনের গোডাউনে অপেক্ষারত কুলি সর্দার নাজিম, স্থানীয়ভাবে শেলটারদাতা মাসুম ওরফে মাসুদসহ অজ্ঞাত পাঁচ-সাতজন লেবার নিয়ে মূলহোতা কাওছার প্রত্যেকটি কার্টন থেকে ৩০-৩৫ শতাংশ পণ্য সরিয়ে পুনরায় প্যাকেজিং করে কাভার্ড ভ্যানটি বন্দরের উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয়। এই চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাওছার, নাজিম ও মাসুম ওরফে মাসুদকে রাজধানীর ডেমরা থেকে গত ২৪ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। অপর একটি গার্মেন্টের পণ্য চুরির ঘটনায় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের। বর্তমানে আসামিরা জেলহাজতে রয়েছে। 

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, গ্রেপ্তার শাহেদ চট্টগ্রামে থাকাকালে ১৯৯৬ সালে দুটি ট্রাক কিনে লোকাল ব্যবসা শুরু করে। ২০০৪ সালে ট্রাক দুটি বিক্রি করে চারটি কাভার্ড ভ্যান কিনে গার্মেন্ট পণ্য পরিবহন শুরু করে। সে কাভার্ড ভ্যানের ড্রাইভার এবং হেলপারদের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সহায়তায় গার্মেন্ট পণ্য চুরির কার্যক্রমের জন্য একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র তৈরি করে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত সে নিজেই সশরীরে উপস্থিত থেকে চুরির কার্যক্রম চালিয়ে যায়। শাহেদ ২০১৮ সাল পরবর্তী সময়ে পর্দার আড়ালে থেকে চুরির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ শুরু করে। প্রত্যেকটি চুরির ঘটনায় আয়কৃত অর্থের সর্বোচ্চ অংশ সে পেত। শাহেদ গত দেড় যুগের বেশি সময় ধরে এই গার্মেন্ট পণ্য চুরির জগতে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করছে। মৌলভীবাজার শহরে শাহেদের প্রায় ১৫-২০ কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি রয়েছে। মৌলভীবাজারের দুর্লভপুর প্রায় ২০ একর জমির ওপরে মাছের খামারসহ হাঁস মুরগির খামারও রয়েছে দুটি। 

বর্তমানে তার নিজস্ব চারটি কাভার্ড ভ্যানসহ চোর চক্রে মোট ১৫টি কাভার্ড ভ্যান রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৭-১৮টি গার্মেন্টস পণ্য চুরির মামলা রয়েছে এবং যার অধিকাংশ মামলায় সে কারাভোগ করেছে বলে জানা যায়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আদালতে ছয়টি মামলার বিচারকার্য চলমান রয়েছে।

Link copied!