ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

বিতর্কে নির্বাচনি কূটনীতি

আবদুর রহিম

মে ১৭, ২০২৩, ১১:২১ পিএম

বিতর্কে নির্বাচনি কূটনীতি

বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে পশ্চিমা বিতর্ক। চাপ অনুভব করছে বাংলাদেশ সরকার। এতদিন তৎপরতা পর্দার আড়ালে থাকলেও র্যাব কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা, গণতন্ত্র সম্মেলনে দাওয়াত না পাওয়া, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে জাপানের প্রশ্ন ও রাজনৈতিক ঐক্যে পশ্চিমাদের আহ্বান এবং সর্বশেষ কূটনৈতিক দেশগুলোর নিরাপত্তা প্রত্যাহারে সরকারের বক্তব্যের পর এখন তা দৃশ্যমান হয়ে পড়েছে। এবার সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য পশ্চিমারা প্রভাব খাটাতে চাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাধর আওয়ামী লীগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। 

সমপ্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর করেন। এ সফর নিয়ে গত সোমবার বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলন  তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশের ওপর যারা নিষেধাজ্ঞা দেবে তাদের কাছ থেকে কিছু কেনা হবে না। বাংলাদেশ কারো ওপর নির্ভরশীল নয়, স্যাংশনে ভয় নেই। তিনি জনগণের ভোটে বিশ্বাসী। জনগণ যদি ভোট দেয় তাহলে তিনি আবারও ক্ষমতায় আসবেন, না দিলে নয়। যারা আন্দোলন করছেন তাদেরকে নিয়ে সংলাপেও বসা হবে না, তবে যারা বর্তমানে সাংসদ রয়েছেন তাদের নিয়ে প্রয়োজনে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। এ ছাড়া একই দিন জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, সৌদি আরবসহ ছয় দেশের রাষ্ট্রদূতকে বাড়তি পুলিশি নিরাপত্তা দেয়া হবে না, পতাকা ব্যবহারেও থাকবে সতর্কতা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, এখন থেকে বিদেশি রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনাররা আর বাড়তি প্রটোকল সুবিধা পাবেন না। তবে কেউ নিতে চাইলে তিনি ভাড়া করতে পারবেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, বিদেশিরা ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে এমন অসম্ভব চিন্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনো করেন না। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় বসানোর মালিক দেশের জনগণ। তবে সরকার বিরোধীরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর করে শূন্য হাতে ফিরেছেন। এ জন্য তিনি বিশেষ দেশগুলোর ওপর ক্ষেপেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেন, নরওয়ে, জার্মানি, জাপানসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের দূতরা চলতি বছরের মধ্যভাগ থেকেই নির্বাচন কমিশন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। জানতে চাইছেন চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে। কখনো প্রকাশ্যে, কখনো গোপনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর বিদেশি কূটনীতিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে খবর নিজেরাই জানাচ্ছেন।

 বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপান ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য চাপ দিয়েছে। তারা ভোটের সময় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের কথা বলেছে, যেখানে আওয়ামী নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে। জাপানও বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত নভেম্বরে ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি ২০১৮ সালের নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এবার তারা সরকারকে একটি অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের আয়োজন করতে বলেছেন। বিরোধীদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন। যদিও এবার সরকারবিরোধী কোনো অংশই বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচনে যেতে রাজি নয়। তারা বলছেন সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে। এ জন্য তারা নির্বাচন কমিশনের কোনো ডাকেও সাড়া দেননি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনও বর্জন করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সামগ্রিক বিষয় নিয়ে বিশ্বের মুখোমুখি হয়ে ভালো ফলাফল পাননি বলেও বিরোধী শিবিরের দাবি। তারা বলছে, এ জন্য সরকার এখন পশ্চিমাদের ওপর ক্ষেপেছে। 

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল পূর্ববর্তী দুটি নির্বাচনে পশ্চিমাদের অবস্থানের কারণেই নয়, পশ্চিমা বাজার ও অর্থায়নের ওপর বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নির্ভরতার কারণেও আওয়ামী লীগ সরকার পশ্চিমাদের কাছ থেকে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আরও চাপের মুখে পড়ছে। ২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র্যাব এবং এর সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং ওই বছর গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ না জানালে সরকার চাপের মুখে পড়ে। ইতোমধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অভ্যন্তরীণ নানা কারণে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি চাপে রয়েছে। বাংলাদেশ আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে, যেখানে পশ্চিমা প্রভাব প্রবল। সৌদি আরবকে পেছনে ফেলে গত ২ প্রান্তিকে বাংলাদেশের শীর্ষ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী দেশে পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি পোশাকের ক্রেতা, বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগকারী এবং রোহিঙ্গাদের জন্য দাতা। বাংলাদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নও সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের পথই অনুসরণ করে। প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পোশাক খাতে রপ্তানি কমে গেলে বাংলাদেশ একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ এখন এমন এক রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছে যে সংকট অতীতের যেকোনো ধরনের সংকটের চেয়ে ভিন্ন ও গভীর। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনীতি আগামীতে কোন পথে যাবে সে বিষয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন আছে, উদ্বেগ আছে এবং আছে শঙ্কাও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তা কোনো নতুন বিষয় নয়, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ বারবার রাজনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৯১ সালে দেশে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পর দেশবাসী আশা করেছিল এ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে। কিন্তু ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়।  অর্থাৎ সঙ্কট সমাধানের সেই আশা পূরণ হয়নি। 
এমন দৃশ্য ও প্রেক্ষাপটে কথা বলছেন সরকারি দলের শীর্ষনেতারা। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিদেশিরা ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে এমন অসম্ভব চিন্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনো করেন না। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় বসানোর মালিক দেশের জনগণ। আমরা জনগণের শক্তিতে বিশ্বাসী। শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় আসতে চাই জনগণের ভোটে। জনগণ চাইলে আছি, না চাইলে নেই। এ মানসিকতা যার, তিনি বিদেশি বা দেশি ষড়যন্ত্রকারীদের ভয় পাবেন মনে করার কোনো কারণ নেই।’ বিএনপি  ঘন ঘন তাদের দুয়ারে ধরনা দিচ্ছেন। নালিশের পর নালিশ করছে, লবিস্ট নিয়োগ করছেন। আওয়ামী লীগের বা শেখ হাসিনার কোনো লবিস্ট নেই।’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমার সংবাদকে বলেন, ‘ক্ষমতা হারানোর ভয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমাদের প্রতি রাগান্বিত।’  তিনি বলেন, ‘উনি এত রেগেছেন কেন পশ্চিমাদের প্রতি! সম্ভবত নিরাপত্তা বোধ করছেন না। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে আছেন। শেখ হাসিনা খুব সুন্দর করে কথা বলেন। তিনি সবসময় ইনসাল্ট করে কথা বলেন। জাতিকে তিনি একটি ধারণা দিতে চান যে, এখানে বিকল্প কোনো নেতৃত্ব নেই। সম্প্রতি শেখ হাসিনা যে সফরটা করেছেন সে সম্পর্কে তিনি ধারণা দিতে চান যে, সফর সম্পূর্ণ সফল হয়েছে। কিন্তু আমরা যেটি জানতে পেরেছি— জাতীয় আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মাধ্যমে এ সফরের ফলাফল জিরো প্লাস।’ মহাসচিব ?বলেন, ‘উনি কেন এতদিন পর স্যাংশনের ওপর বিষোদগার করছেন? তিনি ভালো করে জানেন। যারা দেয় তারা কিসের ওপর স্যাংশন দেয়। কিছু দিন আগে রাশিয়ার জাহাজ স্যাংশনের কারণে ঢুকতে পারেনি, বাংলাদেশ ফেরত দিয়েছে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কি কেনে তা মোটামুটি আমরা সবাই জানি, বুঝতে পারি। তিনি সম্ভবত ইরিটেটেড হয়ে আছেন পশ্চিমাদের প্রতি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, সম্ভবত এবার বিদেশে গিয়ে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ঠিক উপযুক্ত সেই রকম প্রটোকল পাননি, সেটার একটা প্রতিবাদ বা প্রতিফল ও প্রতিশোধ হিসেবে আমরা এটি দেখতে পাচ্ছি।’ লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম আমার সংবাদকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুব সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। তিনি পৃথিবীর শক্তিশালী দেশগুলোকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। এটি অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য যদি তিনি এগুলো বলে টিকে থাকতে পারেন।’ সাবেক পররাষ্ট্রসচিব তৌহিদ হোসেন আমার সংবাদকে  বলেন, ‘পশ্চিমা শক্তি বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ এটি তাদের নীতি। গত দুটি নির্বাচন বিতর্কিত ছিল। অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে সরকারও পরোক্ষ চাপ অনুভব করছে। তিনি বলেন, ‘শাসক দল এই চাপের কাছে কতটা মাথা নত করবে সেটি সময়ই বলে দেবে।’
 

Link copied!