ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা

মহিউদ্দিন রাব্বানি

জুন ১৪, ২০২৩, ০৮:৩০ এএম

নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা

পরিবেশবান্ধব জ্বালানি দেশের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ
—মোহাম্মদ জমির
চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ রিনিউয়েবল এনার্জি সোসাইটি

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রযুক্তিতে পিছিয়ে দেশ
—অধ্যাপক ড. আমানত উল্লাহ খান
সাবেক পরিচালক, দুর্যোগ গবেষণা কেন্দ্র, ঢাবি
 

  • ২০৩০ সালে পাঁচগুণ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য
  • নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসও বিদ্যুৎ উৎপাদন

এর মধ্যে রয়েছে...

  • জলবিদ্যুৎ
  • কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎকেন্দ্র
  • বায়ুশক্তি
  • মুহুরী প্রজেক্ট
  • বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র
  • কুতুবদিয়া বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র
  • সৌরশক্তি

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে  প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বলতে আমরা বুঝি প্রকৃতিগতভাবেই যে শক্তি তৈরি হয়। আর এ উৎস অনন্ত। যেমন—  সূর্যের আলো, পানি, বায়ু, ভূগর্ভস্থ শক্তি ইত্যাদি। পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষায় এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা নবায়ণযোগ্য জ্বালানির দিকে নজর দিতে সরকারকে জোর দাবি জানিয়ে আসছেন। এদিকে সরকারও নানা উদ্যোগ আর একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে জ্বালানির চাহিদা ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে চলেছে। গড়ে প্রতি বছর ২.৩ ভাগ হারে জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে; এর মধ্যে ৮৬.৪ ভাগ আসে জীবাশ্ম থেকে আর বাকি ১৩.৬ ভাগ আসে অ-নবায়নযোগ্য উৎস থেকে।

জ্বালানি পরিবর্তন তিনটি কারণে ঘটছে : (১) জৈব জ্বালানির প্রাপ্যতা, পরবর্তী দশকগুলোতে ক্রমাগত নিঃশেষিত হওয়ার আশঙ্কা এবং সরবরাহ ও চাহিদার সমন্বয়ের অভাবে মূল্যের ওঠানামা; (২) জলবায়ু পরিবর্তন রোধকল্পে বৈশ্বিক ধোঁয়া নির্গমন কঠোরভাবে হ্রাস করার প্রয়োজনীয়তা এবং (৩) জ্বালানি নিরাপত্তা। বাংলাদেশে এখনও কার্যকরভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসম্পদের বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়নি। তবে ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার সম্পর্কিত জাতীয় নীতিমালা। নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্থে সৌর, বায়ু, বায়োগ্যাস, হাইড্রো, জিওথারমাল, টাইডল ওয়েব ইত্যাদি বোঝায়। 

প্রচলিত বায়োগ্যাস নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রাথমিক জ্বালানি উৎসগুলোর অন্যতম, যা ব্যবহূত প্রাথমিক জ্বালানির প্রায় ৩৫-৬০ ভাগ পূরণ করে থাকে। 

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্থাৎ সোলার জ্বালানি পরিবর্তন তিনটি কারণে ঘটছে : 

(১) জৈব জ্বালানির প্রাপ্যতা, পরবর্তী দশকগুলোতে ক্রমাগত নিঃশেষিত হওয়ার আশঙ্কা এবং সরবরাহ ও চাহিদার সমন্বয়ের অভাবে মূল্যের ওঠানামা; (২) জলবায়ু পরিবর্তন রোধকল্পে বৈশ্বিক ধোঁয়া নির্গমন কঠোরভাবে হ্রাস করার প্রয়োজনীয়তা এবং (৩) জ্বালানি নিরাপত্তা। বাংলাদেশে এখনও কার্যকরভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসম্পদের বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়নি। তবে ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার সম্পর্কিত জাতীয় নীতিমালা। নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্থে সৌর, বায়ু, বায়োগ্যাস, হাইড্রো, জিওথারমাল, টাইডল ওয়েব ইত্যাদি বোঝায়। 

প্রচলিত বায়োগ্যাস নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রাথমিক জ্বালানি উৎসগুলোর অন্যতম, যা ব্যবহূত প্রাথমিক জ্বালানির প্রায় ৩৫-৬০ ভাগ পূরণ করে থাকে। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্থাৎ সোলার ফটোভল্টিক, সোলার থারমাল পাওয়ার, বায়ুশক্তি, বায়োগ্যাস ইত্যাদির পরিমাণ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে হবে। বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের ক্ষমতা খুবই নগণ্য। যদিও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলকভাবে জৈব জ্বালানির খরচ অপেক্ষা অধিক। তা সত্ত্বেও আনুষঙ্গিক সমস্যা, অর্থাৎ পরিবেশের ক্ষতি, স্বাস্থ্য সমস্যা ও স্বল্প পরিচালনা খরচ বিবেচনা করলে এটি অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো এর দুষ্প্রাপ্যতা। প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, খনিজ তেল ইত্যাদি দ্রুত ফুরিয়ে আসছে; কিন্তু এ ধরনের জ্বালানি তৈরি হতে সময় নেয় কয়েক কোটি বছর। জীবাশ্ম জ্বালানি ফুরিয়ে গেলেও শেষ হবে না এর প্রয়োজন।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশে ক্রমেই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। বাংলাদেশে জ্বালানির মূল উৎস প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল ও কয়লা। পেট্রোবাংলার শেষ জরিপে জানা গেছে, দেশে গ্যাসের মজুতের পরিমাণ ২০.৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট, যার মধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে ১২.৪১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। অপরদিকে কয়লার মজুত রয়েছে তিন হাজার ৩০০ মিলিয়ন টন। জ্বালানি তেলের জন্য বাংলাদেশ পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ভবিষ্যতে জ্বালানির চাহিদা পূরণের জন্য নবায়নযোগ্য উৎসের কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে সৌরশক্তি থেকে উৎপন্ন বিদ্যুতের। এছাড়াও রয়েছে পানিবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, ধানের তুষ, ইক্ষুর ছোবড়া, বর্জ্য, শিল্পপ্রক্রিয়ার অব্যবহূত তাপ হতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইত্যাদি।

সৌরশক্তি বা সোলার পাওয়ার : সূর্যরশ্মির আলো ও তাপকে ব্যবহার করা হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ১৯৮০ সালের দিকে উদ্ভাবিত এ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সূর্যের তাপকে কনসেন্ট্রেটেড সোলার পাওয়ারে রূপান্তরিত করে পানিকে বাষ্প ও বাষ্প দিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কৌশল এখন অনেক জনপ্রিয়। দেশে বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৮০ হাজার সোলার হোম সিস্টেম বিক্রি হচ্ছে। সারা দেশে প্রায় ৩০ লাখ সোলার হোম সিস্টেম বিভিন্ন এনজিওর সাহায্যে ইনস্টল করা হয়েছে।

২০৩০ সালে পাঁচগুণ বাড়াতে উৎপাদন : ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন পাঁচগুণ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। এ খাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা পেতে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে উন্নত বিভিন্ন দেশ অনেক আগে থেকেই নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে বিনিয়োগ শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ খাতে জোর দেয়। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য খাত থেকে ৪১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. আমানত উল্লাহ খান বলেন, এখন পর্যন্ত সৌরশক্তিতে যে ধরনের টেকনোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট হয়েছে, তা এখনও অনেক কম। আমাদের দেশে যে ধরনের জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সৌরশক্তি থেকে তা এ মুহূর্তে আশা করা সম্ভব নয়। সে জন্যই হয়তো আমাদের অন্য সোর্সে যেতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ রিনিউয়েবল এনার্জি সোসাইটির (বিএসইএস) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জমির মনে করেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাওয়ার এখনই সময়। তিনি বলেন, আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। ২০০৯ সালের চার হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে এখন তা হয়েছে ২৬ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। সমস্যা হলো, আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা এলএনজি, জ্বালানি তেল, ডুয়েল ফুয়েল এবং কয়লার ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। আমরা রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও করছি। আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা দারুণ। তবে এখন পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে নজর দেয়ার সময় এসেছে। এটা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
 

Link copied!