ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

আইনি দুর্বলতার দায় পুলিশের

নুর মোহাম্মদ মিঠু

জুলাই ৩, ২০২৩, ১১:২৮ পিএম

আইনি দুর্বলতার দায় পুলিশের
  •  ছিনতাই মামলায় স্বল্পসময়ে সহজেই জামিন লাভ, কঠোর হচ্ছে আদালত 
  •  আইনের সংস্কার ও অপরাধীদের পুনর্বাসনের কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা  
  • সাধারণ ভুক্তভোগীদের অভিযোগে গড়িমসি, সহকর্মী কিংবা পদমর্যাদার ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কঠোর পুলিশ 

আইনি সীমাবদ্ধতা নির্মূল করার ক্ষমতা পুলিশের নেই
—ড. খ. মহিদ উদ্দিন, অতিঃ কমিশনার, ডিএমপি 

 আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যতদিন সমান দৃষ্টিতে আইন প্রয়োগের চর্চা না করবে ততদিন এসব অপরাধ চলবেই
—তৌহিদুল হক, সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ

কয়েক বছর আগের ঘটনা। অপু (ছদ্মনাম) নামের এক ব্যক্তি জানান, ঢাকার কোনো একটি জায়গায় ছিনতাইয়ের শিকার হন তার স্ত্রী। ছিনতাইকারী তার স্ত্রীর গলা থেকে সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখলেও কেউই এগিয়ে আসেনি। এছাড়া ঘটনাস্থলের আশপাশেও কয়েকজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন সেদিন। এ সময় দুজন শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল থেকে নেমে ওই ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশে দেয়। ওই ঘটনার সপ্তাহখানেক পর তার স্ত্রী সেই ছিনতাইকারীকে একই এলাকায় ফুরফুরে মেজাজে ঘুরে বেড়াতে দেখেন। যদিও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সবকিছুই এড়িয়ে যান। আইনের প্রতি প্রশ্ন রেখে অপু বলেন, হাতেনাতে ধরা পড়ার পরও কীভাবে একজন ছিনতাইকারী সহজেই জামিনে বের হয়। 

তবে আইনজীবীরা বলছেন, এসব মামলায় এবারই প্রথম আদালত কিছুটা কড়া অবস্থান নিয়েছেন। ঈদের আগেও বেশকিছু ছিনতাই মামলার আসামির জামিন আবেদন করেন আইনজীবীরা। কিন্তু আদালত জামিন দেননি। আগে ১৫-২০ দিনে জামিন হলেও এবারই প্রথম সিদ্ধান্ত হয়েছিল এত কম সময়ে জামিন হবে না। এছাড়া জামিনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। আইনজীবীরা বলছেন, জামিন না হওয়ায় সার্বিকভাবে ভালো হয়েছে এবং তারাও এ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছেন। জানতে চাইলে সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল হামিদ ভুঁইয়া গতকাল সোমবার আমার সংবাদকে বলেন, আইন সংশোধনের সুযোগ নেই। তবে আদালত এসব মামলায় এখন আগের চেয়ে অনেকটাই কঠোর অবস্থানে রয়েছে।    

এদিকে ছিনতাইকারীরা স্বল্প সময়ে জামিনে বের হয়ে পুনরায় ছিনতাইয়ে জড়ায়— খোদ পুলিশেরই এমন বক্তব্যের পরও অনেকেই পুলিশকেই দুষছেন। ছিনতাইয়ের ঘটনার পরই পুলিশের দিকে অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগীদের অনেকেই পুলিশকে দোষী করে বলছেন, পুলিশের সামনে কিংবা কাছাকাছিতেই সাধারণ মানুষ ছিনতাইয়ের শিকার হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশ নীরব থাকে। আবার অভিযোগ করার পরও ছিনতাইকারীদের ধরতে গড়িমসি করে। তবে সম্প্রতি রাজধানীতে ছিনতাইকারীর হাতে পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনার পর ১৪৫ জন ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশ। এ সংক্রান্তে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কমেন্ট্রিতে অনেকেই আইনের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেন। 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) ড. খ. মহিদ উদ্দিন গতকাল এ সংক্রান্তে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, আমাদের মনে রাখতে হবে ছিনতাইকারীদের আমরা যখন আইনের মাধ্যমে আদালতে দিয়ে থাকি তারা একটা সময় জামিন পেয়ে যায়। জামিন পেয়ে আবার সমাজের সঙ্গে মিশে যায়। এ সীমাবদ্ধতা নির্মূল করার ক্ষমতা আমাদের নেই। এগুলোও কিন্তু একটা বাস্তবতা। তিনি বলেন, আমাদের দেশ কিন্তু সিঙ্গাপুরের মতো নয় যে মহাসড়ক থেকে মহাসড়ক হয়ে বেরিয়ে যাবেন। এখানে কোথাও নদী, খাল, কালভার্ট আছে, কোথাও মহাসড়ক। অথচ পৃথিবীতে অনেক দেশে দুই কোটি লোকও নেই। সেই জায়গা থেকে আমাদের প্রচেষ্টা ছিল আমরা  কতগুলো অপরাধ নিবারণ করতে পারছি। এ ধরনের অপরাধের কিন্তু কোনো পরিসংখ্যান নেই। এ পরিসংখ্যান আমিও জানি না, কেউ জানতেও পারে না।

এদিকে ছিনতাইয়ের এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে রাজধানীতে। যেসব ঘটনায় তাৎক্ষণিক ছিনতাইকারীকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। আবার সময়ের ব্যবধানে তদন্তসাপেক্ষে আটক করতে পারলেও তা কেবল ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই থেকে চারজন। কিন্তু আরও শতশত, হাজার হাজার ছিনতাইকারী দিব্যি ঘুরে বেড়ালেও তাদের বিরুদ্ধে সচরাচর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায় না বলে জানান অনেকেই। সবশেষ পুলিশ কনস্টেবল নিহতের ঘটনায় ১৪৫ জন ছিনতাইকারী আটকের খবরে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। যাদের মধ্যে ভুক্তভোগীরাই বেশি। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক গতকাল আমার সংবাদকে বলেন, এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ অভিযোগ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্ব কম দেয়। দেখছি, দেখব বলে থাকেন। অন্যদিকে আমরা দেখেছি একজন মন্ত্রীর মোবাইল ছিনতাই হওয়ার পর খুব কম সময়ের মধ্যেই মোবাইলটি উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আর তাদের বাহিনীর কারো (সহকর্মী) সঙ্গে এ ধরনের অপরাধ সংগঠিত হলে তাদের মধ্যে যেমন সহমর্মিতা কাজ করে তেমনি তারা এটাও জানান দিতে চায় যে তাদের কাউকে আঘাত করলে আইনের আওতায় আনা হবে। 

তিনি বলেন, পুলিশকে সবার ক্ষেত্রে সমান ব্যবস্থাই নিতে হবে। পারিনি, পারছি না, এটা তাদের ব্যর্থতা এবং বৈষম্যমূলক আচরণ। পুলিশের এ ধরনের মানসিকতায় অপরাধীরা সাধারণ মানুষকেই টার্গেট করছে বেশি এবং পুলিশের এ মানসিকতায় অপরাধীদের উৎপাতও বেড়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসব মামলা সহজেই জামিনযোগ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলেই আটকিয়ে রাখতে পারে না। এছাড়া অপরাধীদের একটি সিন্ডিকেটও রয়েছে। তারা অর্থ ব্যয় করে তাদের জামিন করিয়ে নিচ্ছে। এক্ষেত্রে আইনের সংস্কার প্রয়োজন, যারা এসব অপরাধে জড়িত তাদের পুনর্বাসন দরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যতদিন সমান দৃষ্টিতে আইন প্রয়োগের চর্চা না করবে ততদিন পর্যন্ত এসব অপরাধ চলবেই। পুলিশ সদস্য নিহতের পর ১৪৫ জন গ্রেপ্তার না হলে তারা একই অপরাধ করে বেড়াত। এ ধরনের তৎপরতা সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও দেখানো উচিত। পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব হতে হলে সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে আইনের প্রয়োগ করতে হবে। অন্যথায় পুিলশ জনগণের বন্ধু— স্লোগানটির যথার্থতা হারিয়ে যাবে বলেও বলছেন তিনি।


 

Link copied!