ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে বিরোধ মাঠে-ঘাটে আলোচনা

যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি কী

সৈয়দ সাইফুল ইসলাম

অক্টোবর ৭, ২০২৩, ১১:৪৮ পিএম

যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি কী

সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে, এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই
—ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আওয়ামী লীগ 
 

সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচনের একাধিক উদাহরণ আমাদের সামনে রয়েছে
—ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, চেয়ারম্যান জানিপপ
 

আলোচনার মাধ্যমে নতুন পদ্ধতি বের করে নেয়া যায়
—বদিউল আলম মজুমদার, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

রাজনৈতিক মাঠ আর ঘরোয়া আড্ডায় আলোচনা একটিই, তা হচ্ছে— আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কি সংবিধানে উল্লিখিত নিয়মে নাকি নির্দলীয় সরকারের অধীনে হবে। দুই বিরোধীয় রাজনৈতিক পক্ষের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতাকর্মীরও প্রশ্ন ঠিক এই একটিই— ভোট হবে কোন পদ্ধতিতে। সাধারণ মানুষ ঠিক এই একই বিষয়ে নিয়ে জানতে আগ্রহী। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ভোট অনুষ্ঠানে বিএনপি ও তার রাজনৈতিক মিত্ররা রাজপথে সোচ্চার ভূমিকার মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীনরা বলছে— সংবিধানে দলীয় সরকারের অধীনেই ভোট আয়োজনের কথা বলা আছে, এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। 

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন নির্বাচনের যে সময় বাকি তাতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির এই বিরোধ নিরসনে যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য কোনো পদ্ধতিতে আসতে হবে, অতীতে এমন একাধিক নজির রয়েছে। 

গতকাল শনিবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত আওয়ামী লীগের সাধারণ  সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতি দিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশের সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একটি চিহ্নিত মহল অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতায় বসার স্বপ্নে বিভোর। তারা দেশের পবিত্র সংবিধান ও আইনের তোয়াক্কা করে না। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চাই, নির্বাচন সংবিধানের বিধান ছাড়া কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে? আপনাদের ক্ষমতায় বসানোর নিশ্চয়তায় কোনো পাতানো নির্বাচন? বেনিয়াদের কাছে দেশের স্বার্থ বিক্রি করে যেকোনো উপায়ে ক্ষমতা দখলের নির্বাচন? বাংলার মাটিতে জনগণ— তা আর কোনো দিন হতে দেবে না। বিএনপি সবসময় ভিন্ন উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে; জনগণের সঙ্গে প্রতারণার রাজনীতি করে। আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার করে তা বাস্তবায়ন করে। সে কারণে জনগণ বারবার আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত-সমৃদ্ধ শান্তি ও কল্যাণরাষ্ট্র বিনির্মাণ।

এদিকে সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো নির্বাচন করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। আমার সংবাদের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না এবং তারা এ জন্য রাজপথে সংগ্রাম করছে। এ অবস্থায় ভিন্ন কোনো পদ্ধতিতে বিরোধ নিরসন করা যায় কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংবিধানে নির্বাচন পদ্ধতি উল্লেখ করা আছে। এই সংবিধান স্থগিত বা বাতিল হয়নি, সুতরাং এই সংবিধানে উল্লিখিত বিধানের আলোকেই ভোট হবে। তিনি বলেন, সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। সেই আলোকে তারা নির্বাচন পরিচালনা করবে। তাদের কোনো প্রয়োজন থাকলে সেই চাওয়া সরকার পূরণ করবে। এখানে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির কিছুই করার নেই। নির্বাচনের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়া আছে সংবিধানে। 

সুতরাং এই সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো ভোট আয়োজনের সুযোগ নেই। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান ছিল, আদালতের রায়ের আলোকে সেই বিধান বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু ওই রায়ে তো আরও দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছিল, তা না করে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়া হয়েছে, এটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে করা হয়েছিল কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে এই প্রবীণ রাজনীতিক ও আইনজীবী বলেন, ওই সময়ের পূর্ণাঙ্গ জাজমেন্টে না দেখে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। 

এদিকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও কঠিন। গত শুক্রবার তার নির্বাচনি এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। নির্বাচন কার অধীনে কোন পদ্ধতিতে হবে? 

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে এই ইস্যুতে চলা বিরোধ নিরসনের কোনো সুযোগ রয়েছে কি-না এবং মাঝামাঝি কোনো পদ্ধতিতে আসার সুযোগ রয়েছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অবশ্যই আছে। তিনি বলেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি তো সংবিধানে ছিলই। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য এই সরকার সেটি বাতিল করেছে। যে রায়ের আলোকে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল, সেই রায়েই আরও দুবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু সেটি মানা হয়নি, এটি আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন। 

আমার সংবাদের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, একটি সংসদ আরেকটি সংসদের সিদ্ধান্তকে বাতিল করতে পারে না। এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, সেটি অন্তর্বর্তী সরকার হতে পারে অথবা বহুদলীয় সরকার হতে পারে। তা ছাড়া বিরোধীয় দুটি পক্ষ (আ.লীগ-বিএনপি) নিজেরা বসে আলোচনা করে যদি নতুন কোনো পদ্ধতি বের করে নেয় তবে সেটিই হবে কল্যাণকর। আর যদি এসব কিছু না হয় তাহলে পরিস্থিতি অবনতির দিকে যেতে পারে। 

সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচনের একাধিক উদাহরণ আমাদের সামনে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপত ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ। তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়েছিল, কিন্তু সেই নির্বাচন হয়নি, পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভোট হয়েছিল, সেই ভোট দলীয় সরকারের অধীনে হয়নি। 

এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই ভোটে নির্বাচিতরা ক্ষমতায় থাকতে পারেননি, কম সময়ের মধ্যে ১৯৯৬ সালের জুনে ফের নির্বাচন হয়েছে। এই দুটি উদাহণ আমাদের সামনে আছে, এখন যদি দলীয় সরকারের বাইরে গিয়ে নতুন কোনো পদ্ধতিতে ভোট হয় সেটি অবশ্যই নতুন কিছু এবং এই পদ্ধতি আমাদের জন্য পরবর্তীতে উদাহরণ হয়ে থাকবে।
 

Link copied!