মো. নাঈমুল হক
অক্টোবর ২০, ২০২৩, ১১:০৫ পিএম
সাল বিদ্যালয় সংখ্যা
২০১৮ -এক লাখ ৩৪ হাজার ১৪৭
২০১৯ -এক লাখ ২৯ হাজার ২৫৪
২০২০ -এক লাখ ৩৩ হাজার ২
২০২১ -এক লাখ ১৮ হাজার ৮৯১
২০২২ -এক লাখ ১৪ হাজার ৫৩৯
অভিভাবকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকে বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে সরে আসছেন
—ড. তারিক আহসান, অধ্যাপক, শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রাথমিক শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে। সে জন্য শিশুদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষায় অভিভাবকদের প্রথম পছন্দ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু বিগত পাঁচ বছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমেছে সাড়ে ১৯ হাজারেরও বেশি। প্রতিবছরই ধারাবাহিকভাবে এ সংখ্যা কমছে। সর্বশেষ দুই বছরে সবচেয়ে বেশি কমেছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমার কোনো কারণ জানা নেই অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের। অনেকটা দায়সারা বক্তব্য দিচ্ছেন তারা। এ ব্যাপারে শিক্ষাবিদরা বলছেন, করোনা মহামারি ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সরকারি বিদ্যালয়ের দিকে ছুটছে। সরকারের উচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মান বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেয়া।
সর্বশেষ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল এক লাখ ৩৩ হাজার দুটি। ২০২১ সালে করোনা মহামারি সময়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমেছে। এ সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমে হয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ৮৯১টি। অর্থাৎ এক বছরে কমেছে ১৪ হাজার ১১১টি প্রতিষ্ঠান। ২০২২ সালে কমেছে আরও চার হাজার ৩৫২টি। তবে ২০১৯ সাল থেকে ২০২০ সালে এ সংখ্যা বেড়েছে তিন হাজার ৭৬৪টি। যদিও ২০১৮ সালেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল। বিগত পাঁচ বছরে কমেছে ১৯ হাজার ৬০৪টি প্রতিষ্ঠান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমার বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক, সহকারী পরিচালকসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এ প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে। এ ব্যাপারে সঠিক কোনো ষ এরপর পৃষ্ঠা ২ কলাম ১
কারণ তারা জানাতে পারেননি।
বিদ্যালয় কেন কমছে— প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় শাখার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মাসুদ আক্তার খানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি আমার সংবাদকে তেমন কিছু জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমার কারণ তার জানা নেই। তিনি মাসখানেক আগে এ মন্ত্রণালয়ে যুক্ত হয়েছেন বলে জানান।
করোনা মহামারি ও অভিভাবকদের খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক আহসান আমার সংবাদকে বলেন, করোনা মহামারির কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যায়নি। আর অভিভাবকরাও বেতন দেননি। ফলে অর্থ সংকট সৃষ্টি হয়, আর এ কারণে বিপুল পরিমাণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাতে না পেরে বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া অনেকে করোনার ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মূল্যস্ফীতি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেক অভিভাবক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিকে ছুটছেন।
এ থেকে উত্তরণের উপায় জানিয়ে এ শিক্ষাবিদ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্ব সরকারের। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক। এ ক্ষেত্রে গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই সরকারি বিদ্যালয়ে পড়ে থাকে। শহরে এ সংখ্যা খুবই কম। আমাদের শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা খুব ভালো নয়। সে জন্য সরকারের উচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মান বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেয়া।