ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

জামায়াত সিগন্যালে বহু গুঞ্জন

আবদুর রহিম

আবদুর রহিম

অক্টোবর ২৫, ২০২৩, ১২:০১ এএম

জামায়াত সিগন্যালে বহু গুঞ্জন

১০ লক্ষাধিক লোক নিয়ে শাপলায় অবস্থান, ঢাকা দখলে মরিয়া   

  • বিএনপি, চরমোনাই ও খেলাফতকে সঙ্গে চায়, জামায়াতকে নয় 
  • এক দফায় বিজয় নিশ্চিত জেনে শান্তনীতিতে বিএনপি
  • বৃহৎ অবস্থান ও সাংবিধানিক কর্মসূচি, ঘেরাও পরিকল্পনা 
  • ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্পটে আ.লীগ নেতারা জামায়াতের নজরে  

আর মাত্র আড়াই মাস বাকি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে তফসিল এবং জানুয়ারির প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত হবে ভোট। ইসির সঙ্গে মাঠে সক্রিয় ক্ষমতাসীন দল। ২০১৪ ও ১৮ সালের মতো নির্বাচন বাস্তবায়নই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ। কূটনৈতিক চাপসহ বহু সংকটে পড়েও দুর্বল নীতিতে নেই দলটি। অতীতের মতো শক্তির মহড়ায় টিকে থাকার নীতিতেই রয়েছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ থেকে মহাযাত্রার ঘোষণা দিয়েও শান্তনীতিতে চলছে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এক দফার আন্দোলনে তাদের বিজয় প্রায় নিশ্চিত। এই সরকার আর ক্ষমতায় থাকবে না। কূটনৈতিক প্রেসক্রিপশনে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে। সংঘাতপূর্ণ কর্মসূচির মতো কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই। গত দেড় বছরের সিরিজ আন্দোলনে তাদের অন্তত ২২ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। প্রায় ৫০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এক লাখ ৪২ হাজার মামলা হয়েছে। এর মধ্যেই র্যাব নিষেধাজ্ঞা ও ভিসানীতি এসেছে। এগুলোকে তারা (বিএনপি) আন্দোলনের সফলতা হিসেবে দেখছে। 

এখন অন্য কোনো পরিস্থিতির মাধ্যমে দৃশ্যপট ভিন্নদিকে চলে যাক— তা কোনোভাবেই চায় না বিএনপি। 
এদিকে বিএনপির একসময়কার জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন-পূর্ব মুহূর্তে হঠাৎ রাজপথ দখলে নিতে মরিয়ে হয়ে উঠেছে। আগামী ২৮ তারিখ বিএনপির মহাসমাবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারাও মতিঝিল শাপলা চত্বরে একইদিন সমাবেশের ডাক দিয়েছে। যদিও দেশ-বিদেশের নানা সমালোচনার মধ্যে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর কৌশলে ভেঙে দেয়া হয় বিএনপি-জামায়াত জোট। এরপর ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আলাদা ব্যানারে যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি পালন করে দলটি। ওইদিন রাজধানীর মৌচাকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপি থেকে বিবৃতি না পেয়ে মান-অভিমানে জামায়াত আবারও এক দফার কর্মসূচি থেকে ছিটকে পড়ে। এ বছর আবারও সরকার পতন ও নির্বাচনি কৌশল হিসেবে রাজপথমুখী কর্মসূচিতে নিজদের অবস্থান জানান দেয়ার চেষ্টা করেছে দলটি।  

রাজনীতিতে চোখ রাখা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক কৌশলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বহু কিছু পর্দার আড়ালে হয়ে গেছে। এর অধিকাংশ বিষয়ের সঙ্গে জামায়াত যুক্ত ছিল না। এখন রহস্যাবৃত জামায়াতকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি রাজপথে নামিয়ে ফায়দা নিতে চাচ্ছে কি না— এটা নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিএনপি চরমোনাই, খেলাফত মজলিসের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে তাদের ছাত্র-যুব সমাবেশ, শ্রমিক সমাবেশ ইত্যাদি কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে। জামায়াতের বিকল্প হিসেবে বিএনপি তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়েছে বলে অনেকেই ধারণা করছেন। কিন্তু  বিএনপি যে জামায়াতকে মাঠে নামাবে, তা অনেকেই মনে করছেন না। এ পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দল কিংবা অন্য কারো ইশারায় যে জামায়াত মাঠে নামছে না, তা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। অনেকে আশঙ্কা করে বলছেন, বিএনপিসহ বিরোধীরা নির্বাচনকালীন সরকার গঠন নিয়ে পর্দার আড়ালে অনেক পথ এগিয়ে নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল এ সবকিছুতে আগ্রহী নয়। তারা জামায়াতকে মাঠে নামার সিগন্যাল দিয়ে পছন্দমতো কোনো পথ তৈরি করবে, তাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ ধারণা করছেন, বিএনপি যদি শেষ সময় এসে নির্বাচনে না যায়, তাহলে সরকার বিরোধী অবস্থানের বার্তা দিয়ে মাঠেও নামাতে পারে। 

সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে জামায়াতের শীর্ষ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগামী ২৮ তারিখের পর তারা আর সরকারকে সময় দিতে চান না তারা। বিএনপি যদি সত্যিকারভাবে সরকারের পতন চায়, তাহলে জামায়াত সর্বাত্মক শক্তি নিয়ে মাঠে থাকবে। আর বিএনপি যদি কোনো কারণে একাদশ সংসদ নির্বাচনের মতো কৌশল গ্রহণ করে, তাহলেও তারা এবার শর্বশক্তি দিয়ে সরকার পতন ও তত্ত্বাবধায়কের দাবি প্রতিষ্ঠা করবে। দলটি দাবি করছে, অতীতেও তাদের আন্দোলনে সরকার পতন ও তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠার ইতিহাস রয়েছে। এবার তারা চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামছে। সারা দেশ থেকে তারা ঢাকায় লোক নিয়ে আসার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। গত এক মাস থেকেই তারা ঢাকামুখী অবস্থানের জন্য নেতাকর্মীদের নিয়ে সিরিজ বৈঠক করছে। আগামী ২৮ অক্টোবর ঢাকায় তারা ১৫-২০ লাখ লোক জমায়েত করার চেষ্টায় রয়েছে। যে কোনো মূল্যে ঢাকায় অন্তত ১০-১২ লাখ লোক যাতে জড়ো করা যায়— এটা নিয়ে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সারা দেশ থেকে জামায়াত এবং শিবিরের সব নেতাই ঢাকায় আসছেন। এছাড়া দীর্ঘ সময় যারা নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ বৃদ্ধি করে ঢাকায় আনার জন্য মনোবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। 

তাদের টার্গেট হচ্ছে, শাপলা চত্বরে হেফাজতের বহু আলেমের রক্ত ঝরেছে। এই শাপলা চত্বর থেকেই এবার সরকার পতনের বার্তা দেয়া হবে। এখান থেকে তারা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে পদযাত্রা শুরু করবে। পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে বসেও যেতে পারে। তবে সবকিছু নির্ভর করবে সরকারের আচরণের ওপর। এজন্য তারা বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি মাথায় রাখছে।

ঢাকা শহরের মতিঝিল, পল্টন, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, শাহবাগ, ধানমন্ডি, মগবাজার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়— এসব এলাকায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কারা কর্মসূচিতে বাধা দিতে পারে, তাদের দিকে সূক্ষ্ম নজর রাখবে বলে শোনা যাচ্ছে। পুলিশের সঙ্গে কারা বাধা দিতে পারে, সামনের সারিতে এসে সংঘর্ষে জড়াতে পারে, তাদের আগে থেকেই নজরে রাখা হয়েছে। তাদের দাবি হচ্ছে সরকার পরিবর্তন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এ নিয়ে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করবে। তবে ক্ষমতাসীন দল যদি বাধা দিতে আসে, তাহলে তারা তার শক্ত জবাব দেবে। 
এ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আমরা অনেক দিন পর একটি মহাসমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি মতিঝিল শাপলা চত্বরে। এটি বাস্তবায়নের জন্য যত ধরনের প্রস্তুতি আছে, আমরা শেষ করেছি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে পারব বলে আসা করছি। পুলিশ প্রশাসনকে আমরা সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান করব। আসলে সরকার যে ধরনের হুমকি দিচ্ছে, তা অগণতান্ত্রিক। সভা-সমাবেশ সব দলের সাংগঠনিক অধিকার। আমরা বিশ্বাস করি সরকার কথা রাখবে। তারা যে বলে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না— এটি রক্ষা করবে। যদি সরকার আমাদের কর্মসূচি বিঘ্নিত করতে চায়, আমাদের অধিকার ব্যাহত করতে চায়, আমরা তখন পরিস্থিতির আলোকে সিদ্ধান্ত নেব। আমরা মনে করছি পুলিশ বাধা দেবে না, তারা এখন কোনো ধরনের অনৈতিক কাজে জড়াবে না। 
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন,  দীর্ঘ ১৭ বছর পর জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আবারও আগামী ২৮ অক্টোবর রাজধানীর শাপলা চত্বরে জামায়াতে ইসলামী সমাবেশ করতে যাচ্ছে। দেশ ও জাতির স্বার্থে সেদিন ওই ময়দানে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে আমরা নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি। পাড়া-মহল্লা থেকে দলে দলে ঢাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সমাবেশে যোগদান করতে হবে। আমরা রাজপথে নেমেছি, যে কোনো মূল্যে জনগণের দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ। 

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, নিজেদের সংবিধানস্বীকৃত অধিকার নিশ্চিত করতে  আগামী ২৮ অক্টোবর শাপলা চত্বরে রাজধানীবাসীকে নিয়ে দলে দলে যোগ দেব আমরা। সেদিন শাপলা চত্বর এই স্বৈরাচারী সরকারের অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার দুর্গ হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।
 

Link copied!