ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

পুলিশের চ্যালেঞ্জ ‘অগ্নিসন্ত্রাস’

মো. মাসুম বিল্লাহ

মো. মাসুম বিল্লাহ

নভেম্বর ৮, ২০২৩, ১২:২৬ এএম

পুলিশের চ্যালেঞ্জ ‘অগ্নিসন্ত্রাস’

নাশকতার ঘটনা মোকাবিলা করতে হলে পুলিশের পাশাপাশি জনসাধারণকেও সতর্ক থাকতে হবে
—শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাবি

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে আবারও অবরোধের ডাক দিয়েছে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে একদিন হরতাল ও তিন দিন অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। চলতি সপ্তাহে রবি ও সোমবার ফের অবরোধের ডাক দেয় রাজপথে থাকা সরকার বিরোধীরা। তবে গতকাল মঙ্গলবার এক দিনের বিরতি নেয় দলগুলো। এরপর তৃতীয় দফায় টানা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় বিএনপি। এর আগের দুই দফার হরতাল-অবরোধের সময় নজিরবিহীন নিরাপত্তার মাঝেও সারা দেশে ৩৪টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে শুধু রাজধানীতেই ১২ বাসে আগুন দেয়া হয়। কিন্তু অবরোধ শুরু হওয়ার আগেই গত শনিবার রাতে রাজধানীর পৃথক স্থানে পরপর চারটি বাসে আগুন দেয়া হয়। গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশে কাকরাইল ও বিজয়নগরে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের জের ধরে এক দিনের হরতালের ডাক দেয় বিএনপি।

গত রোববার ভোর থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচির প্রথম ধাপে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ১৯টি যানবাহনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার অবরোধের শেষ দিনে রাজধানীতে আরও সাতটি বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। প্রথম থেকেই অগ্নিসন্ত্রাস ও নাশকতা রুখতে নানা পদক্ষেপ নেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। কিন্তু পুলিশের নানামুখী পদক্ষেপেও বাসে আগুন দেয়া যেন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বিভিন্ন সময়ে মিছিল থেকে ছোড়া পেট্রোল বোমার পাশাপাশি যাত্রীবেশে বাসে আগুন দেয়ার ঘটনাও দিন দিন বাড়ছে। পুলিশের নজর এড়িয়ে এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন নগরবাসী। নাশকতা ও সহিংসতা প্রতিরোধে নজিরবিহীন নিরাপত্তার মাঝেও একের পর এক যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদেরও। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোর ৪টা থেকে সোমবার সকাল ১০টা (অবরোধের ৩০ ঘণ্টা) পর্যন্ত ১৮টি গাড়িতে আগুন দেয়ার সংবাদ আসে ফায়ার সার্ভিসের কাছে। এর মধ্যে ঢাকা সিটিতে ১০টি, ঢাকা বিভাগে চারটি, চট্টগ্রাম বিভাগে চারটি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৩টি বাস, দুটি ট্রাক, একটি প্রাইভেটকার, একটি সিএনজি, একটি লেগুনা পুড়ে যায়। এ ১৮টি অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণ করতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৩৬টি ইউনিট ও ২১৬ জন জনবল কাজ করে। প্রশ্ন উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সতর্কতার পরও এত গাড়িতে অগ্নিসংযোগ কীভাবে হচ্ছে?

ডিএমপির সূত্র বলছে, অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও দেশজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোসহ বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নাশকতা ও সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশের পাশাপাশি মাঠে আছে র?্যাব, বিজিবি ও বিপুল পরিমাণ আনসার। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে রাজধানীতে ১৯ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীসহ সারা দেশে পর্যাপ্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশমুখসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, চোরাগোপ্তা হামলা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি এসব ঘটনায় জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে পুলিশের টহল আরও জোরদারের কথা বলছেন তারা। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, নাশকতার ঘটনা মোকাবিলা করতে হলে পুলিশের পাশাপাশি জনসাধারণকেও সতর্ক থাকতে হবে। যেসব এলাকায় ঘটনা ঘটছে সেসব এলাকার লোকজন অ্যালার্ট থাকলে মোকাবিলা করা সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, এ মুহূর্তে তারা যে পরিমাণে টহল দিচ্ছে, টহল আরও বাড়াতে হবে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেষ্টায় কমতি নেই। তারপরও নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত নাশকতা ও বাসে আগুন দেয়ার বেশিরভাগ ঘটনা ঘটে রাতে। বিষয়টি মাথায় রেখে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি রাজধানীতে যে কোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে অপরাধীদের গ্রেপ্তার অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা যে কোনো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ যেন পেতে পারেন, এ লক্ষ্যে এবারই প্রথম রাতে উপ-পুলিশ কমিশনাররা (ডিসি) দায়িত্ব পালন করছেন।

পুলিশ সূত্রমতে, অবরোধকে কেন্দ্র করে রাজধানীবাসীর নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে নতুন পরিকল্পনা। নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে দিন ও রাতের রাজধানীকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। রাজধানীতে দিনে প্রায় ১১ হাজার পুলিশ সদস্য এবং রাতে প্রায় ৯ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। থানা পুলিশ, পুলিশ লাইনের সদস্য, ডিবিসহ ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে নিরাপত্তার এ ছক তৈরি করেছে ডিএমপি। ডিএমপি থেকে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নাশকতা, সহিংসতা ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা রোধ করতে গোয়েন্দা সদস্যদের উপস্থিতি এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) জানিয়েছে, কোনো ধরনের নাশকতা কিংবা সহিংসতার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় র?্যাবের স্পেশাল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স রিজার্ভ রাখা হয়েছে। নাশকতা ও সহিংসতা প্রতিরোধে র?্যাব ফোর্সেস সার্বক্ষণিক রাজধানীসহ দেশব্যাপী নিয়োজিত আছে। এ বিষয়ে সারা দেশে র?্যাবের সব ব্যাটালিয়নকে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি টহল জোরদারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, অবরোধকে কেন্দ্র করে কেউ যেন নাশকতা করতে না পারে, আমরা সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, আমরা যেটি দেখতে পাচ্ছি, চোরাগোপ্তা হামলাসহ যানবাহনে অগ্নিসংযোগ হচ্ছে। দেখা গেছে, যে স্থানটি নিরাপদ মনে হচ্ছে, সেখানে এসব বেশি হচ্ছে। একেবারে জাল ফেলে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা দেয়া পুলিশের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের তো সীমাবদ্ধতা আছে। তারপরও সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশ যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছে। তাদের শিফটিং ডিউটিও বাড়িয়েছে।

এদিকে চলমান অবরোধের মধ্যে যারা সহিংসতা ও নাশকতা করছে, যারা গাড়িতে আগুন দিচ্ছে, পেট্রোল বোমা মারছে, তাদের ধরিয়ে দিতে সম্প্রতি পুরস্কার ঘোষণা করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান। নাশকতাকারীকে যিনি ধরিয়ে দেবেন তাকে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হবে বলে জানান তিনি। ডিএমপি কমিশনার বলেন, বিভিন্ন স্থানে যারা গাড়িতে আগুন দিচ্ছে, পেট্রোল বোমা মারছে, সহিংসতা-নাশকতা করছে তাদের অনেককে আমরা হাতেনাতে ধরেছি। অনেককে স্থানীয়রা পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাকে নিরাপদ করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদা তৎপর রয়েছে। পুলিশ দিনরাত কাজ করছে। প্রত্যেক পেট্রোল পাম্পে রাতে একবার করে হলেও পুলিশ খোঁজ নিচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি, অবরোধ চলাকালে পুলিশের অ্যাক্টিভিটিজ কিন্তু দৃশ্যমান। পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ কাজ করছে। আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রমও অব্যাহত আছে। 

হাবিবুর রহমান বলেন, ঢাকা অনেক বড় শহর, অনেক মানুষের বসবাস এখানে। কিছু কিছু ঘটনা তো ঘটে যাচ্ছে। পুলিশ কিন্তু অনেক ঘটনা নিবৃত করেছে। অনেককে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে। হাতেনাতে অনেককে আটক করা হয়েছে।
 

Link copied!