ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

সিরিজ কর্মসূচিতে বিএনপি

আবদুর রহিম

নভেম্বর ২১, ২০২৩, ১২:১২ এএম

সিরিজ কর্মসূচিতে বিএনপি
  • হরতালের পর ষষ্ঠ দফায় ২২ ও ২৩ নভেম্বর অবরোধের ডাক
  • ২০১৮-এর লজ্জার ভরাডুবি থেকে শিক্ষা নিয়ে ভোটে না যেতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, চলবে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন
  • ২৮ অক্টোবর থেকে দুই শতাধিক বাসে আগুন দেয়া হয়েছে— জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। রিজভীর দাবি, ‘সরকারের এজেন্সি’ আগুন দিয়েছে
  • সারা দেশে ১৫ হাজারের বেশি নেতাকর্মী গ্রেপ্তার আতঙ্কে লাখ লাখ  ঘরছাড়া

নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে
—জয়নুল আবদিন ফারুক
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে ৪৮ ঘণ্টা হরতালের পর এক দিন বিরতি দিয়ে ফের অবরোধের ডাক দিয়েছে বিএনপি। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সরকারের পদত্যাগসহ নানা দাবিতে কাল বুধবার ভোর থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত ফের ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ ডাকা হয়। গতকাল সোমবার বিকেলে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে এই ঘোষণা দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ নিয়ে বিএনটি ষষ্ঠ দফায় অবরোধ ডাকল। প্রথম কর্মসূচিটি ছিল ৭২ ঘণ্টার। এরপর প্রতিটি কর্মসূচি দেয়া হয়েছে ৪৮ ঘণ্টার। 

দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে— বিএনপি অতীতে বহুবার নির্বাচন বয়কট করে শেষবেলায় আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও বয়কটের ঘোষণা দিয়ে শেষ মুহূর্তে অংশ নিয়েছিল দলটি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এবার অতীতের মতো ঘটনা ঘটবে না। এবার তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে না। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না। ২০১৮ সালের লজ্জার ভরাডুবির পর তারা শিক্ষা নেয়। দলটির এবার দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যত দিন সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি না মানবে ততদিন তাদের কর্মসূচি চলতেই থাকবে। সে পর্যন্ত তারা কিছু বিষয় দৃষ্টি রাখবে কারা লোভে পড়ে সরকারের ফাঁদে পা দেয়। কে কে সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে নির্বাচনে যায়। কিংবা জোট থেকেও কারা দ্বিমুখী আচরণ করতে পারে। এ বিষয়গুলো দেখে তারা সরকারকে ঠেকানোর জন্য যেমন কর্মসূচির নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন তেমনি কর্মকৌশল ঠিক করা হবে। 

বিএনপির আগামীর প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক আমার সংবাদকে বলেছেন, আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী বন-জঙ্গলে যারা রাত কাটাচ্ছে, তারা অনেকেই পরিবারের কাছে আসতে পারছে না। লাখ লাখ মামলা নিয়ে কঠিন জীবন যাপন করছেন। এ পরিস্থিতিতে এবং কর্মসূচিতে তারা আরও উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। আমাদের আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

গতকাল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে রিজভী বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণের নির্বাচন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণ, দলের সংগ্রামী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সব নেতা ও কর্মীর মুক্তি দাবিতে বুধ ও বৃহস্পতিবার ৪৮ ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে। বিএনপি ২২ ও ২৩ নভেম্বর অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করছে।’ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও জনগণকে এই কর্মসূচি সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব নেতাকর্মীকে অবরোধ কর্মসূচি সফল করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’ এ নিয়ে গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের দিন নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর এখন পর্যন্ত ২২টি কর্মদিবসের মধ্যে ১৯ দিনই হরতাল বা অবরোধের ডাক এলো। এর মধ্যে ২৯ অক্টোবর এবং ১৯ ও ২০ নভেম্বর হরতাল এবং বাকি ১৬ দিন অবরোধ কর্মসূচি ছিল। মধ্যে ৭, ১৪ ও ২১ নভেম্বর কেবল বিরতি রেখেছে বিএনপি।

এসব কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বা পিকেটিং সেভাবে চোখে পড়ছে না। তবে একাধিক দিন সকালে রিজভীর নেতৃত্বে ঝটিকা মিছিল হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলো অবশ্য মিছিল সমাবেশ করছে। তবে এসব কর্মসূচিতে বিশেষ করে বাসে চোরাগোপ্তা হামলা চলছে শুরু থেকেই। হরতাল বা অবরোধ-দু’ধরনের কর্মসূচিতে প্রায় প্রতিদিনই বাসে আগুন দেয়া হচ্ছে এখানে সেখানে। হরতালেই আগুনের ঘটনা বেশি। ফায়ার সার্ভিস গত ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০টির মতো বাসে আগুনের কথা জানিয়েছে। এসব ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপিকে দায়ী করা হলেও রিজভী দাবি করছেন, ‘সরকারের এজেন্সি’ দিয়ে এসব ঘটনা ঘটিয়ে তাদের দলের নেতাকর্মীদের বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিক ঘটনায় আগুন দেয়ার সময় হাতেনাতে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আটকের কথা জানিয়েছে। প্রকাশ করা হয়েছে বেশ কিছু ভিডিও।

গত ২৯ অক্টোবর থেকেই বিএনপির কর্মসূচিতে বাসে আগুন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাসটিতে আগুন দেয়া হয়েছে ৪৮ ঘণ্টা হরতালের দ্বিতীয় দিন সোমবার। ২৯ অক্টোবরের হরতাল চলাকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও অন্যান্য দাবিতে প্রথমে ডাকা হয় ৭২ ঘণ্টার অবরোধ। সোমবার বিরতি দিয়ে ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ফের ৫ ও ৬ নভেম্বর অবরোধ শেষে মঙ্গলবার ৭ নভেম্বর বিরতি দেয় বিএনপি। ১৯৭৫ সালের এই দিনটিতে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। সেই দিনটি বিএনপি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে। এই দিনটিকে এবার কোনো কর্মসূচি না দিলেও সেদিন অবরোধ রাখা হয়নি। এরপর ৮ ও ৯ নভেম্বর ফের একই কর্মসূচি দেয়া হয়।

শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির পর ফের ১২ ও ১৩ নভেম্বর অবরোধ ডাকে বিএনপির পাশাপাশি সমমনা দলগুলো। ১৪ নভেম্বর বিরতি দিয়ে আবার ১৫ ও ১৬ নভেম্বর ডাকা হয় অবরোধ। এই অবরোধ চলার মধ্যেই ৭ জানুয়ারি ভোট এবং ৩০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় জানিয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। এর প্রতিবাদে ১৭ ও ১৮ নভেম্বরের সাপ্তাহিক ছুটি শেষে দুই দিন হরতালের ঘোষণা দেয় বিরোধীরা। এই কর্মসূচি শেষে আবার মঙ্গলবার কর্মসূচি রাখেনি দলটি। বিএনপি হরতাল-অবরোধের কর্মসূচিতে ফিরে যাওয়ার পর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির কেন্দ্রীয় থেকে স্থানীয় পর্যায়ের বহু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অবরোধের পাশাপাশি চলছে গ্রেপ্তার অভিযান। 

মির্জা ফখরুল ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য মির্জা আব্বাস ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহজাহার ওমর, শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরওয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরউদ্দিন স্বপন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিলকিস জাহান শিরীন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। বিএনপির দাবি এই কয়দিনে সারা দেশে তাদের ১৫ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং এই অভিযান চলছেই। আতঙ্কে লাখ লাখ নেতাকর্মী ঘরছাড়া। এ অবস্থায় বিএনপির কেন্দ্রীয় থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের বেশির ভাগ নেতাই আছেন আত্মগোপনে। রিজভী নিজেও কর্মসূচি ঘোষণা করছেন অনলাইনে।
 

Link copied!