ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
মিত্রদের চাওয়া-পাওয়ায় ব্যাপক তফাত

ঝুলে আছে আসন সমঝোতা

সৈয়দ সাইফুল ইসলাম

ডিসেম্বর ১২, ২০২৩, ১০:১৩ এএম

ঝুলে আছে আসন সমঝোতা

আ.লীগের সঙ্গে আরও বৈঠক হবে 
—মুজিবুল হক চুন্নু

সমঝোতায় বিলম্বের কারণ আ.লীগই জানে 
—রাশেদ খান মেনন

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না চাইলে তিনি ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ পাবেন। ১৮ ডিসেম্বর প্রার্থীদের জন্য প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা। নির্বাচনের এই প্রক্রিয়াগুলো নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত। অন্যদিকে ভোটে অংশ নেয়া দলগুলো জোটভিত্তিক ভোট করার জন্য ইসিকে আগেই চিঠি দিয়ে রেখেছিল, কিন্তু দলগুলোর দফায় দফায় বৈঠক করেও নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় আসতে পারেনি। এখন যেসব দল ভোটে অংশ নিচ্ছে সেসব দলের মধ্যে অধিকাংশই সরাসরি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও মহাজোটের শরিক। এই জোটের বাইরেও যারা ভোটে অংশ নিচ্ছে তাদের নানা তৎপরতা ও কার্যক্রমে ইতোমধ্যে বিশ্লেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এরা কোনো না কোনোভাবো ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সখ্য রাখছে। এই দলগুলোও গোপনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতা চায়। বিশেষ করে ১২ দলীয় জোট থেকে আসা কল্যাণ পার্টি ও বিএনপি বহিষ্কৃত দুই নেতার নেতৃত্বে তৃণমূল বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক ধরনের সমঝোতার মধ্য দিয়েই ভোটে এসেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। 

তবে এই দুটি দলের মধ্যে কার সঙ্গে কি ধরনের সমঝোতা হবে বা হয়েছে তা কোনো পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।  এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বড় মিত্র হচ্ছে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোট শরিকরা। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটের মাঠে লড়াই করে বিজয়ী হওয়ার মতো অবস্থান ১৪ দলীয় জোট শরিক দলগুলোর মধ্যে কারোই নেই বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর সে কারণে আওয়ামী লীগ নিজ নিজ প্রতীকে ভোটের বিষয়ে বেশি আগ্রহী হলেও জোট শরিকরা সাহস করছেন না। এমনকী তারা জোট শরিকদের ছেড়ে দেয়া আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও মাঠে চান না, কারণ তারা নিশ্চিত যে— আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বা আওয়ামী লীগ নেতারা যারা নৌকা প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদেরও মাঠ থেকে সরিয়ে দেয়া দাবি করছে আওয়ামী লীগের কাছে।

অন্যদিকে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ক্ষমতাসীন দলের আরেক বড় মিত্র জাতীয় পার্টিও আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতা চায়। এক সময় ক্ষমতায় থাকা এই দলটি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে মিলেমিশে রাজনীতিতে অস্তিত্ব ধরে রেখেছে। এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৯ আসেন নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা দিলেও ওই প্রার্থীরা ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসার সাহস করছেন না। দলটিতে থাকা বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রীরা জাপার হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এই হেভিওয়েট প্রার্থীরাও ভোটের মাঠে নৌকা প্রতীকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আসতে চান না। আর এ কারণেই দলটির শীর্ষ নেতারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইতোমধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। কিন্তু দফায় দফায় বৈঠক হলেও তারা কোনো সমঝোতায় আসতে পারেননি।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নুর সঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় আমার সংবাদের এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি জানান, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আরও বৈঠক হবে। ইতোপূর্বে কয়েক দফা বৈঠক হলেও কেন সমঝোতা হলো না, তা জানতে চাইলে জাপা মহাসচিব বলেন, এ বিষয়ে আওয়ামী লীগই ভালো জানে। তিনি বলেন, আসন সমঝোতা নিয়ে আওয়ামী লীগ ঠিক কবে সিদ্ধান্ত জানাবে সেটি একমাত্র তারাই জানে। আমার সংবাদকে তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের বৈঠক শুধু আসন সমঝোতা নিয়ে হচ্ছে না, নির্বাচনটা কিভাবে সুন্দর করা যায় সে বিষয়েও কথা হয়েছে। আরও বৈঠক হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন ছাড়াও বিভিন্ন ইস্যুতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির আলোচনা হয়।  এদিকে ১৪ দলীয় জোট শরিক দলগুলোর নেতাদের বর্তমান সংসদে ১৪ জন এমপি নেই। বর্তমান সংসদে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির তিনটি, হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদের তিনটি, তরিকত ফেডারেশনের দুটি, জাতীয় পার্টির (জেপি) একটি আসন রয়েছে। এই দলগুলো এবারের নির্বাচনে তিন-চারগুণ বেশি আসন ছাড় চেয়েছে ক্ষমতাসীন দলের কাছে। 

কিন্তু ক্ষমতাসীন দল এবার আগের চেয়েও কম আসন দিতে চায়— এমনটিই দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ১৪ দলীয় জোটের অন্য দলগুলোর মধ্যে সাম্যবাদী দল, বাসদ, গণতান্ত্রিক পার্টিসহ বাকিরাও একাধিক আসন ছাড় চেয়েছে। ফলে দফায় দফায় বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। ১৪ দলীয় জোট শরিক ও বর্তমান সংসদ সদস্য, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাদেশ খান মেননের সঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় আমার সংবাদের এ প্রতিবেদকের কথা হয়, তার কাছে জানতে চাওয়া হয় দফায় দফায় বৈঠক হওয়ার পরও কেন এখনো সমঝোতায় হচ্ছে না? জবাবে তিনি জানান, এটি আওয়ামী লীগকে জিজ্ঞাসা করেন, সমঝোতা কেন বিলম্বিত হচ্ছে, তা আওয়ামী লীগই ভালো বলতে পারবে। 

তিনি এও জানান, এবারের নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগের কাছে সাতটি আসনে ছাড় চেয়েছে।  শরিকদের সঙ্গে চাওয়া-পাওয়ার বিরাট তফাৎ থাকায় সমঝোতা ঝুলে আছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কারণ, বিএনপি-জামায়াতসহ রাজপথে থাকা বিরোধী দলগুলো ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় আওয়ামী লীগ চেয়েছিল জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিকরা নিজ নিজ প্রতীকে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদে আসুক। কিন্তু এই দলগুলো নিজেদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখতে না পারায় অনেকেই নৌকা প্রতীকে ভোট করতে চান। এতে আওয়ামী লীগ কিছুটা অস্বস্তিতে পড়লেও জোট রক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে সমঝোতা নিয়ে দর কষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে।  
 

Link copied!