ডিসেম্বর ২৮, ২০২৩, ১২:৫০ এএম
- প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটি ৬০ দিন
- সমন্বয় চান প্রাথমিকের শিক্ষকরা
শিক্ষার্থীদের শেখানোর জন্য শিখন ঘণ্টা বেশি প্রয়োজন
—শাহ রেজওয়ান হায়াত
মহাপরিচালক, ডিপিই
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ছুটি বেশি থাকা প্রয়োজন
—মো. শাহ নেওয়াজ খান চন্দন
সহকারী অধ্যাপক, শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগ, জবি
২০২৪ সালের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ছুটির পঞ্জিকা প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি ৬০ দিনের। মাধ্যমিকের ৭৬ দিন। উচ্চ মাধ্যমিকের ছুটি ৭১ দিন। ছুটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ঈদুল ফিতরে সাত দিন ও ঈদুল আজহায় সাত দিন। অর্থাৎ দুই ঈদে মোট ১৪ দিন কম ছুটি পাবেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা। এ নিয়ে প্রাথমিকের শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ রয়েছে। যদিও কর্মকর্তারা বলেন, প্রাথমিকে শিক্ষার্থীদের শেখার ভিত। এ সময় তাদের শেখানোর জন্য বেশি শিখন ঘণ্টার প্রয়োজন। তবে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলেন, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বেশি চিত্তবিনোদন ও খেলাধুলায় থাকা প্রয়োজন। ফলে তাদের ছুটি বেশি থাকা প্রয়োজন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কলেজ বিভাগের প্রকাশিত ছুটির তালিকা ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি পর্যালোচনা করে জানা যায়, উচ্চ মাধ্যমিকে ঈদুল ফিতর, গ্রীষ্মকালীন অবকাশ, জাতীয় শিশু দিবস, স্বাধীনতা দিবস, ইস্টার সানডেসহ বেশ কয়েকটি সরকারি ছুটির সমন্বয়ে টানা ৩০ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি। নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিকে ছুটি ২৯ দিন। প্রাথমিকে ছুটি ২২ দিন। পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিকে দেয়া হয়েছে ১৪ দিন, প্রাথমিকে দেয়া হয়েছে সাত দিন। উচ্চ মাধ্যমিকে সাত দিন। এছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে মাধ্যমিকে সাত দিনের ছুটি রাখা হয়েছে। এতে প্রাথমিকের ছুটি পাঁচ দিন। তবে বছরের শেষে শীতকালীন ও বড়দিন উপলক্ষে সমান ছুটি ১১ দিনে থাকবে।
ছুটির তালিকা প্রকাশের পর থেকে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে প্রাথমিকের শিক্ষকরা বলেন, প্রাথমিকে ৬০ দিনের বাৎসরিক ছুটি। কিন্তু এ ৬০ দিনের মধ্যে সরকারি ছুটির কিছু কিছু দিন আমাদের অফিস করতে হয়। কারণ দিবসভিত্তিক যেসব ছুটি রয়েছে, সেসব দিনে আমাদের স্কুলে আসতে হয়। অন্যান্য ছুটির সময় প্রশিক্ষণ, খাতা দেখা ও সরকারি নানা কর্মসূচিতে কাজ করতে হয়। এছাড়া একই অভিভাবকের এক সন্তান মাধ্যমিকে পড়ে, আরেক সন্তান প্রাথমিকে পড়ে। এতে ছুটির ভিন্নতা হলে ওই অভিভাবককে সমস্যায় পড়তে হবে। আবার মাধ্যমিক সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। একই শিক্ষক প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ক্লাস নেন। তাহলে কি তারা মাধ্যমিক ছুটি দিয়ে প্রাথমিক খোলা রাখবে? অথচ বাচ্চাদের ক্ষেত্রেই বেশি ছুটি থাকার কথা। প্রাথমিকের শিক্ষকদের ছুটি বাড়ানোর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করেছেন শিক্ষকরা।
প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক মাহবুবুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, মাধ্যমিকে বার্ষিক ছুটি ৭৬ দিন রাখা হলেও প্রাথমিকে বার্ষিক ছুটি মাত্র ৬০ দিন রাখা হয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা উচ্চ বিদ্যালের ছুটি দেখলে হীনম্মন্যতায় ভোগে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে মিল রেখে প্রাথমিকের অভিন্ন ছুটির বর্ষপঞ্জিকা করা যেতো।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালক শাহ্ রেজওয়ান হায়াত গণমাধ্যমে বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমে বাৎসরিক ছুটি সর্বোচ্চ ৭৬ দিন রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এর বেশি ছুটি দেয়া যাবে না, কম রাখলে সমস্যা নেই। আমাদের শিক্ষার ভিত হচ্ছে প্রাথমিক। এ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে শেখাতে হয়। অনেক সময় হাতে কলমেও ধরিয়ে দিতে হয়। ফলে আমাদের শিখন ঘণ্টা বেশি প্রয়োজন।
প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বেশি ছুটির কথা জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহ নেওয়াজ খান চন্দন আমার সংবাদকে বলেন, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের চিত্তবিনোদন ও খেলাধুলার বেশি সুযোগ থাকা প্রয়োজন। এ বয়সে স্কুলের চাপ কম থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবেই মাধ্যমিকের তুলনায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের কম ছুটি থাকা ঠিক নয়। আমাদের দেশের অভিভাবকরা সাধারণত একই স্কুলে সন্তানদের পড়ান। ছুটিতে অনেকেই বেড়াতে যান। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের জন্য বাড়তি চাপ হবে।
