ডিসেম্বর ২৯, ২০২৩, ০৯:৫৩ এএম
- সংকট উত্তরণে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ
- সারা বছর এলপিজিতে ঠকেছেন ভোক্তা
- বিদ্যুতের ঘাটতি কমেছে ফিরছে স্বস্তি
- সোলার, বায়ু ও বর্জ্য বিদ্যুতে নজর
বহু ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে বিদায় নিচ্ছে ২০২৩ সাল। কয়েক ঘণ্টা পরই স্বাগত জানানো হবে নতুন বছর ২০২৪ সালকে। চলতি বছরের শুরু থেকে অস্থির ছিল জ্বালানি খাত। চাহিদা অনুযায়ী তেল, বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহে হিমশিম খেতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। কেমন ছিল বিদায়ী বছর, এখন চলছে তার হিসাব-নিকাশ। তবে হিসাব-নিকাশে দেখা যাচ্ছে খাত বিশেষে সরকারের কিছু পদক্ষেপ-অর্জনও রয়েছে। দেশে ডলার সংকট ও বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেল-গ্যাসের দামে অস্থিরতা থাকায় এর আগে সরকার কৃচ্ছ্রতা সাধনে মনোনিবেশ করে। গত বছর ১৮ জুলাই এক ঘোষণার মাধ্যমে এলাকা ভিত্তিক লোডশেডিং দেয়া শুরু করে। এর পর থেকে রাজধানীতে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ও মফস্বলে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হয়েছে। তবে চলতি বছর লোডশেডিংয়ের মাত্র কমে এসেছে। চলতি শীতে লোডশেডিং নেই বললেও চলে। বিদ্যুতের ঘাটতি কমে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।
এদিকে দেশে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে বছরজুড়ে খোলা বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করেছে সরকার। দাম বাড়তি থাকলেও ভর্তুকি দিয়েই খোলা বাজার থেকে মেটানো হয় চাহিদা। যদিও দেশে দফায় দফায় বাড়ে এলপিজির (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) দাম। চলতি বছর সাতবার বেড়েছে রান্না কাজে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই এলপিজি দাম। শুধু তাই নয়, টানা পাঁচ মাস বেড়েছে জরুরি এই পণ্যটি। বছরজুড়ে এলপিজির দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সরকার ঘোষিত দামে দেশের কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। গ্রাহকের এই অভিযোগ অতি পুরোনো হলেও সরকার-মন্ত্রণালয় কিংবা বিইআরসির মধ্যে নেই কোনো সমন্বয়। সংশ্লিষ্ট কমিশনে অভিযোগ করেও মিলছে না সুফল। রান্না কাজে ব্যবহূত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দামে বছরজুড়ে ঠকেছেন ভোক্তারা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসের শুরুতে বিশ্ব বাজারের সাথে সমন্বয় করে নতুন দাম নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু কোনোভাবেই বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বিইআরসি। এরই মধ্যে বেড়েই চলছে এলপিজির দাম।
দাম বেশি নেয়ার বিষয়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা পরস্পরকে দোষারোপ করছেন। কোম্পানিগুলো বলছে, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা ভোক্তাদের কাছে দাম বেশি নিচ্ছে। অন্যদিকে ডিলার ও আমদানিকারকরা বলছেন, আমরা সরকার নির্ধারিত দামে কিনতেই পারছি না। এদিকে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে সরকার নানা উদ্যেগ গ্রাহণ করেছে। নবায়ণযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ দিচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ ছাড়া সোলার, বায়ু ও বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সংশ্লিষষ্ট দপ্তর। সে হিসেবে সাগরে বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এটি দেশের বিদ্যুৎ খাতকে অন্যন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ডেনমার্কের অর্থায়নে প্রথমবারের মতো এই কেন্দ্রে উৎপাদন হবে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ফলে জ্বালানি আমদানির চাপ কিছুটা হলেও কমবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের দেশে বায়ুবিদ্যুৎ কতটা কার্যকরী সেটি ভেবে দেখা দরকার। এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণের ব্যাপারেও চিন্তা করা দরকার।
নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা উত্তর সিটির পর নতুন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রাহণ করেছে স্থানীয় সরকার। যা পিডিবির সাথে আলাপ আলোচনা চলছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভাতে ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)। কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কিনতে ২৫ বছরে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ২১ টাকা ১১ পয়সা হিসাবে সরকার চার হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয় করবে। এদিকে দেশের স্থল ভাগে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ২০২৪ সালের মধ্যে ৪৬টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছিল পেট্রোবাংলা। গ্যাসের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ায় এখন আগামী বছরের মধ্যে এই টার্গেট পূরণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি। ইতোমধ্যে ১৬টি কূপের উন্নয়ন প্রকল্প করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২৮টি করতে পারবে দেশীয় কোম্পানি বাপেক্স। বাকি কূপগুলোর কাজ বিদেশি কোম্পানিকে দিয়ে করানো হবে। বেসরকারি খাতে গ্যাস আমদানি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। পেট্রোবাংলা জানায়, দেশে এখন দিনে গ্যাসের চাহিদা ৪০০ কোটি ঘনফুট। সর্বোচ্চ সরবরাহ করা হয় ৩০০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে আসে ২২৫ থেকে ২৩০ কোটি ঘনফুট। আর বাকিটা এলএনজি আমদানি করে মেটানো হয়। ২০৩০ সালে দিনে গ্যাসের চাহিদা হবে ৫৬০ কোটি ঘনফুট। এর কতটা আমদানি করে মেটানো হবে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পেট্রোবাংলা।
