জানুয়ারি ৩, ২০২৪, ১১:৩৮ পিএম
- রেজিস্ট্রার নিয়োগে ৪০ লাখ টাকার দুর্নীতি
- ইউজিসি আইন ও আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন না মেনে নিয়োগ
- প্রো-ভিসিকে নিষ্ক্রিয় করে একক হাতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা
স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছি, সব অভিযোগের তদন্ত হোক
—ড. মো. আব্দুর রশিদ, উপাচার্য, আইএইউআমরা শুনেছি, দ্রুত এ ব্যাপারে তদন্ত করব
—ড. হাসিনা খান, সদস্য, ইউজিসি
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআইউ) উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা না মেনে নিয়োগ প্রদানসহ গাড়ির মেরামত ও ফার্নিচার-মালামাল ক্রয়ে কমিশন গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরকে নিষ্ক্রিয় করে এককভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কাজে স্বেচ্ছাচারমূলক আচরণ করছেন তিনি। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর এমন একগুচ্ছ অভিযোগের পর সম্প্রতি এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য ইউজিসির কাছে অভিযোগের কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। যদিও নিজের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগকে মিথ্যা বলেছেন তিনি। আনীত অভিযোগের তদন্তের চান বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য।
জানা যায়, দুর্নীতির দায়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যাহতিপ্রাপ্ত উপরেজিস্ট্রার কামরুল ইসলামকে ৪০ লাখ টাকায় বিনিময়ে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেন। ইউজিসির নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা না মেনে পিআরএলভুক্ত (পোস্ট রিটায়ারমেন্ট লিভ বা অবসর-পরবর্তী ছুটি) কর্মকর্তাকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকে চুক্তিভিত্তিক ও আরেকজনকে অর্থ ও পরিচালক পদে নিয়োগ দেন। নিজের বাসার কাজের মেয়েকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেখিয়ে অর্থ-আত্মসাৎ করেন। সরকারি বিধান না মেনে ভিসির গাড়ি মেরামত বাবদ ছয় লাখ টাকা ও ফার্নিচার-মালামাল ক্রয় বাবদ খরচ থেকে কমিশন নেন। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরকে সব কাজ থেকে অব্যাহতি দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া ১৬তম গ্রেডের চাকরিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অতিরিক্তি দায়িত্ব দিয়ে নবম গ্রেডের বেতন দেন।
অভিযোগের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আব্দুর রশিদ আমার সংবাদকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো আমি শুনেছি। তবে আমার কাছে এখনো কেউ এ ব্যাপারে তদন্ত করতে আসেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য আমি বিভিন্নভাবে কাজ করছি। আগের ভিসির অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কাজ করছি। এ কারণে এক শ্রেণি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় বা ছোট করতে চায়। আমার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা। শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে আমি কাজ করছি। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত হোক। রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা গ্রহণের ব্যাপারে তিনি বলেন, আপনারা রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে জানতে পারেন। তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবেই নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছে। আইন মেনেই সব কার্যক্রম চালানোর কথা জানান তিনি।
২৩ পৃষ্ঠার অভিযোগ পত্র ইউজিসি চেয়ারম্যান বরাবর পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। এ ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। তদন্তের ব্যাপারে ইউজিসির সদস্য (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়) হাসিনা খান আমার সংবাদকে বলেন, ‘‘ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা আমরা শুনেছি। আমরা যেকোনো অভিযোগ পেলে স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করি। আমাদের কাছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বরতদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগগুলো এখনো দেখা হয়নি। পর্যায়ক্রমে আমরা এ ব্যাপারেও তদন্ত করবো।
