জানুয়ারি ১৩, ২০২৪, ০১:০১ এএম
- নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি চান অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
- আসন ফাঁকাসহ একগুচ্ছ অভিযোগ শিক্ষকদের
- উপাচার্যদের রাজি করাতে বৈঠক ডেকেছে ইউজিসি
একক ভর্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হলে গুচ্ছ পদ্ধতি বহাল রাখতে হবে
—ড. হাসিনা খান
সদস্য, ইউজিসি১৪ তারিখে বৈঠকের পর গুচ্ছের ভবিষ্যতের ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে
—ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
উপাচার্য, শাবিপ্রবি
২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম গ্রহণের উদ্দেশে গুচ্ছভুক্ত নয় এমন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। অথচ গুচ্ছভুক্ত ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় এখনো নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। গুচ্ছ চান না অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। গুচ্ছপদ্ধতি থেকে বেরিয়ে যেতে চান তারা। গুচ্ছের তিন বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতায় বিরক্ত তারা। মাইগ্রেশন জটিলতা, শিক্ষাক্রমে বাড়তি সময়, আসন ফাঁকা, মানসম্মত শিক্ষার্থী না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে শিক্ষকমণ্ডলীর। তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গুচ্ছপদ্ধতি টিকিয়ে রাখতে চাচ্ছে। তাই গুচ্ছের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাল উপাচার্যদের সঙ্গে বসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ এ সংস্থা।
ইউজিসি বলছে, আগামী বছর একক ভর্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। তাই গুচ্ছপদ্ধতি বহাল রাখতে হবে। জানা যায়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি লাঘবের উদ্দেশে ২০২০-২১ সেশনে প্রথমবারের মতো ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এরপর আরো দুটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে ৯টি সাধারণ ও ১৩টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ইতোমধ্যেই কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছপদ্ধতিতে অংশ না নেয়ার এবং নিজস্ব একক ভর্তিপরীক্ষা আয়োজনের পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়েছে। এদের মধ্যে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষক
সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভর্তিপরীক্ষা পদ্ধতিতে ফিরে আসার বিষয়ে বিবৃতিও প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটিসহ আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গুচ্ছে না থাকার ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত আগে থেকেই চূড়ান্ত যে, একক ভর্তিপরীক্ষা না হলে আমরা গুচ্ছপদ্ধতিতে যাব না। আমাদের শিক্ষকরা সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিছু দিন আগেও চিঠি দিয়ে সেটি ইউজিসিকে জানানো হয়েছে। যেহেতু সব বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে এবার একক ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে না, সে কারণে এই শিক্ষাবর্ষে আমরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একক ভর্তিপরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি। গুচ্ছে থাকার আর কোনো সুযোগ নেই।’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২ সালের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দি বলেন, ‘উপাচার্য পরিষদের সিদ্ধান্ত এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায়ে আমরা গুচ্ছপদ্ধতিতে রয়েছি। তবে গুচ্ছপদ্ধতির ফলে আমার পরিসংখ্যান বিভাগে ৫০টি আসন থাকলেও সেখানে বর্তমান প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে ৪৬ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যেও মাত্র ৩২ জন শিক্ষার্থী কন্টিনিউ করছি। যেটি সরকারের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিভাগের জন্য দীর্ঘমেয়াদি একটি ক্ষতির কারণ। এ ছাড়াও এই প্রক্রিয়ায় আমরা আগের তুলনায় তেমন ভালো শিক্ষার্থী পাচ্ছি বলে মনে হয় না। পাশাপাশি এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হওয়ায় এতে শিক্ষার্থীদের ড্রপ দেয়ার প্রবণতাও আমরা দেখতে পাচ্ছি। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের মঙ্গলের জন্য এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে আমাদের পুনরায় ভাবা উচিত।’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা এ ব্যাপারে কথা বলতে চাননি। গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈঠকের পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার কথা জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিম।
একই কথা জানিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গুচ্ছে কারা থাকবে, কারা থাকবে না— এ ব্যাপারে এখনো বৈঠক হয়নি। আগামী ১৪ জানুয়ারি বৈঠক হবে। তখন বিস্তারিত জানা যাবে। গুচ্ছ ও একক ভর্তিপরীক্ষা বাস্তবায়নের কথা জানিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকা (ইউজিসি) সদস্য ড. হাসিনা খান আমার সংবাদকে বলেন, গুচ্ছ থাকলে অনেক দিক থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সুবিধা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দৌড়াদৌড়ি ও ভোগান্তি পোহাতে হয় না। আগামীতে আমরা একক ভর্তিপরীক্ষায় যেতে চাই। গুচ্ছ ভেঙে গেলে সেটি কঠিন হবে। গুচ্ছে থাকার ব্যাপারে মিটিংয়ে সবাইকে বোঝাবো। গুচ্ছে মাইগ্রেশন সমস্যাসহ কিছু সমস্যা আছে। ওই সমস্যাগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া নিয়েও আলাপ হবে।
গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো— জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
