ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শিশু পার্ক

পাঁচ বছরেও শুরু হয়নি কাজ

আব্দুল কাইয়ুম

আব্দুল কাইয়ুম

মার্চ ৫, ২০২৪, ১২:১৩ এএম

পাঁচ বছরেও শুরু হয়নি কাজ

 

  •          মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে আটকে আছে
  •          ২০১৯ সাল থেকে বন্ধ পার্কটি
  •          অপেক্ষা করতে হবে আরও তিন বছর
  •          বদলে যাবে জিয়া শিশুপার্কের নাম
  •          শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে বিনোদন থেকে
  •         পার্কের কাজের কোনো অগ্রগতি নেই

শিশুপার্ক অভ্যন্তরে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ শেষ করে জমি

হস্তান্তর করলে কাজ শুরু করব

—আনিছুর রহমান, যান্ত্রিক প্রকৌশলী, ডিএসসিসি

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে রাজধানীর রমনার (শাহবাগ সংলগ্ন) শিশুপার্কটি বন্ধ ঘোষণা করে। তৃতীয় পর্যায়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এই শিশুপার্কের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের সার্বিক বিষয় ও দুর্ঘটনা থেকে মানুষকে নিরাপদ রাখতে মূলত কেন্দ্রীয় শিশুপার্ক সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হয়। খুব দ্রুত কাজ শেষ করার কথা থাকলেও পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন শুরু হয়নি। পার্কটি চালু হতে আরও দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে বলে জানায় ডিএসসিসি। অর্থাৎ ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে শিশুদের জন্য একমাত্র বিনোদন কেন্দ্রটি চালু হতে আরও অপেক্ষা করতে হবে। তা ছাড়া পার্কটি শহীদ জিয়া শিশুপার্ক নাম পরিবর্তন হয়ে হোসের শহীদ সোহরাওয়ার্দী শিশুপার্ক নামে চালু হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানান, শিশুপার্ক এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক শিশুপার্কের স্থানের মাঝামাঝি ভূগর্ভস্থ গাড়ি পার্কিং নির্মাণ, ভূগর্ভস্থ জলাধারা, ভূগর্ভস্থ আন্ডারপাস, হাঁটার পথ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওই কাজ সম্পাদন শেষে শিশুপার্কের স্থান ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়ার পর ডিএসসিসির অনুমোদিত প্রকল্পের কাজ শুরু করবে। যার কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। এর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর পূর্ত ও খেলনা আইটেমসমূহের কাজ, নকশা, প্রাক্কলন প্রস্তুত কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত হওয়ার পর দরপত্র আহ্বান পূর্বক ঠিকাদার নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করা হবে। তবে প্রকল্পের সময়সীমা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানায় ডিএসসিসি।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শিশুপার্ক আধুনিকীরণের প্রকল্পটি বাস্তবায়নে করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ব্যয় ধরেছে ৬০৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয়ের ৪৮৩ কোটি চার লাখ ৮২ হাজার টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১২০ কোটি ৭৬ লাখ ২০ হাজার টাকা জোগানের মাধ্যমে কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশ দিচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। বাকি ৮০ শতাংশ সরকার ঋণ হিসাবে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পুরো অর্থই অনুদান হিসেবে চাওয়া হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সেটি না করে ৪০ শতাংশ ঋণ এবং বাকি ৪০ শতাংশ অনুদান হিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে এলাকাটি জাতীয় হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশুপার্কের কাজ শেষ হতে আরও তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে। কারণ তাদের কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। কোলাহলযুক্ত ঢাকাতে শিশুদের বিনোদনের জন্য রাজধানীর শাহবাগের শিশুপার্কটি ছিল অন্যতম বিনোদনের মাধ্যম। যা পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। তা ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এটিই হলো একমাত্র শিশুপার্ক অথচ পার্কটিই রয়েছে বন্ধ। এতে করে শিশুরা বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের মেধা বিকাশে বিনোদনের গুরুত্ব অপরিসীম।

সরেজমিন দেখা যায়, শিশুপার্কের ১৫ একর জায়গার কিছু অংশে ভূগর্ভস্থ পার্কিংয়ের কাজ শেষ করা হয়েছে। পার্কের যেসব স্থানে পুরোনো রাইড ছিল সেগুলোর কিছু সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পুরো জায়গার চারপাশে টিন দিয়ে সীমানাপ্রাচীর তৈরি করা হয়েছে। তবে পার্কের কাজের তেমন কোনো অগ্রততি নেই। অনেকে না জানার কারণে শিশুপার্কে এসে ফিরে যাচ্ছেন। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের অধীন ১৫ একর জমিতে শিশুপার্কটি স্থাপন করা হয়। পরে পার্কটি পরিচালনার জন্য ১৯৮৩ সালে তৎকালীন ঢাকা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভূগর্ভস্থ পার্কিংয়ের দুই পাশেই শিশুপার্কের বিভিন্ন রাইড বসানো হবে। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের জন্য ভূগর্ভস্থ পার্কিং হয়ে একটি পথ থাকবে। ওই পথ হয়ে দর্শনার্থীরা দুই অংশে যাতায়াত করতে পারবে। নতুন করে শিশুপার্ক নির্মাণের সময় এই পার্কিংয়ের দুই পাশে রাইডগুলো বসানো হবে। শিশুপার্ক নির্মাণের জন্য শাহবাগ থানাটিও সরানো হবে বলে জানান তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন শহবাগ কেন্দ্রীয় শিশুপার্কটি নগরবাসীসহ শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য আধুনিক যুগোপযোগী ১৫টি নতুন রাইডস স্থাপন করা হবে। যেখানে আগে ১১টি রাইড বা খেলনা বিদ্যমান ছিল। নতুন করে স্থাপন করা রাইউগুলো হলো— ডিসকো মেগা, সুপার অ্যায়ার রেইস, টি-কাপ ৯, ফ্লাইং ক্যারোসালস, এনডিভার, গ্যালন, ১২ ডি থিয়েটার, মিনি কোস্টার, ক্ল্যামবিং কার, বাম্পার কার, ম্যাজিক বাইক, ট্রেম্পোলেন বেড, সুপার হ্যাপি সুইং, মেরি গো রাউন্ড ও ওয়াটার মেনিয়া স্থাপন করা হবে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের যান্ত্রিক সার্কেলের প্রকৌশলী আনিছুর রহমান আমার সংবাদের এই প্রতিবেদককে বলেন, প্রথমত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক রাজধানীর রমনা এলাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ তৃতীয় পর্যায়ের নির্মাণ প্রকল্পে আওতায় কাজ বাস্তবায়ন এবং ওই কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন হবে। শিশুপার্কের অভ্যন্তরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর জমি হস্তান্তর করার কাজ শুরু করা হবে। তবে মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাজ চলমান থাকা অবস্থায় ডিএসসিসি কর্তৃক দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদার নিয়োগ করার লক্ষ্যে নকশা, প্রাক্কলন ও এপিপি অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও পুলিশ কন্ট্রোলরুম ও শাহবাগ থানা স্থানান্তরের কার্যক্রম আন্তঃমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চলমান রয়েছে।

Link copied!