আমার সংবাদ ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬, ১২:২৯ এএম
এক নতুন ভোরের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে গঠিত হলো দেশের নতুন সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী দল বিএনপির নেতৃত্বে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাষ্ট্র পরিচালনার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
শপথের মাহেন্দ্রক্ষণ ও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন
বিকেল ৪টায় কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপরই মঞ্চে আসেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত ৫০ সদস্যের বিশাল মন্ত্রিসভার প্রথম ধাপে গতকাল ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী শপথ নেন। বাকি ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং অন্যান্য সদস্যদের শপথও পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতি। বিশেষ করে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে এবং ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই শপথ অনুষ্ঠানের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দেন।
মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতার জয়গান
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় মূলত বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। দলটির মহাসচিব থেকে শুরু করে স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য এবং রাজপথের পরীক্ষিত নেতারাই ঠাঁই পেয়েছেন এই তালিকায়।
পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণকারী সংসদ সদস্যদের তালিকায় শীর্ষ স্থানে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সঙ্গে আরও রয়েছেন আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে আসা সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রবীণ নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বীর বিক্রম খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। বিভাগীয় ও আঞ্চলিক গুরুত্ব বিবেচনায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন কুমিল্লার অভিজ্ঞ নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, সিলেটের উন্নয়নের কাণ্ডারি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর ও আরিফুল হক চৌধুরী, বরিশালের জহির উদ্দিন স্বপন, রাজশাহীর মিজানুর রহমান মিনু এবং উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় নেতা আসাদুল হাবিব দুলু।
টেকনোক্র্যাট ও বিশেষজ্ঞ কোটায় চমক
তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় কেবল রাজনীতিকরাই নন, প্রশাসনিক দক্ষতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞানকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যেমন- ড. খলিলুর রহমান: অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে তার অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন স্বরূপ টেকনোক্র্যাট কোটায় পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে। মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ: তিনিও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিত্বের শপথ নিয়েছেন।
তারুণ্য ও বৈচিত্র্যের মেলবন্ধন
মন্ত্রিসভায় যেমন প্রবীণরা রয়েছেন, তেমনি মধ্যম সারির একঝাঁক নেতাকে পূর্ণমন্ত্রী করে বড় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, চাঁদপুরের আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং নারীদের প্রতিনিধি হিসেবে আফরোজা খানম রিতার অন্তর্ভুক্তি মন্ত্রিসভাকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রিসভায় আনা হয়েছে।
এক নজরে শপথ নেয়া ২৫ পূর্ণমন্ত্রীর তালিকা
১. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদ সদস্য (এমপি); ২. আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য (এমপি); ৩. সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদ সদস্য (এমপি); ৪. ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), সংসদ সদস্য (এমপি); ৫. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), সংসদ সদস্য (এমপি); ৬. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, সংসদ সদস্য (এমপি); ৭. ড. খলিলুর রহমান, টেকনোক্র্যাট; ৮. আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সংসদ সদস্য (এমপি); ৯. কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, সংসদ সদস্য (এমপি); ১০. মিজানুর রহমান মিনু, সংসদ সদস্য (এমপি); ১১. নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য (এমপি); ১২. খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংসদ সদস্য (এমপি); ১৩. আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য (এমপি); ১৪. জহির উদ্দিন স্বপন, সংসদ সদস্য (এমপি); ১৫. মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, টেকনোক্র্যাট; ১৬. আফরোজা খানম (রিতা), সংসদ সদস্য (এমপি); ১৭. মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সংসদ সদস্য (এমপি); ১৮. আসাদুল হাবিব দুলু, সংসদ সদস্য (এমপি); ১৯. মো. আসাদুজ্জামান, সংসদ সদস্য (এমপি); ২০. জাকারিয়া তাহের, সংসদ সদস্য (এমপি); ২১. দীপেন দেওয়ান, সংসদ সদস্য (এমপি); ২২. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, রাজনৈতিক নেতা; ২৩. সরদার সাখাওয়াত হোসেন (বকুল), রাজনৈতিক নেতা; ২৪. ফকির মাহবুব আনাম (স্বপন) ও রাজনৈতিক নেতা; ২৫. শেখ রবিউল আলম, রাজনৈতিক নেতা।
আগামীর চ্যালেঞ্জ ও জনআকাঙ্ক্ষা
বিকেল ৫টায় শপথ গ্রহণ শেষে নবনিযুক্ত মন্ত্রীরা জাতির উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্ত্রিসভার প্রধান কাজ হবে গত দেড় দশকের প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে তোলা এবং অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানো। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারই হবে ফখরুল-খসরু-সালাহউদ্দিনদের প্রথম অগ্নিপরীক্ষা। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনের পর বিএনপির সংসদীয় দল এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, কোনো সদস্য সরকারি শুল্কমুক্ত গাড়ি বা প্লট গ্রহণ করবেন না। এই ত্যাগের মানসিকতা নিয়েই নতুন মন্ত্রিসভা তাদের যাত্রা শুরু করল। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হলো। গতকাল রাত থেকেই বঙ্গভবন ও গণভবনে প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মব্যস্ততা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দেশের মানুষ আশা করছে, নবীন-প্রবীণের এই সংমিশ্রণে গঠিত মন্ত্রিসভা একটি বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
শপথ নিলেন ২৪ প্রতিমন্ত্রী, গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সাকি-নুর-ববি
গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী দল বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে নতুন সরকার। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পরপরই শপথ নিয়েছেন ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
এবারের মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো- তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই প্রশাসনে যেমন বিএনপির নিজস্ব শক্তি রয়েছে, তেমনি রাজপথের মিত্র শক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মেধাবী তরুণদের গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে জুনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর ও ববি হাজ্জাজের মতো নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে।
দপ্তরে বড় চমক : নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তরুণ নেতৃত্ব
নতুন সরকারের প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনে মেধা ও অভিজ্ঞতার এক অনন্য সমন্বয় দেখা গেছে। রাজপথের জনপ্রিয় নেতা এবং গণঅধিকার পরিষদের সদস্য নুরুল হক নুরকে দেয়া হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়- অর্থ, পরিকল্পনা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কার এবং আইনশৃঙ্খলা পুনর্গঠনে তার এই দায়িত্ব পালন এখন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ ববি হাজ্জাজকে দেয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
জ্বালানি ও পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন মুখ
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ও বৈদেশিক সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন দিনের বার্তা নিয়ে যেতে শামা ওবায়েদ ইসলামকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
আইনি সংস্কার ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা
সুপ্রিম কোর্টের মেধাবী আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় জরাজীর্ণ ভূমি সেবাকে ডিজিটাল ও দুর্নীতিমুক্ত করার ম্যান্ডেট পেয়েছেন তিনি। এছাড়া শেখ ফরিদুল ইসলামকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পরিবেশ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বড় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মো. আব্দুল বারীকে দেয়া হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এক নজরে প্রতিমন্ত্রী ও তাদের কর্মপরিধি
জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি- অর্থ, পরিকল্পনা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নুরুল হক নুর- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ববি হাজ্জাজ- শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল- ভূমি মন্ত্রণালয়। শামা ওবায়েদ ইসলাম- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইশরাক হোসেন- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। মো. আমিনুল হক- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট)। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু- কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়। মো. শরিফুল আলম- বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। মো. রাজিব আহসান- রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। এম এ মুহিত- স্বাস্থ্য, ডাক-টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
টেকনোক্র্যাট ও বিভাগীয় উন্নয়ন
পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত সাবেক গোলরক্ষক মো. আমিনুল হককে তার নিজস্ব ক্ষেত্র যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে (টেকনোক্র্যাট কোটায়)। এছাড়া যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে হাবিবুর রশিদকে সড়ক পরিবহন এবং মো. রাজিব আহসানকে রেলপথ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। ঢাকার রাজপথের লড়াকু নেতা ইশরাক হোসেনকে দেয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সামাজিক কল্যাণ ও জনস্বাস্থ্য
জনস্বাস্থ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এম এ মুহিতকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ফারজানা শারমীন দায়িত্ব পেয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের। সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এক নজরে শপথ ও ম্যান্ডেট
গতকাল বিকেলের এই শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। শপথ শেষে নতুন প্রতিমন্ত্রীরা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, তাদের প্রধান কাজ হবে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার মাধ্যমে অর্জিত এই গণতন্ত্রকে সুসংহত করা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, এই ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর তারুণ্যদীপ্ত উদ্যমই হবে আগামীর ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার মূল চালিকাশক্তি।
রাষ্ট্রপতির শপথ পাঠের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো দাঁড়িয়ে গেল। রাত থেকেই নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তাদের নিজ নিজ দপ্তরে কাজ শুরু করবেন। ১৮ মাসের প্রতীক্ষার পর সাধারণ মানুষ এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে এই নতুন রক্তবাহী মন্ত্রিসভা দেশজুড়ে কি ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে।
জেএইচআর