ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

বছরে পানিতে ডুবে ৩ লাখের বেশি মৃত্যু

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৩:০৯ এএম

বছরে পানিতে ডুবে ৩ লাখের বেশি মৃত্যু

বিশ্বজুড়ে নীরব মহামারি হিসেবে দেখা দিয়েছে পানিতে ডুবে মৃত্যু। প্রতিবছর সারাবিশ্বে ৩ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিতে ডুবে প্রাণ হারাচ্ছেন। আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, এসব মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রায় ৯০ শতাংশই ঘটছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের এই অকালমৃত্যুর বিষয়টি বেশিরভাগ দেশেই দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত থেকে গেছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে তাপপ্রবাহ, আকস্মিক বন্যা ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই ভয়াবহ বাস্তবতায় ২৫ জুলাই ‘বিশ্ব ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস’ সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সংস্থাটি পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সাতটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণভিত্তিক কৌশল সংবলিত একটি নতুন কারিগরি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যার নামকরণ করা হয়েছে ‘প্রটেক্ট’। ঘানার রাজধানী আক্রায় আয়োজিত বিশ্ব সম্মেলনে ডব্লিউএইচও স্পষ্ট জানিয়েছে, পানিতে ডুবে মৃত্যু এখন আর কেবল একটি সাধারণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা নয়; বরং এটি অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এক বিরাট প্রতিবন্ধকতা। এই অকালমৃত্যু রোধ করা সরকারের কোনো একক দপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে যে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের চরম প্রভাব পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার ত্বরান্বিত করছে। যুক্তরাজ্যে পরিচালিত এক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে জানানো হয়, পরিবেশের তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির সাথে সাথে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঘানার উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবেনেজা ক্লুতে টেলাবি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুদের অকালমৃত্যুর শীর্ষ ১০টি প্রধান কারণের একটি হলো পানিতে ডোবা। আমাদের নদী, হ্রদ, পুকুর, উন্মুক্ত কূপ, গৃহস্থালির পানি সংরক্ষণের পাত্র এবং সুইমিংপুলে শিশুরা প্রতিদিন মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। বন্যা ও ঝড়ের মতো চরম আবহাওয়ায় এর ঝুঁকি মাত্রাতিরিক্ত রূপ নিচ্ছে।’

এক বিশেষ বিবৃতিতে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, ‘পানিতে ডুবে যাওয়া প্রতিটি মৃত্যুই একেকটি হূদয়বিদারক ট্র্যাজেডি এবং এর বেশিরভাগই প্রতিরোধযোগ্য। ডব্লিউএইচও-র সাতটি কৌশল দেশগুলোকে বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করবে। নৌযান নিরাপদ করা, শিশুদের সাঁতার শেখানো এবং বন্যা ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করাই হতে পারে প্রধান হাতিয়ার।’

ইংরেজি PROTECT শব্দের প্রতিটি অক্ষর দিয়ে একটি করে বিশেষ প্রতিরোধমূলক দিক চিহ্নিত করা হয়েছে— ১. P (Physical infrastructure): জলাশয়ের আশপাশে নিরাপদ পরিকাঠামো ও ভৌত প্রতিবন্ধক গড়ে তোলা।

২. R (Rescue and resuscitation): দ্রুত উদ্ধার কার্য পরিচালনা এবং প্রাথমিক জীবন রক্ষাকারী শ্বাস-প্রশ্বাস (সিপিআর) প্রদানের সক্ষমতা বাড়ানো।

৩. O (Occupational safety): পানিতে কর্মরত জেলে ও নৌ-শ্রমিকদের জন্য পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

৪. T (Transport safety): নৌযান ও জলপথে নৌ-নিরাপত্তার বৈশ্বিক মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলা।

৫. E (Education): প্রাথমিক বিদ্যালয়পর্যায় থেকে শিশুদের সাঁতার ও পানি নিরাপত্তার জরুরি শিক্ষা দেয়া।

৬. C (Child-care systems): কর্মজীবী বাবা-মায়ের শিশুদের সুরক্ষায় ডে-কেয়ার ও প্রাক-প্রাথমিক শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।

৭. T (Threat preparedness): হঠাৎ বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে আগাম প্রস্তুতি বৃদ্ধি।

ডব্লিউএইচওর টেকনিক্যাল অফিসার ড. ক্যারোলিন লুকাজিক বলেন, ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে বিশ্বজুড়ে এখনো সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেক দেশেই এই সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট নীতি নেই, আর থাকলেও তা যথার্থ নয়। সেই শূন্যতা পুরণেই নীতিনির্ধারকদের হাতে এই আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা তুলে দেয়া হয়েছে।’

সম্মেলনে আন্তর্জাতিক গবেষক ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা দেশীয় বাস্তবতার করুণ চিত্র তুলে ধরেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর যৌথ গবেষণার অভিজ্ঞতার কথা জানান সিআইপিআরবি-র গবেষক আল আমিন ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের হাওরাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। আকস্মিক অতিবৃষ্টি ও বন্যার মতো পরিবেশগত বিপর্যয় এসব মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করছে। তবে গ্রাম এলাকায় ঘটনাগুলো ঘটে বলে বহু মৃত্যু লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে যায়।’

বাংলাদেশে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে গবেষণারত সংস্থা ‘সিনারগোস’-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার এম রিজওয়ান খান জানান, বাংলাদেশে ১ থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের অকালমৃত্যুর প্রধান পাঁচটি কারণের একটি হলো পানিতে ডোবা। জলবায়ু সংবেদনশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে অবশ্যই এই বর্ধিত ঝুঁকি আমলে নিয়ে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জাতীয় কৌশলপত্র বাস্তবায়ন করতে হবে।

উল্লেখ্য, ঘানার এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটির মূল আয়োজক ছিল ডব্লিউএইচও এবং এতে সহায়তা প্রদান করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতব্য সংস্থা ‘ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস’। ২০১৪ সাল থেকে সংস্থাটি ডব্লিউএইচও-র সাথে যৌথভাবে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে বৈশ্বিক গবেষণা ও ‘প্রটেক্ট’ নির্দেশিকা গঠনে কাজ করে আসছে। বিশ্বজুড়ে পানিতে ডুবে প্রতিবছর ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য এক মানবিক ট্র্যাজেডি।

বিশেষ করে বাংলাদেশসহ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে চরম আবহাওয়া ও অসচেতনতা শিশু-কিশোরদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘প্রটেক্ট’ নির্দেশিকা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশভিত্তিক সুষ্ঠু নীতি প্রণয়ন, বিদ্যালয়ে সাঁতার প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে প্রতিবছর লাখ লাখ নিস্পাপ শিশুকে অকালমৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

Link copied!