ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

বিচারের প্রতীক্ষায় থমকে গেল জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৩:১৫ এএম

বিচারের প্রতীক্ষায় থমকে গেল জীবন

বছরের পর বছর একই কারাকক্ষে বন্দিজীবন, আইনি অনিশ্চয়তা, চরম মানসিক অবসাদ, নানাবিধ জটিল রোগ ও বার্ধক্যজনিত কারণে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে গত ১৩ বছরে ৭০ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, এর মধ্যে ৪২ জনই ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত (ফাঁসির) বন্দি।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ মে পর্যন্ত সময়ে গাজীপুরের এই বিশেষায়িত কারাগারে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মৃত ৭০ জনের মধ্যে ৪২ জন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি এবং অবশিষ্ট ২৮ জন ছিলেন বিভিন্ন মেয়াদের সাধারণ বন্দি।

আইন ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, বছরের পর বছর ধরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য প্রতীক্ষা, উচ্চ আদালতে আপিল ও আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটানো এসব বন্দির মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার ফলে বহু বন্দির পরিবার-পরিজনের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চরম মানসিক বিপর্যয় সহ্য করতে না পেরে এই সময়ে দুইজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি কারাকক্ষেই আত্মহত্যা করেন।

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘হাইসিকিউরিটি কারাগারে বন্দি রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭০ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি, যাদের আপিল আদালতে বিচারাধীন ছিল।’ কারা নথির তথ্যানুযায়ী, মূলত হূদরোগ, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, বার্ধক্যজনিত জটিলতাসহ নানাবিধ শারীরিক অসুস্থতায় এসব বন্দির মৃত্যু হয়েছে। বন্দিরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কারাগারের বাইরে সরকারি হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের ‘ব্রট ডেড’ বা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু হয়েছে বলে ঘোষণা করেন।

সিনিয়র জেল সুপার জানান, মৃত ৭০ বন্দির তালিকায় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় কারাগারে বন্দিদের মধ্যে সংঘটিত বিদ্রোহের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়া ৬ জন বন্দিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

কারা নথিতে উল্লেখিত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মৃত বন্দিদের তালিকা অনুযায়ী— সর্বশেষ মৃত্যু: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিদের মধ্যে সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৮ মে মারা যান কয়েদি ‘নম্বর-৮১৮৭/এ’ মো. আলাউদ্দিন। তার আগে ২ মে মারা যান কয়েদি ‘৬৮৬০/এ’ আকবর আলী ওরফে অটো আকবর।

২০২৫ সালের উল্লেখযোগ্য মৃত্যু: ২০২৫ সালে মারা যাওয়া বন্দিদের মধ্যে ছিলেন কয়েদি নম্বর ‘৫০৫০/এ’ সোহরাব ফকির। অন্যান্য মৃত ফাঁসির কয়েদিরা: কয়েদি নম্বর-৪৪৩/এ মো. রজব আলী, ২১৬/এ ফরিদ, ৬৬১/এ কামু ওরফে কামরুল, ২৪২/এ আলমগীর, ১৫২৫/এ মির্জা হাবিবুর রহমান, ১১৫২/এ গোপাল করাতী, ১৩১/এ রহিম খান, ১৬১৭/এ নুরুল ইসলাম হাওলাদার, ২৯১১/এ মো. আল আমিন, ৩১৮১/এ ওমর আলী, ৬৭৫/এ সিরাজুল ইসলাম, ৭৪৫/এ বিশারত ওরফে বিশা, ১৪২৯/এ আবদুল গফুর, ৮৪৭/এ আশরাফ আলী ওরফে মালেক, ৩৪৭৪/এ আব্দুর রহিম ওরফে কাচা আবু, ৩৬৫০/এ মো. নজরুল ইসলাম, ৩২৪০/এ আফসার আলী শেখ, ১৯০/এ দুধ মিয়া, ৩৬৯৪/এ হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, ২৭৩৫/এ সামসুল হক ওরফে পাঠা সামসুল, ৪২৬৯/এ সাত্তার প্যাদা, ৪৪১২/এ মো. মাহবুবুর রহমান, ৪২৬৩/এ মো. জনি, ২৪৪৯/এ মো. মুলুক হোসেন ভূঁইয়া, ৪৩২২/এ কান্তি মারাক, ৪৩৩৪/এ লিয়াকত আলী, ৩৭০১/এ সিরাজ প্রামাণিক, ৫০২৭/এ শাহিদ খাঁ, ৫০৪৫/এ গোলাম মোস্তফা, ৩৬১০/এ মো. ডালিম, ৩৬২১/এ কালাম ওরফে নমো কালাম, ৪০৪৮/এ আবু বক্কর সিদ্দিক, ২৫৯৭/এ আমিরুল ইসলাম ওরফে রাশেদ উদ্দিন, ৪২৭৭/এ জহিরুল হক ভূঁইয়া ওরফে জহির মেম্বার, ৪৯ণ৬/এ নজরুল ইসলাম, ৫০৪৮/এ সুমন ঢালী ওরফে ডাকু সুমন, ৩৮১৮/এ হেলপার আকরাম, ২১০৯/এ আনোয়ার হোসেন সরকার, ৬০৬৪/এ বদর উদ্দিন ওরফে বদু, ৪৪৯৯/এ রাধে শ্যাম হরিজন জমাদার, ৪৫৯৬/এ মো. আফজাল হোসেন, ৪৬২৩/এ মো. আসলাম হোসেন র্যাশ এবং ৫৯০১/এ মহিউদ্দিন ওরফে মহি ফিটার।

কারা অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে মোট ২,৭০৮ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত (ফাঁসির) বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে ২,৬১৫ জন পুরুষ এবং ৯৩ নারী বন্দি। কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও উন্নয়ন) মো. জান্নাত উল ফরহাদ জানান, এই আড়াই হাজারের বেশি বন্দির প্রত্যেকের সাজা ও রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, কেরানীগঞ্জস্থ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের মোট ৭৫টি কারাগারে বন্দিদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য হাসপাতাল ও চিকিৎসক নিযুক্ত রয়েছেন। আশঙ্কাজনক বন্দিদের দ্রুত বাইরের উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য ২০ থেকে ২২টি কারাগারে নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস রয়েছে। এ ছাড়া, কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার প্রাঙ্গণে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি আধুনিক কারা হাসপাতাল নির্মাণের কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের বর্তমান চিকিৎসাসেবা নিয়ে জানা যায়, সেখানে বর্তমানে একতলা ভবনে একটি কারা হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে বহির্বিভাগে রোগী দেখা ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়। হাসপাতালে একটি ইসিজি মেশিন রয়েছে এবং ছোটখাটো সাধারণ অস্ত্রোপচারও সম্পন্ন হয়।

বর্তমানে ২ জন চিকিৎসক ও ১ ফার্মাসিস্টসহ বেশ কয়েকজন কর্মী এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। কারা সূত্রে জানা যায়, কারাগারে থাকা বহু বন্দির স্বজনরা তাদের খোঁজখবর নেয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন। স্বজনদের অনুপস্থিতিতে চিকিৎসাসহ সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে কারা কর্তৃপক্ষ।

Link copied!