আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুলাই ২৫, ২০২৬, ০২:৫১ এএম
ইসরায়েলি অবরোধ, তীব্র জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎহীনতার কারণে গাজা উপত্যকায় নতুন মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। তীব্র দাবদাহের মধ্যে রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করতে না পারায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে খাবার, শাকসবজি ও জীবনরক্ষাকারী জরুরি ওষুধ। প্রচণ্ড গরমে বাস্তুচ্যুত লাখো ফিলিস্তিনি একদিকে তীব্র খাদ্যসংকট, অন্যদিকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
গাজার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো জানায়, ত্রাণ হিসেবে পাওয়া বাড়তি খাবার কয়েক ঘণ্টার বেশি সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফ্রিজ অকেজো হয়ে থাকায় অনেকেই এখন সেটিকে কেবল মালামাল রাখার আলমারি বা রান্নাঘরের তাক হিসেবে ব্যবহার করছেন।
বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা মালেক আল জানিন জানান, সন্তানদের জন্য খাবার রেখে দেওয়ার কোনো উপায় নেই। তপ্ত তাঁবুতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খাবার নষ্ট হয়ে যায়। ঠান্ডা পানির কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ট্যাংকের গরম পানি পান করতে হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) সতর্ক করে জানিয়েছে, তীব্র দাবদাহ ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সংকটের কারণে গাজায় খাদ্যবাহিত রোগ, ডায়রিয়া এবং বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। একই সঙ্গে চারদিকে আবর্জনা জমে মাছি, পোকামাকড় ও ইঁদুরের উপদ্রব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছেন দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা। গাজা সিটির বাসিন্দা মানাল হামাদ (৪৩) জানান, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, বিশেষ করে ইনসুলিন সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ অপরিহার্য। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। কখনো অর্থের বিনিময়ে অন্যের ফ্রিজে ওষুধ রাখতে গেলেও লোডশেডিংয়ের কারণে সেটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে জীবিকার তাগিদে মোহাম্মদ আল জানিন (৩৪) নামের এক যুবক একটি ছোট জেনারেটর ও ফ্রিজার চালিয়ে অর্থের বিনিময়ে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া এবং পানির বোতল ঠান্ডা করার সেবা দিচ্ছেন। তবে জ্বালানির দাম বেশি হওয়ায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উচ্চ মূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে এই সেবা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এখন একটি ফোন চার্জ দেওয়া কিংবা এক বোতল ঠান্ডা পানি পাওয়া গাজাবাসীর জন্য বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।
ওসিএইচএ জানিয়েছে, জুন মাসের শুরুতে গাজায় মাত্র ১০ লাখ লিটার ডিজেল প্রবেশের সুযোগ মিললেও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনরক্ষাকারী অবকাঠামোর চাহিদার তুলনায় তা অত্যন্ত অপ্রতুল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকট ও তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে গাজার খাদ্যনিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
জেএইচআর