নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ১০, ২০২৫, ০৩:০৯ পিএম
রাজধানীর সূত্রাপুরে প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত ব্যক্তিকে পুরান ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ জোনের উপ–কমিশনার আহসান উদ্দিন সামি বলেন, নিহত সাইফ মামুন পুরান ঢাকার কুখ্যাত ইমন–মামুন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন।
তিনি আরও জানান, “সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মোটরসাইকেলে করে আসা দুই দুর্বৃত্ত এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মামুনকে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
সূত্রে জানা যায়, এর আগেও ২০২৩ সালে মামুনের ওপর একবার হামলা হয়েছিল। তখন গুলিবর্ষণে এক পথচারী নিহত হয়।
সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী নিহতের নাম তারিক সাইফ মামুন (৩৮)। তিনি লক্ষ্মীপুর সদরের মোবারক কলোনির এস এম ইকবাল হোসেনের ছেলে। আফতাবনগর এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন।
নিহতের স্ত্রী রিপা আক্তার বলেন, “আমার স্বামী বিএনপি সমর্থিত একজন কর্মী এবং ব্যবসা করতেন। আজ তার কোর্টে হাজিরা ছিল। আমরা জানতে পারি তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরে ঢাকা মেডিকেলে এসে দেখি, তিনি আর বেঁচে নেই।”
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মহিবুল্লাহ বলেন, “বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের সামনে গুলির শব্দ শুনে বাইরে গিয়ে দেখি একজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।”
নিহতের ভাই হাফিজ বলেন, “আমার ভাই একজন সাধারণ মানুষ। তার কোনো রাজনৈতিক পদ বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, আমরা জানি না।”
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সূত্রাপুর থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ।”
ইএইচ