ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬
অপারেশন ডেভিল হান্ট

ঢাকার নির্বাচনী নিরাপত্তায় ২৫ হাজার পুলিশ, মাঠে নামছে ডিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তারা

বিশেষ প্রতিবেদন

বিশেষ প্রতিবেদন

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১১:৫২ পিএম

ঢাকার নির্বাচনী নিরাপত্তায় ২৫ হাজার পুলিশ, মাঠে নামছে ডিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তারা

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। 

আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে যখন প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রণা শুরু হবে, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হচ্ছে পুলিশের এক বিশেষ ও জোরালো সাঁড়াশি অভিযান। ডিএমপি সদর দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের এক পর্যালোচনা সভায় গৃহীত এ সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য, নির্বাচনী সহিংসতা রোধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের দমন।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ ২’, এর অংশ হিসেবে আগামী বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি থেকে ঢাকায় বিশেষ অভিযান শুরু হবে। এদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে অভিযানের তদারকি করবেন। 

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্বাচনী উৎসবের আড়ালে যেন কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্যই এ বিশেষ পদক্ষেপ। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ঢাকা মহানগরীতে মোট ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এ কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ডিএমপির জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিশাল এ কর্মযজ্ঞ সামলাতে প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোায়েেন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় কেন্দ্রগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১. গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্র: ১ হাজার ৮২৮টি। ২. সাধারণ কেন্দ্র: ৩০৩টি। 

পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকার প্রায় ৮৫ শতাংশ কেন্দ্রই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। এসব কেন্দ্রে পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে সশস্ত্র আনসার সদস্য। প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন আনসার সদস্য এবং একজন সহকারী সেকশন কমান্ডার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য একজন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবেন।

নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সেজন্য ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্পষ্ট কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। 

সোমবারের পর্যালোচনা সভায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিরপেক্ষতা কোনো পুলিশ সদস্য কোনো বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে প্রচার বা প্রচ্ছন্ন সমর্থন দিতে পারবেন না। খাদ্য গ্রহণ নিষিদ্ধ ডিউটি চলাকালীন প্রার্থীর পক্ষ থেকে দেওয়া কোনো ধরনের খাবার বা আতিথেয়তা গ্রহণ করা যাবে না। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিরপেক্ষতায় বিন্দুমাত্র ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পু

লিশের এ কঠোর অবস্থান মূলত সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা ফেরানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটাররা যেন কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই কেন্দ্রে আসতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করাই এ নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য।

শুধুমাত্র থানা পুলিশ নয়, নির্বাচনের দিনগুলোতে ঢাকার রাজপথ দখলে রাখবে বিশেষায়িত ইউনিটগুলোও। গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা সাদা পোশাকে এবং ইউনিফর্মে নগরজুড়ে টহল দেবেন। বিশেষ করে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হবে। 

সহকারী কমিশনার থেকে শুরু করে অতিরিক্ত কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা প্রতিদিন মাঠে থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। কোনো কেন্দ্রে ভোটারদের বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে কি না, সেই আগাম তথ্য সংগ্রহ করে সদর দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গোয়েন্দাদের।

একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল পরিমাণ যানবাহনের প্রয়োজন হয়। ডিএমপি জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের তিন চার দিন আগে থেকেই ঢাকা মহানগরী থেকে প্রায় ৩ হাজার যানবাহন রিকুইজিশন করা হবে। এসব গাড়ি মূলত নির্বাচনী সরঞ্জাম ব্যালট বক্স, পেপার ইত্যাদি পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের দ্রুত যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। পুলিশের টহল দল এবং মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্সের জন্য এ যানবাহনগুলো ব্যবহার করা হবে।

ঢাকার মতো মেগাসিটিতে নির্বাচনী নিরাপত্তা রক্ষা করা সবসময়ই এক কঠিন কাজ। ঘিঞ্জি এলাকা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের জন্য বড় পরীক্ষা। ডিএমপির এ ব্যাপক প্রস্তুতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, রাষ্ট্র এবার একটি অংশগ্রহণমূলক ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। 

তবে সাধারণ নাগরিকদের মতে, কাগজের এ পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করছে ২২ জানুয়ারি প্রচার শুরুর প্রথম কয়েক দিনের পরিস্থিতির ওপর। যদি পুলিশ প্রকৃতপক্ষেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং দাগী সন্ত্রাসীদের ধরতে সফল হয়, তবেই ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকেন্দ্রে ভোটারের সরব উপস্থিতি আশা করা যায়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ কে সামনে রেখে ডিএমপির এ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঢাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। 

একদিকে কড়াকড়ির ফলে জনজীবনে কিছু সাময়িক অসুবিধা হতে পারে, অন্যদিকে কঠোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ভোটারদের আশাবাদী করছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ ঢাকার রাজপথ থাকবে প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে, যেখানে প্রধান লক্ষ্য একটাই, ব্যালট যুদ্ধের ময়দানে যেন বুলেটের আস্ফালন না ঘটে।

Link copied!