ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

খরাপ্রবণ বরেন্দ্র জনপদের জল-জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে পানিবন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ ২১, ২০২৪, ০৪:৩৮ পিএম

খরাপ্রবণ বরেন্দ্র জনপদের জল-জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে পানিবন্ধন
ছবি: আমার সংবাদ

খরাপ্রবণ বরেন্দ্র জনপদের জল ও জীবনের নিরাপত্তায় পানি ব্যবস্থাপনায় সুশাসনসহ গ্রাম ও শহরের ভূ-উপরস্থ জলাধার গুলো সুরক্ষা এবং তাতে প্রান্তিক মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে রাজশাহীতে ‘পানিবন্ধন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ( ২১ মার্চ) সকালে রাজশাহী সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষ্যে বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম, বরেন্দ্র রিসার্চ এন্ড অ্যাডভোকেসী সোসাইটি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক’র যৌথ আয়োজনে খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনার সুশাসন ও ভূ-উপরোস্থ জললাধারগুলো সুরক্ষাসহ তাতে প্রান্তিক মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি করেছেন।

পানিবন্ধনে বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম’র সভাপতি শাইখ তাসনীম জামালের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক’র সঞ্চালনায় কথা বলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, বারসিক’র গবেষক মো. শহিদুল ইসলাম, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযোদ্ধা ৭১ এর সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, ইয়ুথ  অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ এর সভাপতি শামীউল আলীম শাওন, ভয়েস অব ইয়ুথ এর সভাপতি মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন- সোনা দিঘির উন্নয়য়নের নামে সোনাদিঘিকে সংকুচিত করা হয়েছে, শুকান দিঘি দখল ও ভরাট করা হচ্ছে এরকম শত শত দিঘি ভরাট করে দালানকোঠা, মার্কেট করা হচ্ছে।

বারসিক এর গবেষক শহিদুল ইসলাম বলেন- রাজশাহীসহ গোটা বরেন্দ্র অঞ্চলটি খরাপ্রবণ, একসময় এখানে প্রচুর ভূ-উপরোস্থ জলাধার ছিল। সেগুলো দখল দূষণ করে বিনষ্ট করা হয়েছে। অন্যদিকে জলমহাল লিজ, পুকুর লিজ প্রথা এবং আইনের কারণে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা এসব প্রাকৃতিক জলাধার লিজের নামে দখল করে, তাতে গ্রামের মানুষ প্রান্তিক মানুষের প্রবেশাধিকার থাকেনা।

তিনি আরও বলেন- আইন বা নীতি যদি জনগোষ্ঠীর উপকারে না আসে, তাহলে সেই আইন পরিবর্তন করা দরকার। তিনি গ্রামের পুকুর জলাধারগুলো গ্রামের মানুষের মধ্যে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেবার দাবি জানান।

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম এর সভাপতি শাইখ তাসনীম বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনার নামে দুঃশাসন চলছে, এখানে পানি ব্যবস্থাপনার সুশাসন দরকার। ডিপগুলো প্রভাবশালীরা পরিচালনা করেন।

আদিবাসী যুব পরিষদের সভাপতি উপেন রবিদাস বলেন, পানি ব্যবস্থাপনার সুশাসনের অভাবে এখানে আদিবাসীদের জীবন দিতে হয়।

তিনি আরো বলেন, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নিমঘটু গ্রামের অভিনাথ মার্ডি এবং রবি মার্ডি সেচের পানি না পেয়ে বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছিলেন। এটা ঘটেছে পানি ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের অভাবে।  

পানিবন্ধনে বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি শাইখ তাসনীম জামাল খরাপ্রবণ বরেন্দ্র জনপদের জল ও জীবনের নিরাপত্তায় পানি ব্যবস্থাপনায় সুশাসনসহ গ্রাম ও শহরের ভূ-উপরস্থ জলাধার গুলো সুরক্ষা এবং তাতে প্রান্তিক মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে রাজশাহীতে আট দফা দাবি তুলে ধরেন। একই সাথে তিনি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলাপ্রশাসন বরাবর দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি পেশ করেন।

দাবিগুলো হলো:

১. ২০১৪ সালে জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করলে জেলা প্রশাসন ৯৫২টি পুকুরের তালিকা করে এবং সেই অনুপাতে হাইকোর্ট পুকুরগুলো সংরক্ষণসহ পুকুরগুলো যাতে থাকে তাও নিশ্চিত করতে বলেছেন, একইসাথে রাজশাহীতে অনেক পুরাতন সুকান দিঘি দখলকৃত অংশ পূণরুদ্ধার ও পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। উক্ত হাইকোর্টের নির্দেশ যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে।

২. বরেন্দ অঞ্চলের গ্রাম ভিত্তিক খাস/সরকারি প্রতিটি পুকুর/দিঘি সেই গ্রামের মানুষের ব্যবহারের জন্য শর্তবিহীন এবং জামানতবিহীন আজীবনের জন্য লিজ দিতে হবে। পুকুর/দিঘিগুলো পূণঃসংষ্কার করে দিতে হবে।

৩. বরেন্দ্র ডিপ ব্যবস্থাপনায় পানিবণ্টন বৈষম্য নীতি পরিহার করে সরাসরি কৃষকদের পরিচালনা করতে দিতে হবে। প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে।

৪. বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রতিটি গ্রামে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রাকৃতিক জলাশয়/জলাধারগুলো পূণঃসংস্কার এবং তা লিজ বাতিল করে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

৬. ভূগর্ভস্থ পানির উত্তোলন কমিয়ে ভু-উপরোস্থ পানি ব্যবহার এবং সেই সুবিধাগুলো সৃষ্টি করে দিতে হবে।

৭. বরেন্দ্র অঞ্চলের বৈচিত্র্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় উচুঁ-নিচু বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ভূমি কর্তন/সমান করা বন্ধ করাসহ বড় বড় বৃক্ষগুলো সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বৃক্ষনিধন বন্ধ করতে হবে।

৮. খরা এবং দুর্যোগের কারণে শস্য ফসলসহ গবাদি পশুপাখির ক্ষতি পূরণ দিতে হবে। খরাকালিন কাজের অভাবে প্রান্তিক আদিবাসী ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের জন্য মৌসুমি খরা ভাতা চালু করতে হবে।

এআরএস

Link copied!