মিজানুর রহমান মিজান, লালমনিরহাট
জুলাই ২, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
দীর্ঘ দুই বছর পর অবশেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হয়েছে। এই খবরে লালমনিরহাটের ত্রিদেশীয় বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকার ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক, হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে আবারও প্রাণ ফিরে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। সীমান্তে বন্ধ হয়ে যাওয়া হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং পরিবহন কাউন্টারগুলোও নতুন করে খোলার প্রস্তুতি শুরু করেছে।
ভারত, ভুটান ও নেপাল- এই তিন দেশ ভ্রমণে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয় দ্বিতীয় বৃহত্তম বুড়িমারী স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট। তবে বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই বন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপার আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়।
আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ যাত্রী যাতায়াত করতেন, সেখানে শুধু নামমাত্র মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা চালু থাকায় পুরো বন্দরে চরম মন্দা দেখা দেয়। যাত্রীসংকটে বন্ধ হয়ে যায় দূরপাল্লার পরিবহন কাউন্টার ও আবাসিক হোটেলগুলো। ফলে স্থানীয় ভ্যানচালক, কুলি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ২৮ জুন থেকে দেশের পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) পুনরায় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভিসা চালু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সাইদ নামের এক ভ্রমণপিপাসু বলেন, বিগত ঈদের ছুটিতে ভারত ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলেও ভিসা বন্ধ থাকায় যেতে পারিনি। এখন কার্যক্রম চালু হওয়ায় খুব দ্রুতই যেতে পারব।
শ্যামলী এন আর ট্রাভেলসের কাউন্টার ম্যানেজার পলাশ জানান, ভিসা বন্ধ থাকায় যাত্রী ছিল না বললেই চলে। এখন আবার আগের মতো কর্মব্যস্ততা ফিরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
বুড়িমারী স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ সাইফুর রহমান বলেন, দীর্ঘ দুই বছর পর ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় বুড়িমারী চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার অনেক বাড়বে। যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
জেএইচআর