নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
জুলাই ৯, ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার গাওখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কবলে পড়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ রূপ নিয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদাময় ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। নদীভাঙনে রাস্তার একাংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ হাজারো সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির এক পাশে নদী এবং অন্য পাশে গাওখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সীমানা প্রাচীর। ক্রমাগত নদীভাঙনের কারণে রাস্তার প্রশস্ততা এতটাই কমে গেছে যে, কোথাও কোথাও সামান্য অসতর্ক হলেই নদীতে পড়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এই পথে যানবাহন চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি পথচারীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ রোগীদের এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। পিচ্ছিল কাদায় পা পিছলে ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তি পাশের নদীতে পড়ে আহত হয়েছেন বলেও তারা জানান।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে গাওখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই সড়ক ব্যবহার করে বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত করে। বর্ষাকালে কাদা ও ভাঙনের কারণে তাদের নিরাপদে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।
এলাকাবাসী জানান, সড়কটির দক্ষিণ পাশে নাজিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ গাওখালী বাজার এবং উত্তর দিকে দেউলবাড়ী-দোবড়া ইউনিয়ন পরিষদ অবস্থিত। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির মানুষের জন্য এটিই অন্যতম প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কার বা নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। টেকসইভাবে সড়কটি পুনর্নির্মাণ এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তাই জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এই বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর আমাকে জানিয়েছে, এলজিইডি (LGEDI) থেকে এই রাস্তাটি টেকসইভাবে নির্মাণের প্রস্তাব অনেক আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
জেএইচআর