ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

মহেশপুরে জনবল সংকটে বন্ধ প্রায় মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক

সাইফুল ইসলাম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

সাইফুল ইসলাম, মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

মহেশপুরে জনবল সংকটে বন্ধ প্রায় মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক

প্রান্তিক খামারিদের দোরগোড়ায় প্রাণিসম্পদের চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের নেওয়া ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক (এমভিসি) মহেশপুর উপজেলায় এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামসমৃদ্ধ গাড়িটি সচল থাকলেও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়া, বাজেট সংকট, জনবল স্বল্পতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নিয়মিত সেবা কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না। ফলে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাজারো খামারি প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরকারের লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি)-এর আওতায় পাওয়া এ ক্লিনিকের মাধ্যমে পশুর রোগ নির্ণয়, প্রাথমিক চিকিৎসা, কৃত্রিম প্রজনন এবং খামারিদের পরামর্শ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে মাঠপর্যায়ে নিয়মিতভাবে এ সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলার অধিকাংশ খামারি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বসবাস করায় অসুস্থ গবাদিপশু উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে আসা তাদের জন্য ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

মহেশপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে. এম. আসাদুজ্জামান জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণের পর নাটিমা ইউনিয়নে একদিন মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিকের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক ও কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে অন্য ইউনিয়নগুলোতে এখনো নিয়মিত সেবা চালু করা যায়নি।

তিনি বলেন, “অনেকেই মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিককে স্বতন্ত্র প্রকল্প মনে করেন। কিন্তু এটি মূলত এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় প্রাপ্ত একটি বিশেষ সুবিধা। ২০২৬ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গাড়ি পরিচালনা, জ্বালানি ব্যয় এবং জনবল ব্যবস্থাপনায় কিছু বাস্তব সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ক্লিনিকটির টিওঅ্যান্ডই (টুলস, ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড ভেহিকেল) সম্পন্নকরণের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যয় ও জনবলসংক্রান্ত সংকট নিরসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলে সেবাটি আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, অনুমোদিত অর্গানোগ্রামে ১১টি পদ থাকলেও বর্তমানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি সার্জন, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (কৃত্রিম প্রজনন) এবং ড্রেসার পদে জনবল কর্মরত আছেন। বাকি পদগুলো শূন্য থাকায় বিস্তৃত পরিসরে সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল, জ্বালানি ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এ উদ্যোগ মহেশপুরের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিকের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ, খামার ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ, পুষ্টি পরামর্শ এবং আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হলে উপজেলার প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

স্থানীয় খামারিদের ভাষ্য, গবাদিপশু অসুস্থ হলে বর্তমানে দূর-দূরান্ত থেকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে যেতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক নিয়মিত চালু হলে তারা নিজ এলাকাতেই সহজে চিকিৎসাসেবা পাবেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও সেবাটি যাতে বন্ধ বা স্থবির না হয়, সেজন্য স্থায়ী বাজেট বরাদ্দ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ জরুরি। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে ক্লিনিকটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে মহেশপুরের হাজারো প্রান্তিক খামারি সরাসরি উপকৃত হবেন। বর্তমানে গাড়িটি সচল থাকলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারিরা নিয়মিতভাবে এ সেবার আওতায় আসবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এম জি

Link copied!