আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
ইসরায়েলের সমালোচনায় বারবার সোচ্চার হয়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনা। ফিলিস্তিনের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে তিনি নিজেকে একাধিকবার ‘ফিলিস্তিনের সবচেয়ে বড় সমর্থক’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ঘিরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে সেই প্রতিবাদী ম্যারাডোনার নাম, যিনি ফুটবল মাঠের নায়ক হওয়ার পাশাপাশি নানা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও মানবিক ইস্যুতেও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিলেন।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের ইতিহাস মানেই অনেকের কাছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের স্মৃতি। ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর সেই ম্যাচে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং শতাব্দীর সেরা গোল ফুটবল ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। আজ আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে দুই দল আবার মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের স্মৃতিতে তাই অবধারিতভাবেই ফিরে এসেছে তাদের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অধিনায়কের নাম।
তবে ম্যারাডোনার পরিচয় শুধু মাঠের পারফরম্যান্সে সীমাবদ্ধ ছিল না। খেলোয়াড়ি জীবনের বাইরেও তিনি নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সরব ছিলেন। ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ, কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো এবং বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রতিও তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন জানাতেন।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুধু আর্জেন্টিনা নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। ফিলিস্তিন থেকেও আসে শোকবার্তা। হামাসের তৎকালীন মুখপাত্র সামি আবু জুহরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যারাডোনার পরিবার ও ভক্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে লিখেছিলেন, ফিলিস্তিনের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে ম্যারাডোনা সবসময় তাদের পাশে ছিলেন।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ম্যারাডোনা বহুবার প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। ২০১২ সালে তিনি নিজেকে ‘প্যালেস্টাইন জনগণের সবচেয়ে বড় ভক্ত’ বলে উল্লেখ করে বলেছিলেন, তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি অনুভব করেন এবং কোনো ধরনের ভয় ছাড়াই তাদের সমর্থন করেন।
২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায়ও তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। সে সময় দেওয়া এক বিবৃতিতে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরায়েল যা করছে, তা লজ্জাজনক। গাজায় সংঘটিত ওই হামলায় অন্তত তিন হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
ম্যারাডোনাকে ঘিরে ২০১৫ সালে একটি সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে দাবি করা হয় যে এএফসি এশিয়ান কাপের সময় ফিলিস্তিনি জাতীয় ফুটবল দলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে শক্ত প্রমাণ কখনও সামনে আসেনি।
২০১৮ সালের জুলাইয়ে রাশিয়ার মস্কোতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ম্যারাডোনা। সেই সাক্ষাতে তিনি আবারও ফিলিস্তিনের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা জানান। আব্বাসকে আলিঙ্গন করে তিনি বলেন, ‘আমার হৃদয়ে, আমি প্যালেস্টাইন।’ ওই মুহূর্তের ভিডিও পরে তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও প্রকাশ করা হয়েছিল।
শুধু ফিলিস্তিন নয়, আন্তর্জাতিক নানা রাজনৈতিক ইস্যুতেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ম্যারাডোনা। সিরিয়া প্রসঙ্গেও তাকে প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশবিরোধী বার্তাসংবলিত টি-শার্ট পরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত এই কিংবদন্তি ফুটবলারের অবস্থান আজও তার ভক্তদের কাছে আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।
তথ্যসূত্র আল-জাজিরা
এএন