মো. মমিন সরকার, শেকৃবি প্রতিনিধি
অক্টোবর ১২, ২০২২, ১১:৫৫ পিএম
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬টি লিফট কেনা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে লিফট পর্যবেক্ষণে (প্রি-ইন্সপেকশন) বিশেষজ্ঞ ছাড়াই ইউরোপে ভ্রমণে গেছেন শেকৃবির পরিকল্পনা ও প্রকল্প পরিচালক ড. মিজানুল হক কাজল এবং ডিপ্লোমা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার মুনির হোসেন।
লিফট এক্সপার্ট ছাড়া তারা কতটা মান যাচাই করতে পারবেন এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শেকৃবি প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি কোম্পানিকে ১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬ টি লিফটের কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
লিফট প্রি-ইন্সপেকশনে বিদেশে সফরে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে ছিলেন শেকৃবির কোষাধ্যক্ষ ড. নজরুল ইসলাম, সদস্য হিসেবে ড. আব্দুর রাজ্জাক, পরিকল্পনা ও প্রকল্প পরিচালক ড. মিজানুল হক কাজল, প্রধান প্রকৌশলী মোমেনুল আহসান এবং সদস্য সচিব ছিলেন সিভিল প্রকৌশলী মুনির হোসেন।
তবে ৫ জনের মধ্যে ইউরোপের ভিসা পান মিজানুল হক কাজল ও মুনির হোসেন। গত ৩ অক্টোবর তারা ২ জন ইউরোপের দেশ ইতালি ভ্রমণে যান। মিজানুল হক কৃষি ব্যবসা অনুষদের একজন অধ্যাপক এবং মুনির হোসেন একজন ডিপ্লোমা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তারা লিফট বিষয়ে কতটা অভিজ্ঞ, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগে যোগ্যতা সম্পন্ন প্রকৌশলী থাকা সত্বেও তাদের সুযোগ দেওয়া হয়নি। কমিটিতে লিফট এক্সপার্ট হিসেবে কাকে রাখা হয়েছিল এ বিষয়ে বলতে পারেননি আহ্বায়ক ড. নজরল ইসলাম।
কয়েকজন প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এ ধরনের প্রি-ইন্সপেকশনে ফ্যাক্টরী সরাসরি ভিজিট করা হয়। প্যাকেজিং, যন্ত্রপাতির গুণগতমান, লিফটের স্পেসিফিকেশন যাচাই করা হয়। এজন্য লিফট সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখে এমন একজন এক্সপার্ট রাখা দরকার। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার সাথে যেতে পারে। তবে এক্সপার্ট হিসেবে একজন ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ার নিতে হবে।
এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোমেনুল এহসান বলেন, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় আমি যেতে পারিনি। যারা গেছে তাদেরকে আমরা ব্রিফ দিয়ে দিয়েছি।
এক্সপার্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. নজরুল ইসলাম বলেন, এটা আমি জানি না। যারা কমিটি করেছে তাদের জানবার কথা। আমি যেহেতু যাই নাই, এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত বলতে পারব না।
এআই