ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
শিক্ষামন্ত্রী

সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ও ৩ দিন সশরীরে ক্লাস

বিশেষ প্রতিবেদক 

বিশেষ প্রতিবেদক 

এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০১:০৬ পিএম

সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ও ৩ দিন সশরীরে ক্লাস
রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: আমার সংবাদ

পরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতি, তীব্র যানজট এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে রাজধানী ঢাকার নির্বাচিত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ব্লেনডেড লার্নিং’ বা মিশ্র শিক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে ছয় দিনের পাঠদানের মধ্যে তিন দিন শিক্ষার্থীরা সরাসরি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হবে এবং বাকি তিন দিন ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠ গ্রহণ করবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই নতুন শিক্ষা সূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। আগামী সপ্তাহ থেকেই এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:

১. বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যের যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে পরিবহন ব্যয় কমাতে এই পদ্ধতি সহায়ক হবে।

২. যানজট নিরসন: ঢাকার তীব্র যানজট নিরসনে প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াত কমিয়ে আনা একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৩. প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা: ভবিষ্যতের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের শৈশব থেকেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অভ্যস্ত করে তোলা এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে সপ্তাহে ছয় দিনই শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। তবে সশরীরে এবং অনলাইন ক্লাসের জন্য দিনগুলো সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার, সোমবার ও বুধবার সশরীরে ও রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইন ক্লাস করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। 

মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, শিক্ষার্থীরা বাসায় থাকলেও শিক্ষকদের প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। শিক্ষকেরা স্কুল থেকেই ডিজিটাল ল্যাব বা স্মার্ট বোর্ড ব্যবহার করে অনলাইন ক্লাসগুলো পরিচালনা করবেন।

প্রাথমিকভাবে রাজধানীর যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত ডিজিটাল অবকাঠামো ও সক্ষমতা রয়েছে, কেবল সেখানেই এই পদ্ধতি চালু করা হবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো নামী ও বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই পরীক্ষামূলক তালিকায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সক্ষমতা অর্জন সাপেক্ষে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এই পদ্ধতির আওতায় আনা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি একটি পরীক্ষামূলক ধাপ। আমরা দেখতে চাই শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কতটা খাপ খাইয়ে নিতে পারে। যেসব স্কুলের প্রয়োজনীয় কারিগরি সুযোগ-সুবিধা আছে, তারা আগামী সপ্তাহ থেকেই এই রুটিন অনুসরণ করবে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, অনলাইন ক্লাসের গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিশেষ পর্যবেক্ষক দল গঠন করা হবে। এছাড়া যেসব শিক্ষার্থীর ডিভাইসের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাদের সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক অভিভাবক যানজট ও যাতায়াত খরচ কমার বিষয়টিকে স্বাগত জানালেও, অনলাইন ক্লাসের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে বাংলাদেশের জন্য এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের যে ঢেউ উঠেছে, শিক্ষা ব্যবস্থায় এই ‘ব্লেনডেড লার্নিং’ পদ্ধতি প্রবর্তন সেই সংস্কারেরই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার মধ্যেই ঢাকার রাজপথে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কমিয়ে আনার এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট মহলের।

এম জি

Link copied!