বিনোদন ডেস্ক
জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
ইট এন্ডস উইথ আস সিনেমার সেটে শুরু হওয়া তিক্ততা এখন নিউইয়র্কের আদালতের কাঠগড়ায়। অভিনেত্রী ব্লেক লাইভলি এবং পরিচালক ও অভিনেতা জাস্টিন বালডোনির মধ্যকার মামলার শুনানিতে সম্প্রতি একটি ভয়েস মেসেজ উন্মুক্ত করা হয়েছে।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঠানো এ বার্তায় ব্লেকের পেশাগত চাপের চেয়েও তার ব্যক্তিগত অসহায়ত্ব এবং একজন নতুন মা হিসেবে সংগ্রামের চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
পিপল ডটকমের প্রকাশিত আদালতের নথিতে দেখা যায়, ব্লেক লাইভলি সেই সময় বালডোনিকে পাঠিয়েছিলেন একটি আন্তরিক অডিও বার্তা।
সেখানে তিনি শুরুতেই বলেন, এ মুহূর্তে আমি আপনার সাথে একজন বন্ধুর মতো করেই কথা বলছি, অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি। বার্তাটি পাঠানোর সময় ব্লেক তার নবজাতক সন্তানের যত্ন এবং একই সাথে একাধিক সিনেমার কাজ সামলানো নিয়ে প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপে ছিলেন।
ভয়েস মেসেজটিতে ব্লেক তার কর্মজীবনের কঠিন চ্যালেঞ্জের কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি জানান, ইট এন্ডস উইথ আস সিনেমার আগে অন্য একটি প্রজেক্টে তিনি চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। শারীরিক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও কেবল প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য তিনি সেই কাজটি করতে বাধ্য হচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, ওই সিনেমাটা আগে করার একমাত্র কারণ হলো আমি তাদের কথা দিয়েছি, আর আমি সেই প্রতিশ্রুতি ভাঙতে চাইনি। কিন্তু মাঝখানে মাত্র এক সপ্তাহ ছুটি পাওয়া সত্যিই অনেক চাপের। সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি ছিল তার সন্তানের লালন পালন নিয়ে।
তিনি বালডোনিকে জানিয়েছিলেন যে, তখনো তার কোনো বেবি নার্স ছিল না। পর্যাপ্ত ঘুমহীন অবস্থায় এবং সন্তানের থেকে দূরে থেকে এত দ্রুত শুটিংয়ে ফেরাটা তার জন্য কতটা অসম্ভব হয়ে পড়ছিল, তা ওই বার্তায় উঠে এসেছে।
ব্লেক লাইভলি সেই সময় সিনেমার শুটিং শুরু করতে আরও কিছুটা সময় চেয়েছিলেন। তিনি বার্তায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার পর এত তাড়াতাড়ি মার্চ বা এপ্রিলে শুটিংয়ে ফেরাটা কঠিন। ঘুম না হওয়া অবস্থায় নিজের সেরাটা দিতে পারব কি না, তা নিয়ে সংশয়ে আছি। সত্যি বলতে, কাজে ফেরার জন্য এটা অনেক বেশি তাড়াতাড়ি।
আদালতের নথিতে কেবল ব্লেকের বার্তাই নয়, বরং জাস্টিন বালডোনির একটি উত্তরও রেকর্ড করা হয়েছে। সিনেমার একটি ছাদের দৃশ্যে ব্লেক কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন। সেই পরিবর্তন ও পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর বালডোনি একটি ভয়েস নোটে ব্লেকের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে তখন পেশাদার আলোচনা হলেও পরবর্তীতে তা তিক্ততায় রূপ নেয়।
ব্লেক লাইভলি অভিযোগ করেছেন সেটে বালডোনি তাকে যৌন নিপীড়ন বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে ফেলেছিলেন। অন্যদিকে বালডোনি একে ভিত্তিহীন দাবি করে পাল্টা মানহানির মামলা করেছেন।
নিউইয়র্কের আদালতে এ হাই প্রোফাইল মামলার মূল বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে আগামী মে মাসে। ব্লেক ও বালডোনির এ দ্বন্দ্ব কেবল একটি ব্যক্তিগত বিবাদ নয়, বরং হলিউডের শুটিং সেটে কাজের পরিবেশ এবং মাতৃত্বকালীন বিরতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। আদালতের নথিতে ফাঁস হওয়া এ ভয়েস মেসেজগুলো মামলার রায়ে কতটুকু প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
ইএইচ