ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬
ইসরায়েলে গণবিক্ষোভ

নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে ‘অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের’ ডাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে ‘অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের’ ডাক

ইসরায়েলের রাজপথ এখন জনসমুদ্র। গাজা যুদ্ধ, জিম্মি মুক্তি এবং সরকারের বিচারিক সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এখন এক মহাবিস্ফোরণে রূপ নিয়েছে। 

শনিবার দিবাগত রাতে তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার মানুষ বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে রাজপথে নেমে আসেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ইসরায়েলকে তার ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল গাজায় নিহত শেষ জিম্মি রন গিভিলির দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনার দাবি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় গিভিলিকে জিম্মি করা হয়েছিল। সম্প্রতি তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে তার পরিবার এবং সাধারণ নাগরিকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। গিভিলির নিজ শহর মেইতারেও এদিন শোকাবহ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার জীবিত জিম্মিদের ফেরাতে যেমন ব্যর্থ হয়েছে, তেমনি মৃতদের দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনতেও চরম উদাসীনতা দেখাচ্ছে।

বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে একটি ‘রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন’ গঠন করা।

বিক্ষোভকারীদের অবস্থান: তারা চান একটি নিরপেক্ষ এবং বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন, যা সরকারের নীতি-নির্ধারকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনবে।

সরকারের পরিকল্পনা: টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু প্রশাসন একটি 'রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত' তদন্ত কমিটি গঠনের চেষ্টা করছে। বিক্ষোভকারীদের মতে, এটি কেবল ব্যর্থতা ধামাচাপা দেওয়ার একটি অপকৌশল মাত্র।

বিক্ষোভ সমাবেশে সবচেয়ে আলোচিত ছিল সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও আইডিএফ (IDF) প্রধান মোশে ইয়ালোনের ভাষণ। তিনি ইসরায়েল সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ডকে ইরানের ‘কর্তৃত্ববাদী শাসনে’র সঙ্গে তুলনা করেছেন।

তিনি চরম ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ইরানে যেভাবে বিক্ষোভ দমন করা হয়, বেন-গভির তা দেখে ঈর্ষান্বিত হন এবং ইসরায়েলেও একই ধরনের দমন-পীড়ন চালাতে চান। এই মন্তব্য ইসরায়েলি রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

বিক্ষোভকারীরা কেবল গাজা ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ নেই, তারা সরকারের বিতর্কিত বিচারিক সংস্কার পরিকল্পনারও ঘোর বিরোধী। অভিযোগ উঠেছে যে, সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে আদালতের ক্ষমতা খর্ব করতে চাইছে যাতে ক্ষমতাসীন জোট তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলো বিনা বাধায় বাস্তবায়ন করতে পারে। বিক্ষোভকারীদের মতে, এটি ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মূলে কুঠারাঘাত।

শনিবার রাতের বিক্ষোভে হিব্রু গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে, হাবিমা স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষ স্লোগান-সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান নেন। এখনই নির্বাচন চাই, ব্যর্থতার দায় নিয়ে বিদায় নিন এবং 'তদন্ত কমিশন গঠন করুন—এমন সব দাবিতে মুখরিত ছিল তেল আবিবের আকাশ-বাতাস।

বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কেবল আন্তর্জাতিক চাপেই নেই, বরং নিজ দেশের অভ্যন্তরেও জনসমর্থন হারিয়েছেন। একদিকে গাজা ও লেবানন সীমান্তে যুদ্ধ, অন্যদিকে দেশের ভেতর হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ সরকারকে চরম অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে। ইয়ালোনের মতো জ্যেষ্ঠ সামরিক ব্যক্তিত্বদের রাজপথে নেমে আসা প্রমাণ করে যে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বড় অংশও বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বে সন্তুষ্ট নয়।

ইসরায়েলের এই গণবিক্ষোভ কেবল সাময়িক কোনো প্রতিবাদ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি ও নিরাপত্তার আমূল পরিবর্তনের দাবি। ৭ অক্টোবরের ট্র্যাজেডি এবং পরবর্তী যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সরকার যদি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন না করে, তবে এই বিক্ষোভ অচিরেই গৃহযুদ্ধের মতো অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এএন

Link copied!