ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

লন্ডন-বেইজিং সখ্যতায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: স্টারমারকে সতর্কবার্তা ওয়াশিংটনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

লন্ডন-বেইজিং সখ্যতায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: স্টারমারকে সতর্কবার্তা ওয়াশিংটনের

আটলান্টিকের দুই পাড়ের দুই মিত্র দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যখন বেইজিংয়ে বসে চীনের সাথে অর্থনৈতিক সুফলের স্বপ্ন দেখছেন, ঠিক তখনই ওয়াশিংটন থেকে সতর্কঘণ্টা বাজালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

ট্রাম্পের মতে, চীনের সাথে ব্রিটিশদের এ মাখামাখি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের জন্যই বিপদ ডেকে আনবে।

গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে মেলানিয়া চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

সেখানে চীন ও যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য বিনিয়োগ চুক্তি ও ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, ওদের জন্য এটা করাটা খুবই বিপজ্জনক হবে। যদিও এ বিপদের ধরন নিয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি, তবে তার সংক্ষিপ্ত এ মন্তব্যেই মার্কিন প্রশাসনের কড়া মনোভাব ফুটে উঠেছে।

ট্রাম্পের এ মন্তব্যের ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে বেইজিংয়ে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সাথে প্রায় তিন ঘণ্টা ব্যাপী এক দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ফুটবল থেকে শুরু করে শেক্সপিয়ার, নানা অনুষঙ্গ উঠে এলেও মূল লক্ষ্য ছিল বাণিজ্য। স্টারমার চীনের বাজারে ব্রিটিশ পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, শুল্ক হ্রাস এবং নতুন বিনিয়োগ চুক্তির ওপর জোর দিয়েছেন। 

বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ইউকে চায়না বিজনেস ফোরাম এর বৈঠকে স্টারমার বলেন, সি চিন পিংয়ের সাথে তার আলোচনা ছিল খুবই উষ্ণ এবং এতে বাস্তব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বিশেষ করে স্কচ হুইস্কির ওপর শুল্ক কমানো এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগকে তিনি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

ট্রাম্পের এ সতর্কতা কেবল কথার কথা নয়। গত সপ্তাহে তিনি প্রতিবেশী দেশ কানাডার ওপরও শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সম্প্রতি বেইজিং সফর করে অর্থনৈতিক চুক্তি করার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের রোষানলে পড়েছে দেশটি। 

বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাজ্য যদি ওয়াশিংটনকে উপেক্ষা করে বেইজিংয়ের সাথে বড় কোনো চুক্তিতে যায়, তবে লন্ডনের ওপরও একই ধরনের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। 

উল্লেখ্য, আগামী এপ্রিলে ট্রাম্পের নিজেরও চীন সফরের কথা রয়েছে, যা এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সাধারণত কিয়ার স্টারমারকে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমালোচনা এড়িয়ে চলতে দেখা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি বদলেছে। ট্রাম্পের একটি মন্তব্যের জন্য স্টারমার তাকে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে কিছু ন্যাটো সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গেছে, যা স্টারমার কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। এ ছাড়া ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবির বিপরীতেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

ট্রাম্পের এ বিপজ্জনক মন্তব্যের পর রয়টার্স ডাউনিং স্ট্রিট এবং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্টারমারের সফরসঙ্গী কর্মকর্তারা মনে করছেন, ব্রেক্সিট পরবর্তী অর্থনীতিকে চাঙা করতে চীনের সাথে বাণিজ্য বাড়ানো ছাড়া যুক্তরাজ্যের সামনে বিকল্প খুব কম। 

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন যখন চীনের সাথে সব ধরনের অর্থনৈতিক বিচ্ছেদ বা ডিকাপলিং ঘটাতে চায়, তখন যুক্তরাজ্যের এ বিপরীতমুখী অবস্থান পশ্চিমা জোটের ঐক্যে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। স্টারমারের বাস্তব অগ্রগতি বনাম ট্রাম্পের বিপজ্জনক তকমা এ দুই মেরুর টানাপোড়েনে আগামী দিনে বিশ্ববাণিজ্য কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ইএইচ

Link copied!