ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

পাকিস্তানে ১৯ দেশের সম্মিলিত সামরিক মহড়া শুরু: অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম

পাকিস্তানে ১৯ দেশের সম্মিলিত সামরিক মহড়া শুরু: অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব

পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে শুরু হয়েছে নবম আন্তর্জাতিক পাকিস্তান আর্মি টিম স্পিরিট ২০২৬ প্রতিযোগিতা। বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি এক বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১৯টি বন্ধুপ্রতিম দেশের অংশগ্রহণে এ বিশেষ সামরিক মহড়া শুরু হয়। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোও রয়েছে। 

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ার পাব্বি শহরে অবস্থিত ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টারে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এ আয়োজনটি মূলত একটি টানা ৬০ ঘণ্টা ব্যাপী টহল বা পেট্রোলিং অনুশীলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী আয়োজিত এ বার্ষিক মহড়াটি অত্যন্ত কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং হিসেবে পরিচিত। 

আইএসপিআর এর তথ্যমতে, এ প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য একজন সেনাসদস্যের সর্বোচ্চ পর্যায়ের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক সহনশীলতা এবং সামরিক পেশাদারিত্বের প্রয়োজন হয়। মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধক্ষেত্রের মতো বাস্তবসম্মত এবং চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে তাৎক্ষণিক ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা যাচাই করা। এ ছাড়া অতি ক্ষুদ্র ও সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্য অর্জনে কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে উদ্ভাবনী ধারণা ও সর্বোত্তম সামরিক চর্চা বিনিময়ের মাধ্যমে একে অপরের সাথে কাজ করার সক্ষমতা বাড়ানো এ মহড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য।

আইএসপিআর জানিয়েছে, এবারের আসরে ১৯টি বন্ধুপ্রতিম দেশ থেকে মোট ২৪টি আন্তর্জাতিক দল অংশগ্রহণ করছে। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, সৌদি আরব, বাহরাইন, বেলারুশ, মিসর, ইরাক, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মরক্কো, নেপাল, কাতার, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং উজবেকিস্তান। এ ছাড়া তিনটি দেশ ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ড এ আন্তর্জাতিক মহড়ায় পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে অংশ নিচ্ছে। 

বিদেশে থেকে আসা দলগুলোর পাশাপাশি পাকিস্তানের নিজস্ব ১৬টি স্থানীয় দল যারা সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী থেকে এসেছে তারা এ প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এ ছাড়া পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সদস্যরাও এ আয়োজনে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন।

পাকিস্তান আর্মি টিম স্পিরিট বা প্যাটস মহড়াটি পাকিস্তানে প্রতিবছরই আয়োজিত হয়। এর আগে অষ্টম আসরটি গত বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এটি মূলত নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক এবং মিশন ওরিয়েন্টেড একটি পেশাদার সামরিক মহড়া। 

আইএসপিআর এর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এ মহড়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো দলীয় সংহতি বা টিম স্পিরিটের মাধ্যমে সেনাসদস্যদের মধ্যে অদম্য ধৈর্য ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করা। এটি সৈনিকের মৌলিক গুণাবলিকে শাণিত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করে।

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পাব্বিতে আয়োজিত এ মহড়াটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সামরিক সমন্বয় খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং তুরস্কের মতো সামরিক শক্তিধর দেশের পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এ মহড়াকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী এ কেন্দ্রে মহড়া আয়োজনের মাধ্যমে পাকিস্তান তার কাউন্টার টেরোরিজম সক্ষমতা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে। আন্তর্জাতিক দলগুলোর জন্য এটি একটি বিরল সুযোগ যেখানে তারা প্রায় বাস্তব যুদ্ধের ন্যায় প্রতিকূল পরিবেশে নিজেদের সামরিক দক্ষতা যাচাই করতে পারছে। 

১৯টি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর এ মিলনমেলা কেবল সামরিক শক্তির মহড়া নয়, বরং এটি বিশ্বশান্তি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যকার ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার এক অনন্য নিদর্শন। ৬০ ঘণ্টার এ টানা অনুশীলনের ফলাফল শেষ পর্যন্ত কোন দেশের ঝুড়িতে যায় এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ইএইচ

Link copied!