আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুলাই ৬, ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি রাজধানীতে দ্বিতীয় বড় হামলা। এতে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৪৬ জন। হামলার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, হামলার পর শহরের ২০টিরও বেশি স্থানে উদ্ধার অভিযান চলছে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত দুটি জেলায় বহুতল আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হতাহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই হামলা এমন সময় চালানো হলো, যখন ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের কথা রয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, বৃহস্পতিবারের প্রাণঘাতী হামলার পর রাশিয়া কিয়েভে আরও একটি বড় আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারের হামলায় ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেন, রাশিয়ার ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানে। এতে কয়েকটি আবাসিক ভবনে আগুন ধরে যায়। পাশাপাশি কয়েকটি গুদামঘর এবং একটি গ্যারেজ ওয়ার্কশপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে রোববার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ঝাপোরিঝঝিয়াতেও দুটি রুশ গাইডেড বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন আরও দুই পুলিশ সদস্য। এছাড়া দুই শিশুসহ অন্তত ১৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলায় আবাসিক ভবন, ব্যক্তিগত বাড়িঘর এবং অন্তত ৩৫টি অ্যাপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক গভর্নর।
অন্যদিকে পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত শহর কস্তিয়ানতিনিভকা পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। একই সঙ্গে নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের মরদেহ হস্তান্তরের জন্য ছয় ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তবে ইউক্রেন সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি বলেও দাবি করেছে ক্রেমলিন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী রুশ অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেন সীমান্তজুড়ে একটি ‘বাফার জোন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তার দাবি, খারকিভ, সুমি এবং দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের কিছু অংশজুড়ে ধাপে ধাপে এই পরিকল্পনা কার্যকর হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তবে রাশিয়ার এসব দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার অভিযোগ, কস্তিয়ানতিনিভকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে মস্কো।
এএন