ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬

আইএপিবি প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

জুলাই ৬, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম

আইএপিবি প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, অন্ধত্ব নিবারণ এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা হ্রাসে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের ক্যাবিনেট ডিভিশনে (মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ) প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেস (আইএপিবি)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পিটার হ্যালন্ড।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোতে চক্ষু চিকিৎসাকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। পরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক যৌথ মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ডা. এম এ মুহিত এবং পিটার হ্যালন্ড বৈঠকের মূল বিষয় ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।

বৈঠকে মূলত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অন্ধত্ব নিবারণ এবং পরিহারযোগ্য দৃষ্টিহীনতা (Avoidable Blindness) দূর করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি সুস্থ ও উৎপাদনশীল জাতি গঠনে নাগরিকদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। অন্ধত্ব বা দৃষ্টিহীনতা কেবল একজন ব্যক্তির জীবনকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে না, বরং তা পরিবার ও জাতীয় অর্থনীতিতেও স্থবিরতা নিয়ে আসে। 

আইএপিবির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চক্ষু চিকিৎসা পৌঁছে দিতে চাই।

আলোচনায় উঠে আসে যে, বাংলাদেশে ছানিজনিত অন্ধত্ব (Cataract), গ্লুকোমা, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি এবং শিশুদের দৃষ্টিত্রুটির মতো সমস্যাগুলো দিন দিন বাড়ছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় আইএপিবি কীভাবে প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহায়তা দিতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত রোডম্যাপ তৈরির বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে।

বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানান, বর্তমান সরকার দেশের স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত সংস্কারের ওপর কাজ করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে খুব সহজেই চোখের উন্নত চিকিৎসা পায়, সেজন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

ডা. এম এ মুহিত বলেন, আইএপিবি প্রধানের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা মূলত তিনটি বিষয়ে জোর দিচ্ছি- প্রথমত, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার (Primary Health Care) সঙ্গেই চক্ষু পরীক্ষাকে যুক্ত করা, দ্বিতীয়ত, দক্ষ চোখের ডাক্তার, টেকনিশিয়ান ও নার্স তৈরিতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ,এবং তৃতীয়ত, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ। আইএপিবি আমাদের এই রূপকল্প বাস্তবায়নে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, জাতীয় চক্ষু স্বাস্থ্য নীতিমালা (National Eye Health Plan) আরও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব পুরোপুরি নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে আইএপিবি-এর প্রধান নির্বাহী পিটার হ্যালন্ড বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের জনমুখী স্বাস্থ্য ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাতের নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তা প্রশংসনীয়। বিশেষ করে বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে স্বাস্থ্য খাতকে আধুনিক ও বৈষম্যহীন করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অন্ধত্ব প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখবে।

পিটার হ্যালন্ড আরও যোগ করেন, বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ এমন সব দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছেন যা সামান্য সচেতনতা কিংবা সাধারণ চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। বাংলাদেশেও আমরা সরকারের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী। আমরা শুধু চিকিৎসা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব না, বরং বাংলাদেশে একটি টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদি চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা মডেল তৈরিতে কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রসারিত করব।

তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) গাইডলাইন অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে পরিহারযোগ্য অন্ধত্ব দূরীকরণের যে বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, বাংলাদেশ সরকার সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

বৈঠক সূত্র জানায়, এই সৌজন্য সাক্ষাতের ধারাবাহিকতায় আগামীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং আইএপিবির বিশেষজ্ঞ দলের মধ্যে একাধিক টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হবে। পারস্পরিক সহযোগিতার প্রধান ক্ষেত্রগুলো হবে, ডিজিটাল আই-হেলথ ও টেলিমেডিসিন, দেশের দুর্গম এলাকার রোগীরা যাতে রাজধানীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ পেতে পারেন, সেজন্য টেলিমেডিসিন ব্যবস্থার উন্নয়ন।

 স্কুল স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের চোখের ত্রুটি দ্রুত শনাক্তকরণের জন্য দেশব্যাপী বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা।

 সচেতনতা বৃদ্ধি,অন্ধত্ব প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রচারণা জোরদার করা।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইএপিবি প্রধানকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রশাসনিক ও নীতিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। এই দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের ফলে দেশের লাখ লাখ মানুষ অন্ধত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে এবং একটি সুস্থ-সবল সমাজ বিনির্মাণ ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

জেএইচআর

Link copied!