আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুলাই ১৬, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ব্রাজিল থেকে আমদানি করা নির্বাচিত কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, ব্রাজিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্যায্য বাণিজ্যনীতি অনুসরণ করছে। তবে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে মার্কিন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ব্রাজিল সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর জানায়, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তে ব্রাজিলের ডিজিটাল বাণিজ্য, ইলেকট্রনিক অর্থ লেনদেন, মেধাস্বত্বসহ বিভিন্ন খাতের নীতিমালা পর্যালোচনা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ব্রাজিলের কয়েকটি নীতিমালা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ব্রাজিলের আদালতের নির্দেশে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন তথ্যবস্তু অপসারণ এবং ব্যবহারকারী হিসাব স্থগিতের ঘটনাকে তারা অন্যায্য বাণিজ্যিক বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালিত তাৎক্ষণিক অর্থ লেনদেন ব্যবস্থা ‘পিক্স’-কে অগ্রাধিকার দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকট্রনিক অর্থ লেনদেন সেবাদাতারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ভারত ও মেক্সিকোর তুলনায় মার্কিন রপ্তানিকারকদের কম সুবিধা দিয়েছে ব্রাজিল।
তবে নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে কমলা, কমলার রস, কিছু জ্বালানি পণ্য এবং মহাকাশ ও উড়োজাহাজ শিল্পের যন্ত্রাংশ।
অন্যদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কার্যালয় এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ব্রাজিল তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
উল্লেখ্য, গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হওয়া ৩০১ ধারার তদন্তে ব্রাজিলের দুর্নীতিবিরোধী আইন প্রয়োগ, ইথানল বাজারে প্রবেশাধিকার, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং অবৈধ বন উজাড় প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপও পর্যালোচনা করা হয়।
সাম্প্রতিক এই শুল্ক আরোপের ফলে পশ্চিম গোলার্ধের দুই বৃহৎ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তবে বিরোধ নিরসনে আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
এম জি