আব্দুল কাইয়ুম
অক্টোবর ৭, ২০২৩, ১২:০১ এএম
তৃতীয় টার্মিনালে আধুনিক সব সুবিধা থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হবে না
—এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান চেয়ারম্যান, বেবিচক
আধুনিক সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন ও অত্যাধুনিক সুসজ্জিত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জান্তিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের প্রায় ৮৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন টার্মিনালটি বিশ্বমানের সব সুযোগ-সুবিধা ও যাত্রী পরিষেবা দিয়ে দেশের চিত্র পাল্টে দেবে বলে আশা প্রকাশ করছে কর্তৃপক্ষ। আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন এই টার্মিনালটির আংশিক উদ্বোধন করবেন। তৃতীয় টার্মিনালটি উদ্বোধন করা হলেও এটির সেবা পেতে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হবে আরও এক বছর। অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। প্রখ্যাত ডিজাইনার স্থপতি রোহানি বাহারিন টার্মিনাল ভবনের নকশা তৈরি করেছেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের নকশাকার রোহানি বাহারিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ভবনের নকশা করেছেন। এছাড়াও তিনি চীনের গুয়াংজুর এটিসি টাওয়ার, ভারতের আহমেদাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইসলামাবাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের নকশা তৈরি করেছেন।
বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালে এই প্রথম মুভিং ওয়াক স্থাপন করা হয়েছে। এতে যাত্রীরা খুব সহজেই ইমিগ্রেশন থেকে উড়োজাহাজের কাছ পর্যন্ত চলে যেতে পারবেন। এছাড়াও উড়োজাহাজ থেকে নেমে কিছু পথ হেঁটে কিছু পথ মুভিং ওয়াক ব্যবহার করে ইমিগ্রেশনে যেতে পারবেন। তবে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রী এবং শিশুরা।
আজ শনিবার থেকে এয়ারলাইনগুলো টার্মিনালের নতুন পার্কিং লট ব্যবহার করতে পারবে। সেগুলো সম্পন্ন হলে যাত্রীরা ২০২৫ সালে এগুলোর সুবিধা পাবেন। এ জন্য জাপানের অনুমতি নিতে হয়েছে। আগামী বছর ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ চালু হবে। আপাতত চালু হবে ১২টি। তৃতীয় টার্মিনালের ডাবল এন্ট্রি ব্রিজসহ ১২টি বোর্ডিং গেট আগামী বছরের মধ্যে চালু হবে। পরবর্তী ১৪টি বোর্ডিং ব্রিজ পরবর্তী সময় চালু হবে। টার্মিনালটি পুরোদমে চালুর পর শাহজালাল বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী হ্যান্ডলিং ক্ষমতা দাঁড়াবে দুই কোটি, যা বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৮০ লাখ। ৩৭টি নতুন এয়ারক্রাফট পার্কিং এরিয়া এবং এপ্রোন এলাকায় সংযোগকারী দুটি ট্যাক্সিওয়ের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পাঁচ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে তৃতীয় টার্মিনালের ফ্লোর স্পেস দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। সেখানে রয়েছে ১৭৭টি চেক ইন কাউন্টার, ৬৪টি বহির্গমন ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং ৬৪টি আগমন ইমিগ্রেশন ডেস্ক।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর। ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নির্মাণ ব্যয়ের মধ্যে সরকার দিয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) প্রকল্পের বাকি অংশ অর্থায়ন করবে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের শেষদিকে এই টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ পাবেন যাত্রীরা। তখন এ টার্মিনালে বছরে এক কোটি ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেয়া সম্ভব হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন দেশের অন্তত ১৫টি নতুন বিদেশি এয়ারলাইন্স ইতোমধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টামিনাল থেকে ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাছাড়া শাহজালাল বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২-এ বর্তমানে ৩০টি এয়ারলাইন্স প্রায় ১৫০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে এবং প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার যাত্রীকে পরিষেবা দেয়া হচ্ছে, যা বছরে প্রায় ৮০ লাখ যাত্রী সেবা পাচ্ছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের বিষয়ে জানতে চাইলে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করবেন।
এর ফলে দেশবাসীর জন্য একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবে। টার্মিনালটি আমাদের সক্ষমতাকে অনেকগুণ বাড়িয়ে দেবে। অত্যাধুনিক ও মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। বিশ্বের যে কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সমতুল্য হবে এটি। তবে পরিপূর্ণ সেবা পেতে আরও এক বছর অপেক্ষা করতে হবে যাত্রীদের। কারণ এখনো ভেতরের কিছু কাজ ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের বিষয় বাকি রয়েছে। যদিও আমাদের লক্ষ্য ছিল উদ্বোধনের আগে ৯০ শতাংশ কাজ শেষ করব। তবে বিভিন্ন কারণে আমরা ৮৯ শতাংশ কাজ শেষ করতে পেরেছি। কিছু সুবিধা এখন থেকেই পাবেন সবাই। তৃতীয় টার্মিনালে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকায় কোনো ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হবে না যাত্রীদের। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে নজর দেয়া হয়েছে, যাতে কেউ সমস্যার সম্মুখীন না হন। দেশবাসী দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশা করে আসছেন, তা এর মধ্যমে বাস্তবায়ন হবে।