ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

জাতীয় রক্ত গ্রুপ নির্ণয় দিবস আজ

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

ডিসেম্বর ৭, ২০২৫, ০১:৩৬ পিএম

জাতীয় রক্ত গ্রুপ নির্ণয় দিবস আজ

রক্ত মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য একটি তরল এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে এর সঠিক জ্ঞান মানুষের প্রাণ বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রক্ত শরীরের কোষগুলিতে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করে, বর্জ্য পদার্থ বহন করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং হরমোন, ভিটামিন ও অ্যান্টিবডি পরিবহণে সাহায্য করে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরে সাধারণত ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে। রক্তের গ্রুপের সঠিক জ্ঞান জরুরি, কারণ রক্তদান ও রক্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে রক্তের ধরণ মিলানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রক্তের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে ১৯০০ সালে, যখন নোবেলজয়ী চিকিৎসক কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার প্রথম রক্তের গ্রুপ সিস্টেম আবিষ্কার করেন। এরপর ১৯৩৭ সালে ল্যান্ডস্টেইনার ও আলেকজান্ডার এস. উইনার যৌথভাবে আরএইচ ফ্যাক্টর আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কারের ফলে রক্ত সঞ্চালন আরও নিরাপদ ও কার্যকর হয়। প্রধান চারটি রক্তের গ্রুপ হলো: ‘ও’, ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘এবি’, যা আরএইচ ফ্যাক্টরের উপর ভিত্তি করে পজিটিভ বা নেগেটিভ হিসেবে ভাগ করা হয়। 

বাংলাদেশের জনসংখ্যার মধ্যে রক্ত গ্রুপের অনুপাত হলো: ও পজিটিভ ৩১.১৮%, ও নেগেটিভ ১.৩৯%, এ পজিটিভ ২১.৪৪%, এ নেগেটিভ ০.৯৬%, বি পজিটিভ ৩৪.৫৮%, বি নেগেটিভ ০.৯৬%, এবি পজিটিভ ৮.৮৫%, এবি নেগেটিভ ০.৬৪%।

বিশ্বে বিরল রক্তের গ্রুপও রয়েছে। যেমন, ‘আরএইচ-নাল’ বা গোল্ডেন ব্লাড, যা অতি বিরল এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে প্রতিটি মানুষের রক্তের গ্রুপ জানা থাকা জরুরি হয়ে দাঁড়ায়।

জাতীয়ভাবে রক্তের নিরাপদ সঞ্চালন নিশ্চিত করতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষা করতে ৭ই ডিসেম্বর ২০২৫ রোজ রবিবার জাতীয় রক্ত গ্রুপ নির্ণয় দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান স্বাধীন (SHADHIN)। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেদিন থেকেই রাজধানী থেকে তৃণমূল গ্রাম পর্যন্ত বিনামূল্যে ও নামমাত্র মূল্যে রক্ত গ্রুপ নির্ণয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

স্বাধীন সংগঠন শিক্ষা ও পেশাজীবী ডিপ্লোমা ধারী ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে পুরো দেশব্যাপী রক্ত গ্রুপ নির্ণয়, রক্ত গ্রহণ-প্রদান এবং পরীক্ষামূলক কাজ সম্পন্ন করে। তাদের এই কার্যক্রমের মাধ্যমে জরুরি অবস্থায় রক্ত সরবরাহ দ্রুত ও নিরাপদে করা সম্ভব হচ্ছে।

দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ জনগণকে রক্ত গ্রুপ নির্ণয়ে উৎসাহিত করা এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানের জন্য উদ্বুদ্ধ করা। সঠিক রক্ত গ্রুপ জানা থাকলে নিকটজন বা অসহায় রোগীর জীবন রক্ষা দ্রুত সম্ভব হয়। এ কারণে এই দিবসকে ‘জানা থাকলে রক্তের গ্রুপ জরুরি দরকারে লাগবে খুব’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে পালন করা হবে।

রক্ত গ্রুপ নির্ণয় সাধারণত একটি সহজ ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে করা হয়। আঙুলের ডগা বা শিরা থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে লোহিত রক্তকণিকার অ্যান্টিজেন এবং প্লাজমার অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার নিজস্ব রক্ত গ্রুপের পাশাপাশি অন্যান্য রক্তের ধরণ সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

স্বেচ্ছায় রক্তদান মানবকল্যাণের এক মহৎ কাজ। এটি গ্রহীতার জীবন বাঁচায়, দাতার কোনো ক্ষতি করে না এবং দেশের স্বচ্ছ ও নিরাপদ রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থার ভিত্তি দৃঢ় করে। স্বাধীন সংগঠন বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে রক্ত গ্রুপ নির্ণয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

জাতীয় রক্ত গ্রুপ নির্ণয় দিবস উদযাপনের মাধ্যমে দেশের তরুণ ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলা হবে যাতে প্রতিটি নাগরিক তার রক্ত গ্রুপ সম্পর্কে অবগত থাকে। এতে জরুরি অবস্থায় স্বেচ্ছায় রক্তদান করে মানুষের জীবন রক্ষা সম্ভব হবে, দাম্পত্য জীবনে ও সন্তান জন্ম দানে রক্তের জটিলতা দূর হবে এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে।

এই দিবসকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আয়োজন করা হবে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও রক্ত গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্প, যেখানে সকল শ্রেণির মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারবে। রাষ্ট্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে নিরাপদ ও দ্রুত রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

জেএইচআর

Link copied!