বিশেষ প্রতিবেদক
জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়েছেন। সভায় তিনি গণমাধ্যমের সংস্কার, আগামী নির্বাচন এবং ক্রিকেটের মাঠে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপসহ সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
সাংবাদিক সুরক্ষা ও সম্প্রচার অধ্যাদেশ
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানান, সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, আমরা এক মাসের মধ্যে একটি সম্প্রচার এবং সাংবাদিক সুরক্ষা অধ্যাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছি। এটি কার্যকর হলে গণমাধ্যমকর্মীরা কোনো ভয়-ভীতি ছাড়াই তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এছাড়া একটি শক্তিশালী 'মিডিয়া কমিশন' গঠনের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মোস্তাফিজ ইস্যু: আইপিএল সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত
সম্প্রতি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ কাজ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, খেলার মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আসা হয়েছে। যে যুক্তিতে মোস্তাফিজুরকে বাদ দেয়া হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। এ দেশের জনগণের মনে এতে বড় আঘাত লেগেছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে চুপ করে বসে থাকব না। আমাদেরকেও একটি অবস্থান নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তার আইনি দিকগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আইপিএলের প্রচার ও বিজ্ঞাপনের ওপর কোনো ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচনী পরিবেশ ও রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান বলেন, দেশে এখন নির্বাচনের জন্য গ্রহণযোগ্য পরিবেশ বিদ্যমান। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে ভিন্ন ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই।
তিনি আরও পরিষ্কার করেন যে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন এবং দেশ সুন্দরভাবে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তা ও বিবিধ সংস্কার
তথ্য উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, সংস্কারের মাধ্যমে সাংবাদিকতায় ডিজিটাল নজরদারি বা হয়রানি বন্ধ করা হবে। সাইবার সিকিউরিটি সংক্রান্ত বিতর্কিত আইনগুলো সংশোধন বা বাতিলের কাজ চলছে। এছাড়া গণভোটের প্রচার-প্রচারণায় গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এএন