ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড বাপ্পি কলকাতায়, ‘পুলিশ’ পরিচয়ে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে আত্মগোপন

আমার সংবাদ ডেস্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক

জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড বাপ্পি কলকাতায়, ‘পুলিশ’ পরিচয়ে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে আত্মগোপন

ঢাকার মিরপুর এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি এখন ওপার বাংলার আশ্রয়ে। ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদিকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যার নেপথ্য কারিগর হিসেবে অভিযুক্ত এই নেতা দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কলকাতার একটি আবাসিক এলাকায় পরিচয় গোপন করে বসবাস করছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কলকাতার রাজারহাট এলাকার ওয়েস্ট বেড়াবেড়ি ও মেঠোপাড়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত ‘ঝনঝন গলি’ নামক পাড়ায় একটি চারতলা ভবনে বাপ্পির অবস্থান। ওই ভবনের প্রথম তলার ‘এ৩’ নম্বর ফ্ল্যাটে তিনি ডেরা গেঁড়েছেন। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, নিজেকে আড়াল করতে বাপ্পি সেখানে নিজের পরিচয় দিয়েছেন ‘বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা’ হিসেবে।

স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি পেলেও তার আসল পরিচয় নিয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। ওই ফ্ল্যাটে তার সঙ্গে ঢাকার শেরে বাংলা নগর থানা এলাকার যুবলীগ নেতা মফিকুর রহমান উজ্জ্বল ও সাজিবুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই বাংলাদেশে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাংবাদিকরা যখন রাজারহাটের ওই নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছান, তখন বাপ্পিকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তার সহযোগী উজ্জ্বল ও সাজিবুল দাবি করেন, বাপ্পি বর্তমানে ফ্ল্যাটে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, গতিবিধি টের পেয়ে তিনি সাময়িকভাবে আস্তানা পরিবর্তন করেছেন অথবা এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও সরে গেছেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কমা ডিবি কমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাদি হত্যাকাণ্ডের ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেছিলেন বাপ্পি নিজেই। তার নির্দেশে ও পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। বাপ্পি ছাড়াও এই মামলার অন্যতম প্রধান আসামি এবং শ্যুটার ফয়সাল করিম এবং তাকে সহায়তাকারী আলমগীর হোসেনও বর্তমানে ভারতেই অবস্থান করছেন বলে ডিবির কাছে নিশ্চিত তথ্য রয়েছে।

আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে যে, বাপ্পি ইতোমধ্যে ভারতের পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। তবে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি স্থানীয় নারায়ণপুর থানা। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, হাদি হত্যার আসামিরা কলকাতায় লুকিয়ে আছেন কমা এমন কোনো দাপ্তরিক তথ্য তাদের কাছে নেই। 

এটি যেহেতু দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার স্পর্শকাতর বিষয়, তাই ভারত সরকার বা স্থানীয় পুলিশ সংবাদমাধ্যমের সামনে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে চাইছে না। সাধারণত বন্দী বিনিময় চুক্তি বা বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ ধরনের আসামিদের হস্তান্তর করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার অংশ।

ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনাটি ঢাকার রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে তাকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই বাপ্পি ও তার সহযোগীরা পলাতক ছিলেন। ডিবি পুলিশ শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল যে, তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

বাপ্পির মতো চিহ্নিত আসামিরা বিদেশে বসে নিজেদের নিরাপদ ভাবলেও বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। ইন্টারপোলের মাধ্যমে লাল নোটিশ জারি বা কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। 

তবে কলকাতায় তাদের পুলিশ পরিচয়ে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকা এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের মতো পরিবেশ বজায় রাখা দুই দেশের অপরাধ দমনে সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

জেএইচআর

Link copied!