ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

ত্রিভুজ প্রেমের ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম: অন্ধ প্রেমে হারানো স্বপ্ন

হাশেম রেজা 

হাশেম রেজা 

অক্টোবর ২৫, ২০২৫, ০৪:৫০ পিএম

ত্রিভুজ প্রেমের ফাঁদে তরুণ প্রজন্ম: অন্ধ প্রেমে হারানো স্বপ্ন

গ্রামের দরিদ্র বাবা সকালে ভোরে মাঠে যান, সারাদিন মাটি কাটেন, ঘামে ভিজে কাপড় ফেরেন বিকেলে। মায়ের হাতে তখনো থাকে জ্বলন্ত চুলা, সন্তান যেন শহরে ভালোভাবে লেখাপড়া করে, সেই আশায় টানাটানির সংসারে একমুঠো ভাত জোটান। বাবা-মা জানেন না তাদের সন্তান শহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামধারী প্রতিষ্ঠানটিতে পড়ছে বটে, কিন্তু পড়ার চেয়ে বেশি ডুবে আছে এক ভিন্ন জগতে অন্ধ প্রেম, প্রতারণা ও ত্রিভুজ সম্পর্কের গোলকধাঁধায়।

এ যেন নতুন প্রজন্মের এক নীরব ট্র্যাজেডি-যেখানে ভালোবাসা নয়, লালসা আর প্রতিযোগিতা মিশে গিয়ে তৈরি করছে আত্মবিনাশের সংস্কৃতি।

অশিক্ষিত বাবা-মা, শিক্ষিত সন্তানের বিভ্রান্তি

গ্রামের কৃষক দম্পতি জানেন না 'ত্রিভুজ প্রেম'মানে কী। তারা শুধু জানেন, তাদের সন্তান মানুষ হবে, একদিন সংসার টানবে, বাবা-মাকে আর কষ্ট পেতে হবে না। কিন্তু শহরে এসে সন্তান যখন শিক্ষার আলো পেয়ে জীবনের লক্ষ্য ভুলে যায়, তখন বাবা-মায়ের অশিক্ষা নয়, সমাজের নৈতিক শূন্যতাই হয়ে ওঠে দায়ী।

শিক্ষা আজ অনেকের কাছে চাকরির সিঁড়ি, কিন্তু নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধির পাঠ যেন হারিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় প্রতিদিনই কোনো না কোনো তরুণ-তরুণীর আত্মহত্যার খবর আসে-কখনো প্রেমঘটিত, কখনো প্রতারণার প্রতিশোধে। আর এই মৃত্যুগুলো নিছক দুর্ঘটনা নয়, এগুলো হলো মূল্যবোধের পতনের ফলাফল।

প্রেম যখন প্রতিযোগিতা, ভালোবাসা হারায় মানে

আজকের তরুণ প্রজন্মের প্রেম যেন আর অনুভূতির প্রকাশ নয়, বরং এক ধরনের প্রতিযোগিতা—কে বেশি আকর্ষণীয়, কে বেশি আধুনিক, কে বেশি ব্যয়বহুল উপহার দিতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ার চকচকে জগতে সম্পর্কের গভীরতা হারিয়ে যাচ্ছে। একজন কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়ায়, পরে আরেকজনের প্রতি আকৃষ্ট হয়, ত্রিভুজ প্রেম , যেখানে থাকে হিংসা, প্রতিশোধ, মান-অভিমান, আর শেষে আত্মহননের পথ।

একসময় যাকে ভালোবেসেছিল, তারই বিশ্বাসঘাতকতায় কেউ গলায় ফাঁস দেয়, কেউ বিষ পান করে, কেউ আবার অন্য কাউকে হত্যা করে। আর এই দৃশ্যগুলো শুধু পত্রিকার খবর নয়, এগুলো আমাদের সমাজের প্রতিদিনের দুঃখগাথা।

বাবা-মায়ের ত্যাগ বনাম সন্তানের দিকভ্রান্তি

যে বাবা প্রতিদিন কষ্টে শ্রম দেয়, যে মা নিজে না খেয়ে সন্তানের পড়াশোনার খরচ যোগায়, সেই সন্তান যখন প্রেমের ফাঁদে পড়ে নিজের জীবন শেষ করে, তখন তা কেবল এক পরিবারের নয়, এক জাতির পরাজয়। একজন মায়ের মুখে শোনা যায়, আমরা লেখাপড়া জানি না, তাই সন্তানকে শহরে পাঠাই, ভেবেছিলাম ও মানুষ হবে। কিন্তু সন্তান ‘মানুষ’ হওয়ার চেয়ে ‘প্রেমিক’ বা ‘প্রেমিকা’ হয়ে ওঠে, তখন সেই অশিক্ষিত বাবা-মায়ের অশ্রু যেন আকাশ বিদীর্ণ করে দেয়। এই হলো আজকের বাস্তবতা-যেখানে জ্ঞানের আলো নৈতিক অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে।

আধুনিকতা নাকি নৈতিক অবক্ষয়?

অনেকে বলেন, প্রেম জীবনের অংশ, এটি নিষিদ্ধ করা যায় না। ঠিকই বলেছেন। প্রেম মানবীয় অনুভূতি, কিন্তু সেটি হতে হবে পবিত্র, সীমার ভেতরে, দায়িত্ববোধে আবদ্ধ। আজকের সমাজে প্রেম মানেই যেন শারীরিক আকর্ষণ, একে অপরের প্রতি অধিকারবোধ, এবং তুচ্ছ কারণে সম্পর্ক ভেঙে প্রতিশোধের মনোভাব।

এভাবে প্রেম যখন আর মূল্যবোধ শেখায় না, বরং আত্মধ্বংস শেখায়, তখন তা হয়ে ওঠে সামাজিক রোগ। এই রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে পারে কেবল আত্মশুদ্ধি, ধর্মীয় সচেতনতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ।

আল্লাহভীতি ও নবী-রাসূলের আদর্শ: সত্যিকারের মুক্তির পথ

মানুষ যখন আল্লাহভীতি হারায়, তখন তার বিবেকও অন্ধ হয়ে যায়। আমরা যদি নবী ও রাসূলদের জীবনের দিকে তাকাই-তাদের ভালোবাসা ছিল স্নেহ, দয়া, ত্যাগ ও পবিত্রতায় ভরা। সেখানে প্রতারণা বা লালসার কোনো স্থান নেই। তরুণ প্রজন্ম যদি এই মহান আদর্শের ছায়ায় নিজেদের গড়ে তোলে, তাহলে প্রেম আর ধ্বংস নয় বরং পরিণত হবে চরিত্র গঠনের প্রেরণায়।

আল্লাহর পথে থাকা মানে আনন্দহীন জীবন নয়, বরং তা হলো অন্তরের শান্তি ও স্থায়ী মর্যাদার জীবন। বাবা-মার সন্তুষ্টি অর্জনই সন্তানের সবচেয়ে বড় প্রেম-এ কথা আমরা ভুলে যাচ্ছি।

ক্ষণিক আনন্দের বিনিময়ে চিরস্থায়ী শোক

ত্রিভুজ প্রেম, প্রতারণাময় সম্পর্ক বা, ভালোবাসার প্রতিশোধ-এসবের পেছনে ক্ষণিকের আনন্দ থাকে, কিন্তু ফল হয় চিরস্থায়ী বেদনা। একজন তরুণের মৃত্যুর পর গ্রামের এক মা যখন কাঁদেন-আমার ছেলেটা শহরে মানুষ হতে গিয়েছিল, কেন ও ফিরে এল কাফনের কাপড়ে? তখন সমাজের প্রতিটি বিবেকবান মানুষকেই প্রশ্ন করে, আমরা কি সঠিক পথে আছি? এক মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্তে, এক অন্ধ প্রেমে, এক ভুল সম্পর্কেই শেষ হয়ে যাচ্ছে হাজারো স্বপ্ন, হাজারো সম্ভাবনা। এখনই সময় তরুণ সমাজকে এই মায়াজাল থেকে বেরিয়ে আসার, নিজেদের লক্ষ্য ও বিশ্বাসকে পুনরুদ্ধার করার।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবার-দায় কার বেশি?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পঠনপাঠনের স্থান নয়, এটি চরিত্র গঠনেরও ক্ষেত্র। কিন্তু অনেক জায়গায় আজ সেই দায়িত্ব উপেক্ষিত। অভিভাবকরা সন্তানের মানসিক অবস্থা জানেন না, শিক্ষকরাও অনেকে ‘নৈতিক শিক্ষা’কে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ফলত, তরুণ-তরুণীরা ভালোবাসার নামে এমন আবেগে জড়িয়ে পড়ছে, যা তাদের আত্মনাশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—দুটিকেই এখন নতুনভাবে ভাবতে হবে: সন্তানের স্বাধীনতা দিতে হবে, কিন্তু সেই স্বাধীনতার সঙ্গে থাকতে হবে আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও নৈতিকতার শিক্ষা।

সমাজের পুনর্জাগরণের আহ্বান

আমাদের সমাজ আজ প্রযুক্তিতে উন্নত, কিন্তু হৃদয়ে অসংখ্য শূন্যতা। এই শূন্যতা পূরণ করতে গিয়ে তরুণ প্রজন্ম খুঁজে ফেরে সহজ ভালোবাসা, তা না পেলে ডুবে যায় প্রতারণার অন্ধকারে। তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে আদর্শ, ধর্মীয় চেতনা ও পারিবারিক উষ্ণতার বন্ধনে।

প্রেম যদি জীবনের অনুপ্রেরণা হয়, তবে তা হতে হবে দায়িত্বশীল, পরিণত ও নৈতিকতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। তরুণরা যদি আল্লাহর ভয় ও বাবা-মায়ের ত্যাগকে স্মরণে রাখে, তবে তারা বুঝবে-ক্ষণিকের আবেগের চেয়ে সারা জীবনের সম্মান ও শান্তিই বড় সম্পদ।

প্রেম নয়, পথ হারানোই বিপদ

ত্রিভুজ প্রেম, প্রতারণা, হিংসাত্ম প্রেম-এসব আজকের সমাজে মৃত্যুর সমান ভয়ানক।
আমাদের তরুণদের বোঝা দরকার, ভালোবাসা নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু তা যেন কখনো নিজের জীবন ও পরিবারকে ধ্বংস করার কারণ না হয়।

যে বাবা-মা কষ্ট করে সন্তানকে শহরে পাঠান, তাদের অশ্রু যেন আবার কোনো অন্ধ প্রেমের জন্য না ঝরে। আমরা যেন প্রেমে নয়, আল্লাহর ভয়ে, নবীর আদর্শে ও বাবা-মায়ের সন্তুষ্টিতে আমাদের জীবনকে সুন্দর করে তুলি।

প্রেম নয়, সঠিক পথে থাকাই হোক তরুণ প্রজন্মের সর্বোচ্চ ভালোবাসা।

জেএইচআর

Link copied!