ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

কাদিয়ানি প্রশ্নে ধর্মীয় বিতর্ক ও বাস্তববাদ

হাশেম রেজা

হাশেম রেজা

নভেম্বর ১৬, ২০২৫, ০৩:৪৩ পিএম

কাদিয়ানি প্রশ্নে ধর্মীয় বিতর্ক ও বাস্তববাদ

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ‘কাদিয়ানি’ বা আহমদিয়া মুসলিম সম্প্র্রদায়কে ঘিরে নতুন করে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বক্তব্য, ধর্মীয় সংগঠনগুলোর দাবি-দাওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তপ্ত বিতর্ক-সব মিলিয়ে এটি যেন রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতাসীন বা বিরোধী-উভয় পক্ষ থেকেই বিভিন্ন সময়ে এই বিষয়টি উত্থাপিত হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, সরকারে এলে কাদিয়ানিদের ‘অমুসলিম’ ঘোষণা করা হবে। কেউ বলছেন, ক্ষমতায় গেলে সংসদে ‘আলোচনা’ হবে। আবার কিছু ধর্মীয় সংগঠন এই প্রশ্নে জনমত সংগঠিত করার চেষ্টা করছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা, সংবিধান, নাগরিক অধিকার এবং ধর্মীয় সহাবস্থান-এর বৃহত্তর বাস্তবতায় এই ইস্যুটি কীভাবে দেখা উচিত? কাদিয়ানিদের ‘অমুসলিম’ ঘোষণা করা বা না করা—এমন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলো কি বাস্তবসম্মত? নাকি এগুলো মূলত ভোট-রাজনীতির একটি সুবিধাজনক কৌশল? ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় আহমদিয়া সম্প্রদায়কে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। কিন্তু সেই ইতিহাসই আমাদের শেখায়-ধর্মীয় পরিচয়কে সংজ্ঞায়িত করার কাজটি অত্যন্ত জটিল, রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, এবং অনেক ক্ষেত্রেই সহিংসতা ও বিভাজনের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

কাদিয়ানিদের পটভূমি ও ধর্মীয় মতবাদ : আহমদিয়া মুসলিম জামায়াত উনিশ শতকের শেষভাগে ভারতের পাঞ্জাবে মির্জা গুলাম আহমদ প্রতিষ্ঠা করেন। সম্প্রদায়টির বিশ্বাস, মির্জা গুলাম আহমদ ‘প্রতিশ্রুত মসিহ’ বা ‘মাহদি’ হিসেবে আগমন করেছিলেন। মূলধারার সুন্নি ও শিয়া আলেম সমাজের বিরাট অংশ এই বিশ্বাসকে ইসলামের মৌলিক আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেন। তাদের মতে, মুহাম্মদ সা.-এর পর কোনো নবীর সম্ভাবনা নেই-সুতরাং মির্জা গোলাম আহমদের দাবিকে ‘নবুয়তের অবসান’ নীতির পরিপন্থি হিসেবে তারা দেখেন। এখান থেকেই আহমদিয়া বা কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে ঘিরে ধর্মীয় আপত্তির সূত্রপাত।

ধর্মীয় তাত্ত্বিক বিতর্ক একদিকে থাকলেও, আহমদিয়া সমপ্রদায় নিজেদের মুসলমান হিসেবেই পরিচয় দেয়। তাদের মসজিদ, ইসলামি আচরণ, নামাজ, রোজা, হজসহ প্রায় সব ধর্মীয় অনুশাসনই ইসলামের মতোই অনুসৃত হয়। কিন্তু মূলধারার আলেম সমাজের আপত্তি কেবল ধর্মতত্ত্বেই সীমাবদ্ধ থাকে না-অধিকাংশ ‘উলামা বোর্ড’, ‘মুসলিম স্কলার্স কাউন্সিল’ বা বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন তাদের ‘অমুসলিম’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় এই বিতর্ক সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করে পাকিস্তানে। ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদ একটি সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে কাদিয়ানিদের ‘অমুসলিম’ ঘোষণা করে। তারপর থেকেই দেশটিতে প্রায় নিয়মিতভাবে সহিংসতা, নিপীড়ন, বৈষম্য ও সন্ত্রাসের শিকার হয়ে আসছেন আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা। কাদিয়ানিদের মসজিদে বোমা হামলা, হত্যা, সামাজিক বয়কট-এসব পাকিস্তানে যেভাবে দৈনন্দিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে, তা বিশ্বের বহু মানবাধিকার সংস্থাই সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।

বাংলাদেশের জন্য পাকিস্তানের উদাহরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে—রাষ্ট্র কি কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, পরিচয় বা ধর্মতাত্ত্বিক অবস্থান নির্ধারণের কাজটি করা উচিত? নাকি এটি আলেমদের ধর্মীয় গবেষণা- রাষ্ট্রের নয়? রাষ্ট্র যখন ধর্মীয় পরিচয়কে আইনি সংজ্ঞায় রূপ দেয়, তখন সমাজে বিভাজন ও সংঘাত আরও গভীর হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের অন্যতম মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে ‘ইসলাম’ রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, আমাদের রাষ্ট্র একই সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতার মূল্যবোধ ধারণ করে এবং ইসলামকে বিশেষ স্বীকৃতিও দেয়। এই দুই বাস্তবতা মিলেই বাংলাদেশের ধর্মীয় সহাবস্থান ও সংখ্যালঘু সুরক্ষার কাঠামো গড়ে উঠেছে।

এখানে প্রশ্ন হলো— সংবিধানের কোথাও কি রাষ্ট্রকে ধর্মীয় সমপ্রদায়ের ‘ধর্মীয় পরিচয়’ নির্ধারণের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে? সংবিধান নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। তবে ধর্মীয় পরিচয় নির্ধারণ বা ধর্মীয় মতবাদের সত্যুমিথ্যা নির্ণয় রাষ্ট্রের কাজ নয়। এ কারণেই স্বাধীনতার পর ৫৩ বছর ধরে বাংলাদেশ কখনও কোনো সমপ্রদায়কে ‘অমুসলিম’ বা ‘অমুসলিম নয়’ বলে সংজ্ঞায়িত করার পথে যায়নি।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট : কাদিয়ানি ইস্যু কি ভোট-রাজনীতির অংশ?

সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কাদিয়ানি প্রশ্নকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। কেউ বলছে ‘ক্ষমতায় গেলে অমুসলিম ঘোষণা’, কেউ বলছে ‘আলোচনা হবে’, আবার কেউ বলছে ‘দাবি পূরণ করা হবে-এসব বক্তব্য আসলে কতটা বাস্তবসম্মত?

বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামো, রাজনৈতিক বাস্তবতা, এবং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি বিবেচনায় নিয়ে দেখা যায়— এ ধরনের ঘোষণা কার্যকর করা সহজ নয়, বরং এর বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ-দুই ক্ষেত্রেই গুরুতর প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

প্রথমত, বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদ, ইউএন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস কনভেনশনসহ বহু আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী। ধর্মীয় স্বাধীনতা এইসব চুক্তির অন্যতম মূলনীতি। কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীকে আইন করে ‘অমুসলিম’ ঘোষণা করা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে।

দ্বিতীয়ত, অভ্যন্তরীণভাবে এটি একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এমন সিদ্ধান্ত অন্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর শঙ্কা বাড়াতে পারে, এবং দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সহাবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তৃতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই ধর্মীয় ভোট ব্যাংককে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কাদিয়ানি ইস্যুটি অনেক ক্ষেত্রেই ধর্মীয় আবেগকে উত্তেজিত করার একটি সহজ উপায় হিসেবে ব্যবহূত হয়। ফলে এটি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হয়ে ওঠে।

উলামা সমাজের দাবি : বিভিন্ন ইসলামী দল, মসজিদ মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন ও আলেম-উলামা বহু বছর ধরে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের বক্তব্য ধর্মতাত্ত্বিক-ইসলামের মৌলিক আকিদার আলোকে তাদের এই অবস্থান। ইসলামি ফিকহ, আকিদা ও ঐতিহাসিক বিতর্ক অনুযায়ী তারা মনে করেন কাদিয়ানিরা ইসলামের মূল বিশ্বাসের বাইরে অবস্থান করছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো— ধর্মতাত্ত্বিক সিদ্ধান্ত কি রাষ্ট্রীয় আইন হওয়া উচিত? বাংলাদেশের মতো বহুধর্মী সমাজে ধর্মীয় ইস্যু রাষ্ট্রীয় আইনে পরিণত হলে এর সামাজিক প্রভাব কতটা গুরুতর হতে পারে, তা কী আমরা পর্যাপ্তভাবে বিবেচনা করি? ধর্মীয় আলোচনার জন্য আলেম সমাজের নিজস্ব কাঠামো, মতবাদের ব্যাখ্যা এবং গবেষণাগার রয়েছে। তারা তাদের অবস্থান প্রকাশ করতে পারেন-এটাই তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা। কিন্তু রাষ্ট্রীয় আইন মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা রাখে। তাই দুই ক্ষেত্রকে এক করে ফেলা বিপজ্জনক।

বাংলাদেশে আহমদিয়া সমপ্রদায় সংখ্যায় খুবই কম। তাদের বেশির ভাগই শান্তিপ্রিয়, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন, এবং প্রায়ই হয়রানি ও সামাজিক বর্জনের শিকার হয়েছেন। গত ৩০ বছরে তাদের ওপর হামলা, মসজিদ অবরোধ, বিক্ষোভ, ধর্মীয় সমাবেশ বাতিল-এসব ঘটনা বারবার ঘটেছে। যদি রাষ্ট্র তাদের ‘অমুসলিম’ হিসেবে ঘোষণার কথা বিবেচনা করে, তবে এর সাথে সাথে আরও প্রশ্ন তৈরি হবে— তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে? ধর্মীয় উদ্যাপন ও উপাসনার স্বাধীনতা কীভাবে বজায় থাকবে? সামাজিক বর্জন কি বাড়বে না? বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি? একটি নাগরিক রাষ্ট্রের মূল প্রতিশ্রুতি হলো—সব নাগরিককে সমান সুরক্ষা দেয়া, তাদের বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং আইনসম্মত স্বাধীনতাকে রক্ষা করা। ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু রাষ্ট্রের ভূমিকা নিরপেক্ষ- কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈরী আইন প্রণয়ন রাষ্ট্রের প্রধান নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বাংলাদেশ একটি ধর্মপ্রাণ সমাজ। ধর্মীয় ইস্যুতে আবেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এই আবেগকে রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে ব্যবহার করে, তাতে সামাজিক বিভেদ প্রায়ই আরও তীব্র হয়। কাদিয়ানি ইস্যুটি অনেক ক্ষেত্রেই একটি পরীক্ষার পর্যায়ে নিয়ে আসে-আমরা কি ধর্মীয় সহনশীলতার পথ বেছে নেব, নাকি বিভেদ ও বৈরিতার পথ?

যে কোনো সমপ্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা ঘৃণা ছড়ানো-এটি শুধু সংখ্যালঘুদের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্যই হুমকি। কারণ ঘৃণার রাজনীতি একবার শুরু হলে কোন গোষ্ঠীই এর বাইরে থাকে না।

সঠিক পথ কোনটি

১. ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ইস্যুকে পৃথক রাখা জরুরি। ধর্মীয় মতবাদের বিচার আলেমসমাজের কাজ; রাষ্ট্রের কাজ নয়।

২. সংসদীয় আলোচনা সম্ভব-কিন্তু বৈরী আইন প্রণয়ন নয়। যেকোনো বিষয়েই সংসদে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু সংবিধান ও নাগরিক অধিকারের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়।

৩. সমাজে সমপ্রীতি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে রাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। যে কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা ঘৃণা বন্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে।

৪. রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় আবেগকে উত্তেজিত করে ভোট আদায় গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর, সমাজের জন্য আরও বেশি ক্ষতিকর।

৫. জনগণকেও ধর্মীয় বৈচিত্র্য গ্রহণে পরিপক্বতা দেখাতে হবে। ভিন্নমত থাকা মানেই শত্রুতা নয়। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই একটি সভ্য সমাজের মাপকাঠি।

কাদিয়ানিদের ‘অমুসলিম’ ঘোষণা করা হবে কি হবে না-এ প্রশ্ন ধর্মীয় আবেগের চেয়ে অনেক বেশি রাষ্ট্রীয় নীতির প্রশ্ন। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ইস্যুটিকে দায়িত্বশীলভাবে দেখা, ভোট-রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করা। ধর্মতাত্ত্বিক মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই মতভেদ যদি বিভাজন, সহিংসতা ও বৈরি রাজনীতিতে পরিণত হয়-তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হবে বাংলাদেশের সামাজিক সম্প্রীতির।

এই ইস্যুতে রাষ্ট্রকে এমন অবস্থান নিতে হবে যা সংবিধান, নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সামগ্রিক সামাজিক স্থিতি-সবকিছুকে সমানভাবে রক্ষা করে। দক্ষিণ এশিয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের দেখিয়েছে-ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ বিভাজনকে বাড়ায়, ঘৃণাকে উসকে দেয়, এবং সমাজকে আরও অস্থির করে তোলে।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে-অর্থনীতিতে, শিক্ষায়, প্রযুক্তিতে, উন্নয়নে। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দায়িত্বশীল রাজনীতি এবং সহনশীল সমাজ। কাদিয়ানি প্রশ্নটিকে তাই রাজনৈতিক উত্তাপের হাতিয়ার নয়, বরং সংবেদনশীল রাষ্ট্রবিষয়ক একটি আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা-এটাই হবে একটি পরিণত ও গণতান্ত্রিক জাতির পরিচয়।

লেখক : কলামিস্ট ও সাংবাদিক

ইএইচ

Link copied!