আমার সংবাদ ডেস্ক
জুলাই ৭, ২০২৬, ১২:১৭ এএম
সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রশাসনকে সরাসরি দায়ী করেছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড চেষ্টার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে এনসিপির পদযাত্রাপরবর্তী সমাবেশ চলাকালে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরণের সময় ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। আকস্মিক এই হামলায় নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা ছোটাছুটি শুরু করেন। ওই সময় নাবিলা তাসনিদ মাইকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। মঞ্চে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি এবং মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার পর রাত সোয়া ১০টার দিকে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলাম বলেন, “আজকের এই বোমা বিস্ফোরণ স্পষ্টভাবে প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে। সমাবেশের সময় কেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? স্পষ্টতই আমাদের খুন করার পরিকল্পনা থেকেই এখানে এই হামলা চালানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আগস্টে এই সাভার থেকেই আমাদের পূর্ববর্তী কর্মসূচি সমাপ্ত করেছিলাম। আজ তারা বিদ্যুৎ বন্ধ করে এখানে বোমা ফুটিয়েছে। আমরা মনে করি, প্রশাসনের সহায়তায় আমাদের এই পদযাত্রাকে নস্যাৎ করতে এই কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে। বর্তমান সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই—এর জবাব দিতে হবে। কেন আপনারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেন না, তার কৈফিয়ত দিতে হবে।”
হামলা সত্ত্বেও এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা হুঁশিয়ার থাকুন। আমরা জুলাইয়ের আন্দোলন চালিয়ে যাব। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করব, ফ্যাসিবাদের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করব, সীমান্ত সুরক্ষা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবি সফলভাবে আদায় করব।”
পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই সভার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ প্রশাসন ও ডিসি কেন বিদ্যুৎ বন্ধের বিষয়টি তদারকি করলেন না? কীভাবে এই নাশকতা ঘটল? এই এলাকার এমপি কী ভূমিকা পালন করছেন? তিনি কেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেন না?”
তিনি আরও জানান, হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি অনতিবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে স্থানীয় প্রশাসন এবং এমপিকে এর জন্য জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে।
জেএইচআর