ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

কুরআনের নির্দেশেই জীবনের পূর্ণতা ও মুক্তির পথ

আমার সংবাদ ধর্ম ডেস্ক

আমার সংবাদ ধর্ম ডেস্ক

অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ১০:৩৮ এএম

কুরআনের নির্দেশেই জীবনের পূর্ণতা ও মুক্তির পথ

মানবজীবনের প্রকৃত পথনির্দেশ, ন্যায় ও শান্তির একমাত্র উৎস হলো আল্লাহর কিতাব—পবিত্র কুরআন। এটি কেবল মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন দিশারি। আল্লাহ তাআলা কুরআনের সূচনাতেই ঘোষণা করেছেন, এই সেই কিতাব, এতে কোনো সন্দেহ নেই; এটি মুত্তাকীদের জন্য পথনির্দেশ। (সূরা আল-বাকারা: ২)

কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে মানবজীবনকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনতে, অন্যায় থেকে ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে ব্যক্তি, যে কুরআন শেখে এবং' অন্যকে শেখায়। (বুখারী)

কুরআন কেবল পাঠ করার জন্য নয়, এর প্রতিটি আয়াত আমাদের চিন্তা, আচরণ ও সামাজিক জীবনের জন্য দিকনির্দেশনা দেয়। কুরআনের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব স্তরে ন্যায়বিচার ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়।

কুরআনের অনুসরণ মানে শুধু মুখে স্বীকার করা নয়, বরং বাস্তব জীবনে তা বাস্তবায়ন করা। অর্থাৎ, কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী চলা, হারাম-হালাল মানা, নৈতিকতা ও সততা বজায় রাখা, অন্যায় থেকে বিরত থাকা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা যা তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, তা অনুসরণ করো এবং তার বাইরে অন্য কোনো অভিভাবককে অনুসরণ করো না। (সূরা আল-আ‘রাফ: ৩)

আজ আমরা কুরআনকে আলমারিতে সাজিয়ে রাখি, কেবল তেলাওয়াত করি, কিন্তু এর অর্থ, বার্তা ও বিধানকে জীবনব্যবস্থায় প্রয়োগ করি না। অথচ কুরআনের অনুসরণের মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের আচরণ ও সমাজকে ইসলামী মূল্যবোধে গঠন করা।

যে ব্যক্তি কুরআনকে জীবনের দিশারি বানায়, তার অন্তর শান্ত হয়, পথ সোজা হয়, চরিত্র হয় নির্মল। কুরআন মানুষকে নম্রতা, দয়া, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সততা ও দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত করে। কুরআনের আলোয় সমাজে জুলুম, দুর্নীতি ও অন্যায়ের স্থান থাকে না।

আল্লাহ বলেন, আমি কুরআনে এমন কিছুই অবহেলা করিনি।' (সূরা আল-আন‘আম: ৩৮) অর্থাৎ, জীবনের প্রতিটি বিষয়ে কুরআন কোনো না কোনোভাবে পথ দেখিয়েছে-ব্যবসা, রাজনীতি, পারিবারিক জীবন, মানবসম্পর্ক-সব ক্ষেত্রেই কুরআনের নির্দেশ রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন কুরআনের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। আয়িশা (রা.) কে যখন জিজ্ঞাসা করা হলো, নবীজির চরিত্র কেমন ছিল, তিনি বলেছিলেন, তার চরিত্রই ছিল কুরআন। (মুসলিম)

নবীজী যেমন নামাজে, রোজায়, ব্যবসায়, আচরণে কুরআনের শিক্ষা বাস্তবায়ন করেছেন, তেমনি সাহাবিরাও নিজেদের জীবন কুরআনের আলোয় সাজিয়েছেন। তাই তাঁরা পৃথিবীর সর্বাধিক সফল জাতিতে পরিণত হয়েছিলেন।

আজ আমরা যদি সেই কুরআনের শিক্ষা ফিরিয়ে আনতে পারি—তাহলে আমাদের সমাজ থেকেও অন্ধকার, অবিচার ও অশান্তি দূর হবে ইনশাআল্লাহ।

কুরআনের অবমাননা মানে শুধু প্রকাশ্যে অপমান নয়, বরং এর নির্দেশ অমান্য করাও একধরনের অবমাননা। যারা কুরআন পড়ে কিন্তু তার শিক্ষা অনুসরণ করে না, তারা আল্লাহর দৃষ্টিতে পরিত্যক্ত। কুরআনেই নবীজীর আর্তনাদ এসেছে, হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমার জাতি এই কুরআনকে পরিত্যাগ করেছে। (সূরা আল-ফুরকান: ৩০)

এই আয়াত আজও আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। আমরা যদি কুরআনের নির্দেশনা ভুলে যাই, তাহলে আমাদের জীবনে দুঃখ, অব্যবস্থা ও অশান্তি ছেয়ে যাবে।

কুরআন মানুষকে বিভক্ত নয়, ঐক্যবদ্ধ করে। এতে বলা হয়েছে, তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিভক্ত হয়ো না। (সূরা আলে ইমরান: ১০৩)

আজ মুসলিম উম্মাহর বিভাজনের অন্যতম কারণ হলো কুরআনের প্রকৃত অনুসরণ না করা। যদি আমরা আল্লাহর কিতাবকে জীবনের কেন্দ্রে রাখি, তাহলে জাতিগত, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিভেদ দূর হয়ে ইসলামী ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।

কেউ কেউ মনে করেন, কুরআনের শিক্ষা ১৪০০ বছর আগের সমাজের জন্য ছিল। আসলে এটি চিরন্তন ও সর্বজনীন বিধান। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, রাষ্ট্রনীতি-যে ক্ষেত্রেই হোক, কুরআনের নীতি আজও সমান প্রাসঙ্গিক। এতে আছে জ্ঞানার্জনের আহ্বান, চিন্তা ও গবেষণার প্রেরণা, পরিবেশ সংরক্ষণ, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পূর্ণ দিকনির্দেশনা।

একজন মানুষ যদি কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে, তার হৃদয়ে ঈমান দৃঢ় হয়, লোভ-হিংসা-অন্যায় দূর হয়। সমাজে নৈতিকতা ফিরে আসে। কুরআন মানুষকে মানবিক হতে শেখায়-অসহায়ের সাহায্য করা, পিতা-মাতার প্রতি সম্মান, প্রতিবেশীর প্রতি দয়া, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা।

এই মূল্যবোধগুলো যদি আমাদের পরিবার ও সমাজে বাস্তবায়িত হয়, তবে অপরাধ, দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে কমে যাবে।

কুরআনের অনুসরণ মানে কেবল নামাজে আয়াত পাঠ করা নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর বাণীকে প্রাধান্য দেওয়া। এটি এক নিখুঁত জীবনবিধান, যা মানুষকে সুখ, শান্তি ও মুক্তির পথে পরিচালিত করে।

আমাদের উচিত-প্রতিদিন কুরআন তেলাওয়াত করা, তার অর্থ বুঝা, তা নিয়ে চিন্তা করা, এবং জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা। তখনই আমরা প্রকৃত মুসলমান, প্রকৃত সফল মানুষ হতে পারব। যে কুরআন অনুসারে চলবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন না এবং তার জীবন কখনো সংকটে পড়বে না।'(সূরা তাহা: ১২৩)

আসুন, আমরা সবাই আল্লাহর কুরআনের অনুসরণে জীবন সাজাই-নিজের জন্য, সমাজের জন্য, এবং আখেরাতের মুক্তির জন্য।

জেএইচআর

Link copied!