ধর্ম ডেস্ক
এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
বর্তমান সময়ে ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোর মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব ও ‘কবুল’ বলা নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা যাচ্ছে। অনলাইনে এক পক্ষ প্রস্তাব দিয়ে অন্য পক্ষ ‘কবুল’ লিখে পাঠালেই কি বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায় এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।
ইসলামি শরিয়াহ ও ফিকহ অনুযায়ী এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু লিখিতভাবে মেসেজের মাধ্যমে ইজাব-কবুল আদান-প্রদান করে বিয়ে সম্পন্ন হয় না। এটি শরিয়াহসম্মত বিয়ের আকদ হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে না।
শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো বর-কনে বা তাদের অভিভাবক/প্রতিনিধির একই মজলিসে উপস্থিত থাকা এবং সরাসরি ইজাব-কবুল সম্পন্ন করা। অনলাইন বার্তার মাধ্যমে এই শারীরিক উপস্থিতির শর্ত পূরণ হয় না বলে তা বৈধ বিয়ে হিসেবে গণ্য হয় না।
এছাড়া বিয়ের আরেকটি অপরিহার্য শর্ত হলো সাক্ষী। ইসলামী বিধান অনুযায়ী অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ, অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হতে হয়। সাক্ষী ছাড়া বিয়ে ইসলামে বৈধ নয়।
এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে, “অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে হয় না।”
তবে কোনো মজলিসে যদি প্রকাশ্যে অনেকের সামনে ইজাব-কবুল সম্পন্ন হয় এবং উপস্থিতরা তা শুনে থাকেন, তাহলে তারাই সাক্ষী হিসেবে গণ্য হন।
ফলে বোঝা যায়, অনলাইনে ‘কবুল’ লেখা কেবল একটি সম্মতির প্রকাশ হতে পারে, কিন্তু এটি ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ ও বৈধ বিয়ের আকদ নয়। বৈধ বিয়ের জন্য সরাসরি উপস্থিতি ও সাক্ষীর শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
এএন