ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Amar Sangbad

ইনস্টাগ্রাম

Amar Sangbad

এক্স

Amar Sangbad


লিংকডইন

Amar Sangbad

পিন্টারেস্ট

Amar Sangbad

গুগল নিউজ

Amar Sangbad


হোয়াটস অ্যাপ

Amar Sangbad

টেলিগ্রাম

Amar Sangbad

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Amar Sangbad


ফিড

Amar Sangbad

ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ: মুমিনের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ ও জান্নাতের চাবিকাঠি

ধর্ম ডেস্ক

ধর্ম ডেস্ক

মে ৮, ২০২৬, ০৭:৫২ এএম

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ: মুমিনের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ ও জান্নাতের চাবিকাঠি

ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে প্রবেশের প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো ‘কালিমায়ে তায়্যিবা’ বা তাওহীদের ঘোষণা। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’- অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবহ বাক্যটি কেবল ইসলামি বিশ্বাসের মূল ভিত্তিই নয়, বরং এটি সমগ্র মহাবিশ্বের অস্তিত্বের সারকথা। মহান আল্লাহর একত্ববাদের এই ঘোষণা একজন মানুষের জীবনকে আমূল বদলে দেয় এবং তাকে পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করে আলোর পথে নিয়ে আসে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অসংখ্য হাদিস এবং ওলামায়ে কেরামের মতে, এই কালিমা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ যিকির এবং পরকালীন মুক্তির একমাত্র সনদ। সম্প্রতি ধর্মতত্ত্ববিদ এবং ইসলামি গবেষকগণ এই কালিমার অশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে একে ‘মুমিনের রক্ষাকবচ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

জান্নাতের চাবিকাঠি ও পরকালীন নিশ্চয়তা

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হলো জান্নাতের চাবিকাঠি। হাদিস শরিফে এসেছে, যে ব্যক্তি খাঁটি অন্তরে এবং একনিষ্ঠভাবে এই কালিমা পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। এটি কেবল মুখের উচ্চারণ নয়, বরং অন্তরের বিশ্বাস ও কর্মের প্রতিফলন।

বিশেষ করে মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে যদি কোনো ব্যক্তির শেষ কথা হয় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, তবে তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি মুমিনের মৃত্যুকালে ঈমানের সাথে বিদায় নেওয়ার চূড়ান্ত নিশ্চয়তা প্রদান করে।

সর্বোত্তম যিকির ও ঈমানের শ্রেষ্ঠ শাখা

হাদিস অনুযায়ী, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হলো সর্বোত্তম যিকির। ঈমানের ৭০টিরও বেশি শাখা রয়েছে, যার মধ্যে লজ্জিত হওয়া থেকে শুরু করে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত। তবে এই দীর্ঘ তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে তাওহীদের এই ঘোষণা।

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللّٰهِ

নিয়মিত এই কালিমা পাঠ করলে অন্তরের কলুষতা ও মরিচা দূর হয়। যেমন লোহায় পানি লাগলে মরিচা ধরে, তেমনি মানুষের অন্তরেও গুনাহের কারণে অন্ধকার নেমে আসে। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর জিকির সেই অন্ধকার দূর করে আত্মাকে পবিত্র ও উজ্জ্বল করে তোলে।

আমলের পাল্লায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী ওজন

কিয়ামতের দিন যখন মানুষের নেকি ও বদির হিসাব করা হবে, তখন এই কালিমার ওজন হবে বিস্ময়কর। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যদি আসমান ও জমিনের সমস্ত সৃষ্টিকে এক পাল্লায় রাখা হয় এবং অপর পাল্লায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ রাখা হয়, তবে এই কালিমার পাল্লাই ভারী হবে।

এটি প্রমাণ করে যে, সৃষ্টির সমস্ত বিশালতার চেয়েও স্রষ্টার একত্ববাদের ঘোষণার মূল্য আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। এটি একজন মুমিনের আমলনামাকে এতটাই সমৃদ্ধ করে যে, তা পাহাড়সম গুনাহকেও ছাপিয়ে যেতে পারে।

শয়তান ও অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা

পৃথিবীর প্রতিটি পদক্ষেপে শয়তান মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করে। এই ধোঁকা ও কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করে। যারা নিয়মিত এই যিকিরের মধ্যে থাকে, শয়তান তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। এটি পাঠকারীর চারপাশে এক আধ্যাত্মিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে, যা তাকে পাপাচার ও অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

ইসলামি শরীয়তে এই কালিমার সাথে কিছু শব্দ যোগ করে একটি বিশেষ দোয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদ ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। 

অন্তরের প্রশান্তি ও চারিত্রিক উৎকর্ষ

বর্তমান পৃথিবীতে মানুষ যখন মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতায় ভুগছে, তখন এই কালিমার যিকির হতে পারে পরম ঔষধ। যখন একজন বান্দা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই এবং সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ কেবল তাঁরই হাতে, তখন তার মন থেকে ভয়, হতাশা ও পরনির্ভরশীলতা দূর হয়ে যায়। এই বিশ্বাস মানুষকে সাহসী করে তোলে এবং কেবল আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) করতে শেখায়।

কালিমায়ে তায়্যিবা মানুষের চরিত্রকে সংশোধন করে। কারণ যে ব্যক্তি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে আল্লাহ তাকে দেখছেন, সে কখনো মিথ্যা বলতে, অন্যের হক নষ্ট করতে বা অন্যায় কাজে লিপ্ত হতে পারে না।

জীবনের প্রতিটি ক্ষণে তাওহীদের চর্চা

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কেবল একটি বাক্য নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধানের ঘোষণা। মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো এই কালিমার মর্মার্থ অনুধাবন করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন ঘটানো। এটি আমাদের অন্তরের ময়লা পরিষ্কার করে, আমলের পাল্লা ভারী করে এবং চূড়ান্তভাবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের পথ সুগম করে।

তাই আসুন, দিনের অন্তত কিছু সময় আমরা এই শ্রেষ্ঠ যিকিরের জন্য বরাদ্দ রাখি এবং নিজেদের জীবনকে আধ্যাত্মিক আলোয় আলোকিত করি। নিশ্চয়ই এই কালিমার মাঝেই নিহিত রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতের প্রকৃত কল্যাণ।

তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, জামে আত-তিরমিজি, সুনানে ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ, রিয়াদুস সালিহীন।

এএন

Link copied!