আবু ছালেহ আতিফ
মার্চ ৪, ২০২৩, ০৩:২০ পিএম
পুরোনো সেই জৌলুশ হারাচ্ছে কবি সাহিত্যিকদের স্মৃতি বিজড়িত বিউটি বোডিং। বাঙালির শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাস জড়িত এবং গুণী মানুষদের আড্ডার অন্যতম কেন্দ্র ছিলো হলুদ রঙের দোতলা পুরাতন এ বাড়িটি। ছুটির দিনেও এখন তেমন কোনো দর্শনার্থীদের ভীড় দেখা যায় না এখানে । তবে পুরান ঢাকার কোলাহলের ভিতরে মুক্ত বাতাসে, নির্জনতার ছায়া মিলে এখানে আসলে।
শুক্রবার (৩ মার্চ) বিকেলে পুরান ঢাকার বাংলাবাজার ১নং শ্রীশদাস লেনে অবস্থিত বিউটি বোডিং ঘুরে এ দৃশ্য দেখা যায়।
ছুটির দিনে ও তেমন কেউকে দেখা যাচ্ছে না এখানে। হাতে গোনা কয়েকজন দর্শনার্থীরা বসে আড্ডা দিচ্ছেন, ছবি তুলছেন শুধু।
গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর থেকে বিউটি বোর্ডিংয়ে আসছেন আরফান ও মিম দম্পতি। তারা বলছেন, প্রায়ই আসি এখানে। মুলত; পুরান ঢাকায় মুক্ত বাতাসের খুবই অভাব। এজন্য এখানে আসলে অন্তত একটু নির্জনতার দেখা মিলে।মন খুলে একটু কথা বলা যায়।
এ দম্পতি আরও বলছেন, বিউটি বোর্ডিং আমাদের ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে। এখানের ইতিহাস তাই বলে।যদিও সেই আগের মত কবি সাহিত্যিকদের আড্ডা মিলেনা এখানে। তবুও জায়গাটি তেমনই একটা অনুভূতির ছাপ রেখে চলছে উৎসুক দর্শনার্থীদের জন্য।
বিউটি বোডিংয়ের বর্তমান অবস্থা ও দর্শনার্থী হারানোর কারণ জানতে চাইলে সত্ত্বাধিকারী প্রয়াত তারক সাহার স্ত্রী বিপ্লবী সাহা আমার সংবাদকে বলেন, আসলে এখনতো মানুষ সেই আগের ধারায় চিন্তা করে না। এখন সময় পেলেও তারা তখন প্রযুক্তি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এখন মানুষ অনেক কর্ম ব্যস্তও বেশি। তাই হয়তো আমাদের বিউটি বোডিংয়ে ভীড় দেখা যায় না।
এখন কোনো কবি সাহিত্যিকদের আড্ডা মিলে কি না জানতে চাইলে বিপ্লবী সাহা বলেন, এখনতো সেই পুরোনো কবি সাহিত্যিকরা বেঁচে নেই। নতুন যারা আছে, তারা এখন সেভাবে আসে না বললেই চলে।
বিউটি বোডিংয়ে কি কি সুবিধা রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, খুব কম টাকায় আবাসিকে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পুরো দিনের জন্য মাত্র `চারশো` টাকা দিয়ে এখানে নিরাপদ ভাবে থাকার ব্যবস্হা রয়েছে। যেখানে অন্যান্য হোটেল গুলোতে হাজার টাকা লাগে একটি রাত যাপন করতে।
তিনি বলেন, থাকার ব্যবস্থার পাশাপাশি এখানে মুখরোচক খাবারের ব্যাবস্থা রয়েছে। ভাত, ডাল, ভর্তা, সবজি, চরচরি, মুড়ি ঘন্ট, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সহ হালকা নাস্তার ব্যবস্হাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিউটি বোর্ডিং এর জন্মলগ্ন থেকেই এখানে আড্ডা দিতেন প্রথিতযশা কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাংবাদিক, চিত্রপরিচালক, নৃত্যশিল্পী, গায়ক, অভিনেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। এখানে যারা আড্ডার আসরে আসতেন এদের মধ্যে কবি শামসুর রাহমান, রণেশ দাশগুপ্ত, ফজলে লোহানী, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, শিল্পী দেবদাস চক্রবর্তী, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, ব্রজেন দাস, হামিদুর রহমান প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।