নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ফাতেমা আক্তার লিলি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাব। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজন মিলন মল্লিক। একতরফা প্রেম ও পালানোর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এবং লিলি তাকে ‘সামাজিক মর্যাদার’ কথা মনে করিয়ে দেওয়ায় চরম ক্ষোভ থেকে এই খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে ঘাতক মিলন।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঘাতক মিলন মল্লিক পলাতক ছিল। র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোরে বাগেরহাট সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৩ জানায়, প্রযুক্তির সহায়তায় ও স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মিলন জানায়, নিহত লিলির পরিবারের মালিকানাধীন রেস্তোরাঁয় কাজ করার সুবাদে লিলির সঙ্গে তার এক ধরনের সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তবে মিলন এই সম্পর্ককে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে। সে প্রায়ই আকার-ইঙ্গিতে লিলিকে প্রেমের প্রস্তাব দিত। ঘটনার দিন গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে লিলি বাসায় একা থাকার সুযোগ নেয় মিলন।
সে লিলিকে প্রস্তাব দেয় যে, তারা দুজন যেন পালিয়ে বিয়ে করে। কিন্তু লিলি এই অনৈতিক ও অস্বাভাবিক প্রস্তাবে তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করে। লিলি তাকে মনে করিয়ে দেয় যে, সে একজন রেস্তোরাঁ মালিকের মেয়ে হয়ে সামান্য এক কর্মচারীর সঙ্গে পালিয়ে যেতে পারে না। লিলি তাকে ধমক দিয়ে বলে, বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে এসো না। নিজের সামাজিক অবস্থান নিয়ে এমন সরাসরি মন্তব্যে মিলন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
লিলির এই প্রত্যাখ্যান ও ‘অপমানজনক’ কথা সইতে না পেরে মিলন আলমারিতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে লিলির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে লিলির গলাকেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত ওই বাসা থেকে পালিয়ে যায়। র্যাব জানায়, দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যবর্তী সময়ে এই বীভৎস হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। লিলি দক্ষিণ বনশ্রীর একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
র্যাব-৩ এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার মিলন মল্লিককে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠানো হবে। লিলির পরিবার থেকে যখন গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তখনই মিলন পরিকল্পনা করেছিল লিলিকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু লিলির বলিষ্ঠ প্রতিবাদ তার সেই কাল্পনিক পরিকল্পনা ধূলিসাৎ করে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত একটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনায় রূপ নেয়।
মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের মেয়ে লিলির এমন অকাল মৃত্যুতে বনশ্রী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একটি সাধারণ হোটেল কর্মচারীর এমন ধৃষ্টতা ও নিষ্ঠুরতা স্তম্ভিত করেছে সাধারণ মানুষকে। লিলির বাবা-মা তাদের আদরের সন্তানের এই খুনের বিচার চেয়ে ঘাতক মিলনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
লিলি হত্যাকাণ্ড সমাজকে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, সামাজিক নৈতিকতা ও নিরাপত্তার অভাব কিশোরীদের জীবনকে কতটা ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই ধরনের অপরাধ প্রবণতা রুখে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
এএন