ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
জুলাই ১১, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
দীর্ঘদিন কচুরিপানায় ঢেকে থাকা ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাঁচামাটিয়া নদী পরিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণের পর নদীপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমেছে। স্থানীয়দের দাবি, এখন নদী খনন করে এর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ ব্রিজ থেকে পশ্চিমে থানা পর্যন্ত নদীর বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন কচুরিপানায় ঢেকে ছিল। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মশা, সাপ, বিচ্ছু ও বিভিন্ন বিষাক্ত কীটপতঙ্গের উপদ্রব বেড়ে যায়। নদীতীরবর্তী দেড় হাজারের বেশি পরিবার এই কারণে দীর্ঘদিন ভোগান্তিতে ছিল। কচুরিপানা অপসারণের পর মশার উপদ্রব আগের তুলনায় কমেছে এবং নদীর পরিবেশও অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দা মঞ্জুরুল হক ভুঁইয়া বলেন, কচুরিপানা সরানোর পর বিষাক্ত পোকামাকড় ও সরীসৃপের উৎপাত কমেছে। এখন নদীটি দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে।
আরেক বাসিন্দা বাবুল ভুঁইয়া বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে নদীটি খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।
একসময় কাঁচামাটিয়া নদী এই অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও নৌ-যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। পালতোলা নৌকায় ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহন করা হতো। জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কৃষকেরা নদীর পানি ব্যবহার করে বোরো ধান ও বিভিন্ন সবজির আবাদ করতেন। কিন্তু দখল, দূষণ, অবৈধ স্থাপনা, বর্জ্য ফেলা এবং নাব্যতা সংকটের কারণে নদীটি ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক রূপ হারায়।
নদী পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপিসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। গত ৭ মে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন করে নদী দখলমুক্ত করা, বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং খননের দাবি জানায়। এরপর গত ১২ জুন কাঁচামাটিয়া নদীর কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু।
সেই সময় তিনি বলেন, কাঁচামাটিয়া নদী এই অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। সম্মিলিত উদ্যোগে নদীটির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। পিএফজি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, শুধু কচুরিপানা অপসারণ করলেই হবে না। নদী রক্ষায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নিয়মিত খনন, বর্জ্য ফেলা বন্ধ, তীর সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, জাতীয় সংসদ সদস্যের সম্মতিক্রমে উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) তহবিলের অর্থায়নে জনস্বার্থে কচুরিপানা অপসারণ করা হয়েছে। নদী খননের বিষয়টি সংসদ সদস্যকে জানানো হলে তিনি এই বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
জেএইচআর